«

»

মার্চ ১১

নারী অধিকার

আজ মার্চের আট তারিখ। সারা বিশ্বে নারী অধিকারে ডামাডোল বাজচ্ছে। বিশ্ব নারী দিবস। আবুল সাহেবের অফিসেও অনেক প্রোগ্রাম থ্রো করা হয়েছে। সকালে সরকারের নারী র‍্যালিতে যোগদান সহ আলোচনা সভা আছে। তারউপর আছে সন্ধ্যায় একটা বিয়ের দাওয়াত। আবুল সাহেবের মাথায় ঢুকতেছে না এই বিয়েটা এমন দিনেই কেন সেট করা হলো। বিয়েটা আবার তাদেরই অফিসের এক কলিগের মেয়ের বিয়ে। না গিয়ে উপায় নাই। অফিসের সবাইকে দাওয়াত করেছে মহরম সাহেব। তার একমাত্র আদরের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। ছেলে ইন্জিনিয়ার দুবাইতে চাকরী করে। আবুল সাহেব বেশ ব্যাস্ত আজ বসের সাথে নারী দিবসের প্রোগ্রামগুলো সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য। তার সাথে আছেন তারই সহকর্মী ড.রমা। সকালের র‍্যালি শেষ করে অফিসে ফিরতে ফিরতে প্রায় বারটা বেজে গেছে। বিকেল তিনটায় নিজ অফিস চত্বরে আছে আলোচনা সভা। এই সভায় আবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আসবেন প্রধান অতিথী হিসেবে। মন্ত্রীদের পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীরা আবার টিভি ক্যামেরা ছাড়া কোথাও যেতে চান না।

আবুল সাহেব একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর এক্সেকিউটিভ অফিসার। তার বস নেদারল্যান্ডের ডাচ নাগরিক সাদা মিঃ শ্ন্যাইডার। আবুল সাহেবের বাসা উত্তরাতেই। অফিস বনানীতে। সকালের নারী র‍্যালিতে যোগদান করতে গিয়ে আবুল সাহেব বেশ অসস্তিতে ভুগেছেন। তার চারপাশে তরুনীদের ভির। বসের একপাশে আবুল সাহেব আর অন্য পাশে ডঃ রমা। আশে পাশের নারীদের নানা ধরনের কথা কানে আসছে আবার তাদের অনুরোধে অনেকের ছবিও তুলে দিতে হচ্ছে। তরুনী নারীদের পাশে হাঁটতে আবুল সাহেবের ভালই লাগছে। পঁচিশ বছর আগে শায়লার সাথে এভাবে পাশাপাশি হাঁটতো নদীর পার ধরে। কতকথা যে হতো তাদের মধ্যে। এখন আর হয় না। এখন নিরবে বসে শুধু ফেসবুকে দু চারটা স্ট্যাটাস দিয়েই খালাস। র‍্যালিতে মানুষের ভিরের ঠেলায় তরুনীদের ওরনা এদিক সেদিক পড়ে যাচ্ছে। সেটা আবার ঠিক করা নিয়েও ব্যাস্ত তারা। একদিকের তুরুনীদের থেকে চোখ সরিয়ে অন্য দিকে নিলে সেখানেও একই চিত্র। বেশ কিছুক্ষন আবুল সাহেব তার চোখ দুটোকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত রনে ক্ষ্যান্ত দিলেন। নিজে নিজেই আক্ষেপ করলেন,

“এভাবে হয় না। ধর্ম টর্ম সব গেল।”

আবুল সাহেব বয়সে প্রায় পঞ্চান্ন বছর হবেন। এবয়সে অনেক পুরুষেরই একটু চোখের সমস্যা হয়। মাথা ভর্তি কালো সাদা চুল। সাদা চুলের সংখ্যাই বেশী। কিন্তু রং দিয়ে চুলগুলোতে কৃত্রিম যৌবনের ছোপ দেয়া আছে।

 

বিকেলের আলোচনা সভা শেষ হতে সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এল। অনুষ্ঠান পর্ব শেষ করে আবুল সাহেব বাসায় গেলেন। শাওয়ার নিয়ে বিয়েতে যাবার উপযোগী ভাল ড্রেস পড়ে কলিগের মেয়ের বিয়েতে গেলেন উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে। কমিউনিটি সেন্টার অতিথীদের আগমন চলছে। আবুল সাহেব তার কলিগ মহরম সাহেবের সাথে দেখা করে একটা সোফার কোনায় বসে আছেন। অফিসের অন্যরা এখনো আসেনি। একটু দেরী হবে হয়তো। বরের জন্য যে ষ্টেজ সাজানো হয়েছে তারই সামনে পাতানো একটা সোফায় আবুল সাহেব বসে আছেন একা একা। মাঝে মধ্যে স্মার্ট ফোনে ফেসবুক চেক করছে। নিজের কয়টা সেলফি তুলে ফেল্লো এরই ফাঁকে। বরপক্ষ এখনো আসেনি। তাই স্টেজের কাছে ভির কম। মহরম সাহেব একটা কোকের বোতল আর একটা গ্লাস আবুল সাহেবের সামনে একটা ছোট টেবিলে রেখে বল্লেন,

“স্যার! আমি একটু ব্যাস্ত আছি। যদি কিছু মনে না করেন আপনি একটু কোক পান করুন এখানে। আমি মাঝে মাঝে এসে দেখা করে যাব”।

“না! না! আমি বেশ আছি। আপনি টেনশন করবেন না। আপনি যান ভেতরে”। মহরম সাহেব এক গাল হেসে বিদায় নিলেন। কিছুক্ষন পর ডঃ রমা এসে আবুল সাহেবের সাথে বসলেন। ঘন্টা দুই পর বরপক্ষ আসলো। সবাই বেশ ব্যাস্ত হয়ে গেল বর আসার সাথে সাথে। আবুল সাহেবের সোফায় এখন আর ফাঁকা জায়গা নাই। বর পক্ষের আত্নীয়দের সাথে আবুল সাহেব ও রমাকে পরিচয় করে দিলেন মহরম সাহেব। কিছুক্ষন পর কাজী সাহেব এসে বিয়ে পড়াচ্ছেন। এক পর্যায়ে বিয়ের দেনমোহর নিয়ে বেশ হৈ চৈ বেঁধে গেল। মেয়ে পক্ষ এক কোটি টাকা দেনমোহর দাবী করেছে আর ছেলে পক্ষ সেটাকে পঞ্চাশ লক্ষ্যে আনার চেষ্টা করছে। উভয় পক্ষের মুরুব্বীদের মধ্যস্থতায় সেটা পঁচাত্তর লক্ষে স্থির হলো। সব যখন স্থির হয়ে বিয়ে পড়ানো শেষ হলো তখন রমা আবুল সাহেবকে জিজ্ঞেস করলো,

“আপনাদের বিয়েতে কত দেনমোহর ঠিক হয়েছিল”?

“কতই আর। এক লাখের নিচে”।

“এত কমে মেয়ে’র বাবা মেয়েকে বিয়ে দিল আপনার সাথে!”

“কেন দেবে না। এটা তো একটা সিম্বোলিক একটা বিষয়”।

“না! এটা মোটেই সিম্বোলিক কিছু নয়। আপনি হয়তো জানেন না। এটাই একটা মেয়ের জন্য ভগবানের দেয়া প্রকৃত নারী অধিকার যে জন্য আজকের এই দিবস পালন করলাম আমরা”। আবুল সাহেব একটু ঘাবড়ে গেলেন। নিজে মুসলিম হয়েও এধরনের কথা কখনও সে শোনেনি। অবশ্য ধর্মটা আবুল সাহেবের পৈত্রিক ভাবে পাওয়া তাই বেশী কিছু জানেনা।

“কিভাবে ডঃ রমা একটু খুলে বলুন’তো”!

“আপনাদের ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই এজন্য আমার খুব পছন্দ হয়। কারন আমি যত ধর্ম নিয়ে গবেষনা করেছি তাতে মনে হয়েছে একমাত্র ইসলাম ধর্মেই মানুষের যাবতীয় জাগতিক বিষয়গুলো র‍্যাশনালী সমাধান দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে এই দেনমোহরের বিষয়টি অন্যতম। একমাত্র ইসলামেই এই ব্যবস্থা আছে অন্য কোন ধর্মে মেয়েদের দেনমোহরের ব্যবস্থা নাই। দেনমোহরের মূল র‍্যাশনাল লজিক হচ্ছে এটা পরিশোধ করতেই হবে একজন স্বামীকে মৃত্যুর মূহুর্তে হলেও। এই দেনমোহর শুধু ম্যাটারিলিষ্টিক কিছু সম্পদ নয়। বরং এর মাধ্যমে একটি নারীকে তার নারীত্ব মর্যাদা থেকে উন্নত করতঃ স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দেবার স্বীকারোক্তি প্রদান। কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে এ দাবী থেকে অব্যাহতি না দেয় সে কোন ভাবেই স্রোষ্টার অনুগ্রহ লাভ করতে পারবে না পরকালে তা সে যত বড় কামেল মানুষই হোক। শুধু কিছু আর্থিক দেনমোহর যে কোন স্বামী পরিশোধ করতে পারে কিন্তু স্ত্রী হিসেবে মর্যাদার দেনমোহর পরিশোধ করা একজন স্বামীর জন্য বিশাল পরীক্ষা। এটা সারা জীবনেও পরিশোধযোগ্য নয়। এই দেনমোহরের মাধ্যমে একজন নারীকে যে অধিকার আপনাদের ভগবান দিয়েছেন তার চেয়ে বড় কোন অধিকার আমরা মানুষ নারীদের দিতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে। আমরা যতই নারী দিবস পালন করি না কেন। আপনাদের প্রফেটও এই বিষয়টা মৃত্যুর মুহুর্ত পর্যন্ত খুব যত্নের সাথে তার স্ত্রীদের সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। আপনি অনেক মুসলিম নারী যারা নিজেদের মুক্তমনের অধিকারী দাবী করে, ধর্ম মানে না এদের যদি জিজ্ঞেস করেন সেকুলার সোসাইটি’র মুসলিম পারিবারিক আইন থেকে এই দেনমোহরের ব্যবস্থাটা বাতিল করে দিলে কেমন হয় তখন দেখবেন কেউই আপনার সাথে একমত হবে না। অথচ দুর্ভাগ্য যে এই দেনমোহরের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের যে অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে সামাজিকভাবে তা অনেকেই বুঝে না এমনকি মুসলিম নারীরাও। আধুনিক পূঁজীবাদী মিডিয়া বানিজ্য সেকুলার সোসাইটির ড্রাম বাজাতে গিয়ে নারীদের অধিকারের গান গায় বটে কিন্তু নারী অধিকারের এই সত্য উদাহরনটা প্রকাশ করে না। এই দেনমোহরের মাধ্যমে ভগবান আসলে নারী’কে শুধু নারী নয় স্ত্রী হিসেবে একটা পরিবারে মর্যাদা উন্নত করার যে অধিকার দিয়েছেন সে অধিকার সামান্য কাগুজে সিগনেচারের চুক্তির মাধ্যমে মানুষ কোনদিন দিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। যে অধিকার ভগবান দেয় সে ধরনের অধিকার মানুষ কখনও একজন অপরজনকে দিতে পারেনি। এই সত্যটা আজ কেউ বোঝেও না জানেও না”।

“ডঃ রমা আমার খুব অবাক লাগে আপনি একজন কনজারভেটিভ হিন্দু হয়েও যত সুন্দর করে আমাদের ইসলাম ধর্মকে জানেন এত সুন্দর করে র‍্যাশনালি আমরা জানি না”।

“কারন আমি কনটেম্পোরারী ধর্ম নিয়ে গবেষনা করেছি, থিসিস করেছি। যদি সবাই তার নিজ নিজ ধর্মকে সঠিকভাবে জানতে পারতো তাহলে আজ পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে এত বৎসা হবার সুযোগ থাকতো না। কিন্ত দুর্ভাগ্য আমরা আমাদের ধর্মটাকে সমাজের সেকেন্ডারী কিছু মানুষের কাছে বর্গা দিয়ে রেখেছি। তারা যা বলছে তাই ধর্ম বলে মেনে নিচ্ছি”।

—————————————————

http://kortoa.com

১৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Kamal

    দেনমোহর না দেওয়া পর্য্ন্ত স্ত্রীর যৌনাংগ স্বামীর জন্য হালাল হয় না। (হাদিসের সূত্র মনে নাই)

    শুনে মনে হচ্ছে দেনমোহর দিয়ে স্বামী তার স্ত্রীকে কিনে নিচ্ছে?

    পুরুষগণ নারীদের ওপর প্র্তিষ্ঠিত, এটা একারনেও যে পুরুষ নারীর জন্য খরচ করে। ( কোরানের আয়াত, দেখুন: মাওলানা আবদুর রর্হীমের লেখা "সুন্নত ও বিদআত" )

    এটা কি পুরুষকে প্রতিষ্ঠিত রাখার ব্যবস্থা?

    আজকালকার মেয়েরা চাকরী-বাকরী করে স্বাবলম্বী। দেনমোহরের টাকা তাদের দরকার নাই।

    1. ১.১
      করতোয়া

      আপনি যদি আপনার আশপাশের ১০০ জন "মুসলিম" নারী যারা চাকরি করে তাদের প্রশ্ন করেন যে বিনা দেনমোহরে তারা বিয়েতে রাজী কিনা। তারা কি উত্তর দেয় তার একটা পোষ্ট এখানে দিয়েন। আমিও পুরুষ হিসেবে চাই এটা না দিয়ে বিয়ে করতে।

  2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার। 

    1. ২.১
      করতোয়া

      ধন্যবাদ জিয়া ভাই।

  3. মহিউদ্দিন

    নারী অধিকার পালন দিবসে আপনার লিখাটি খুবই সময় উপযোগী হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  আসলে আপনার বর্ণিত আবুল সাহেবদের মত কালচারাল মুসলিমদের সমস্যা হল তারা ইসলাম সম্পর্কে নিজেরা জানতে ও পড়তে চায় না। 

    আধুনিক বিশ্বে সেকুলার শিক্ষার ব্যবস্থায় গড়ে উঠা সমাজে ইসলামে নারীর বিষয়টি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হয়েছে। এর আংশিক কারণ মুসলিম সমাজে ইসলামের প্রাথমিক যুগের নারীর ভূমিকার ইতিহাস চর্চার অভাবে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এবং আংশিকভাবে কিছু মুসলমানের নারীদের প্রতি অসদাচরণ যা ইসলামের শিক্ষা প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হয়। 
    ইসলামিক ওয়ার্ল্ড ভিউ তথা তাওহীদ যদি কেউ বুঝতে পারে তার পক্ষে ইসলামে নারী অধিকার বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। ইসলামকে যখন কোন বিশেষ দেশের স্থানীয় কালচারালের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয় তখনই দেখা দেয় সমস্যা। তখন ধর্মীয় নেতাদের মাঝেও দেখা দেয় এক ধরণের গোড়ামি এবং অনমনীয় ও কঠোর মনোভাব যার ফলে তারাও তাদের পুরুষ শাসিত সমাজে দিতে চায় না মেয়েদের অধিকার। নারীরা বঞ্চিত হয় ক্ষমতায়নে (empowerment)। ওনাদের কথা হল নারীদেরকে কেবল ঘরে রাখলেই হবে ধর্ম পালন। 
    সে সুযোগে ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তি আজ অত্যন্ত কৌশলে মুসলিম উম্মাহর নারীদেরকে টার্গেট করেছে। রাসুলের সময় যেখানে মহিলারা নিজেরা ঘোড়ায় চড়েছে সেখানে আজ মেয়েরা গাড়ী চালাবার অধিকার নাই। খলিফার শাসনে যেখানে মেয়েরা বাজারের দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রক বা সরকারি কর্মকর্তা  Market Superintendent এর দায়িত্ব পালনের নজির বিদ্যমান সেখানে আজ বলা হয় ইসলামে মেয়েদের বাহিরে যাওয়াই নিষেধ করেছে। 
    ইসলামই এমন এক জীবন ব্যবস্থা, যা নারী জাতিকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। তাদেরকে সমাসীন করেছে সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি নারীদের সকল অধিকার আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সমাজের বুকে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমরা যদি ইসলাম পূর্ব আইয়্যামে জাহেলিয়াত ও ইসলাম পরবর্তী সময়ের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের দিকে তাকাই তাহলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। আমার সব চেয়ে দু:খ লাগে ইসলামে নারী অধিকার বিষয়ে বলার জন্য মুসলিম সমাজে এখনও পর্যাপ্ত মহিলা ইসলামী স্কলার নাই। মহিলাদের অধিকার ইসলামে আছে কিনা তা মহিলাদের কাছ থেকে শুনলে এ বিষয়ে প্রপাগান্ডা বন্ধ করতে যতটুকু সহায়ক ও ফলপ্রসু হবে তা পুরুষের দ্বারা হবে না।   

    1. ৩.১
      করতোয়া

      ধন্যবাদ মহিউদ্দিন ভাই। সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আসলে আমি একটা উপন্যাস লিখেছি যেটা প্রকাশনার অপেক্ষায়। সেখানে আপনার মত করেই বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছি। তবে আপনারটা আরো সুন্দর হয়েছে। ভাবছি আপনার এই মন্তব্যটা আমার বইতে কাট পেষ্ট করে দিব কিনা আপনার রেফারেন্স দিয়ে।

      1. ৩.১.১
        মহিউদ্দিন

        করতোয়া ভাই, আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। উপন্যাস লিখেছেন জেনে খুশী হলাম। চমৎকার আইডিয়া! আসলে ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ের উপর উপন্যাস, গল্প, নাটক ইত্যাদি মাধ্যমে সঠিক বার্তা  প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবী ও অত্যন্ত জরুরি। সাহিত্যের উপর আমার সে যোগ্যতা নাই। আপনি যে তা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাকে  ও যারা এ যোগ্যতা রাখেন তাদেরকে আরো বেশী বেশী এগিয়ে আসার তৌফিক দেন। আল্লাহ যেন তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা কবুল করেন। আমিন।
        তবে আপনার উপন্যাসটা ধারাবাহিক আকারে সদালাপে দিলে আমরাও পড়তে পারব।

  4. Kamal

    আপনারা এখানে নিজেরাই লিখছেন এবং নিজেরাই নিজেদের পিঠ চাপরাচ্ছেন। ভাল তো, ভাল না?

    আমি গতকাল এখানে সবার আগে একটা কমেন্ট করলাম সেটা পাবলিশ করলেন না। ভিন্ন মত প্রকাশ করতে লজ্জা পান? অথচ ওখানে আমি খারাপ কিছু বলিনি যৌক্তিক একটা প্রশ্ন করেছিলাম মাত্র।

    যাক, এবারে সোজাসুজি একটা কথা জিজ্ঞেস করি:

    বিয়ে করতে গেলে পুরুষকে দেনমোহর দিতে হবে কেন? এটা কি পুরুষের যৌতুক?

    1. ৪.১
      করতোয়া

      আপনি'তো ভাই আপনার ভিন্নমত প্রকাশের শিষ্টাচার খর্ব করেছেন আগের মন্তব্যে। আমি সময়মত আপনার মন্তব্য দেখিনি তাই অনুমোদন দেয়া হয়নি। আমি কারোর ভিন্নমতের বিপক্ষে থাকি না। সবার মতকেই আমি মূল্য দেই। কোনটার দাম কম দেই কোনটার ন্যায্য দাম দেই। এই পার্থক্য। আপনার মন্তব্য যেটা করেছেন সেটার উত্তর আমার পোষ্টের মধ্যেই আছে ভাল করে দেখতে পারেন।

      যাক, এবারে সোজাসুজি একটা কথা জিজ্ঞেস করি:

      বিয়ে করতে গেলে পুরুষকে দেনমোহর দিতে হবে কেন? এটা কি পুরুষের যৌতুক?

      আপনার এই প্রশ্নে আপনাকে অনুরোধ করবো আগে ভাল করে জানেন "দেনমোহর" আর "যৌতুক" এর মধ্যে পার্থক্য কি। তার সাথে জানতে হবে "ন্যায্য অধিকার" আর "সম অধিকার" এই দুই এর মধ্যে পার্থক্য কি। কারন "দেনমোহর" আর "যৌতুক" এর সাথে "ন্যায্য অধিকার" আর "সমঅধিকার" এর সম্পর্ক আছে।

      1. ৪.১.১
        Kamal

        আপনার কথা শুনে আগের মন্তব্যটা কয়েক বার করে পড়লাম। কোন শিষ্টাচার খর্ব করিনি তো ! ভাষাটা বোধ হয় একটু চাঁছাছোলা হয়ে গেছে। তবে প্রশ্ন তো সোজাসাপ্টা করাই ভাল। প্রশ্ন পেটে রেখে ধর্মকর্ম করা যায় না। তাতে করে ধর্মকর্ম এক সময় ব্যাকফায়ার করে।

        সবার মতকেই আমি মূল্য দেই। কোনটার দাম কম দেই কোনটার ন্যায্য দাম দেই।

        ন্যায্য দাম তো সবাইকেই দিতে হবে। দামের কম বেশী করবেন কেন? আমি তো আপনার সাথে ফাজলামী করতে আসি নি।

        আপনার এই প্রশ্নে আপনাকে অনুরোধ করবো আগে ভাল করে জানেন "দেনমোহর" আর "যৌতুক" এর মধ্যে পার্থক্য কি।

        বিয়ের সময় কনেপক্ষ বরপক্ষকে যে ধন সম্পদ দিতে বাধ্য হয় তাকে বলে "যৌতুক"।আর ইসলামে বরপক্ষ কনেপক্ষকে যে ধন সম্পদ দিতে বাধ্য হয় তাকে বলে "দেনমোহর"।যৌতুক দিতে বাধ্য করার পেছনে আছে সামাজিক কুপ্রথা, আর দেনমোহর দিতে বাধ্য করার পেছনে আছেন আল্লাহ তায়ালা।

         

         

         

        1. ৪.১.১.১
          করতোয়া

          আপনি'ই ঠিক আমি কিঞ্চিত ভুল করেছি। দাম কম বেশী করা ঠিক না। ন্যায্য দাম দিলেই হয়। যার দাম কম সে কম দামই পাবে।

          আপনি যৌতুক আর দেনমোহরের যে সঙগা দিয়েছেন সেটা'তো ক্লাশ ফাইবের ছাত্রও জানে। আমি'তো সে অর্থে জানতে বলিনি। WISDOM বলে একটা শব্দ আছে জানেন নিশ্চই। আপনি যে সঙগf দিয়েছেন সেটা যৌতুক ও দেনমোহরনা সংক্রান্ত আপনার Knowledge থেকে দিয়েছেন যেটা সকল শ্রেনীর পাঠক অবগত। আমি চেয়েছি আপনার Wisdom থেকে বিষয়টা জানতে। Knowledge and Wisodm are totally diffrent I think you know that.

          অফ দ্যা টপিক। আপনি দয়া করে সদালাপে সদস্য হন, তাতে বার বার আমাকে আপনার মন্তব্যকে এ্যাপ্রোভ করার প্রয়োজন হবে না। এটা একটা ঝামেলা লাগে আমার। ধন্যবাদ আপনাকে।

          1. Kamal

            আপনি'ই ঠিক আমি কিঞ্চিত ভুল করেছি। দাম কম বেশী করা ঠিক না। ন্যায্য দাম দিলেই হয়। যার দাম কম সে কম দামই পাবে।

            "যার দাম কম সে কম দামই পাবে" কথাটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার কথায় মোটামুটি স্পষ্ট তাচ্ছিল্যের একটা ভাব আছে। হতে পারে আপনি বিরাট লোক, পিএইচডি ডিগ্রীওয়ালা জ্ঞানী-গুনী বিদেশ ভ্রমনকারী বিশাল ব্যক্তিত্ব। তবে কথা বলার সময় অন্য মানুষকে সম্মান দেবেন, এটাও সবাই আশা করে।

            আপনি গোড়াতেই ধরে নিয়েছেন আমি একটা উটকো লোক, খোঁচাবাজ, আপনার মহামূল্যবান লেখা spoil করার জন্যই আমার আগমন। ওরকম মনোভাব থাকা ঠিক না।

            সদালাপে মন্তব্য করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। রেজিস্ট্রেশন করতে বলছেন, পরে করে নেব- হয়ত।

             

    2. ৪.২
      মাহফুজ

      মি. Kamal

      আপনার প্রশ্ন- //বিয়ে করতে গেলে পুরুষকে দেনমোহর দিতে হবে কেন? এটা কি পুরুষের যৌতুক?//

       

      ভাই, আমি বা আপনি যে ক্লাশ ফাইবের ছাত্র নই তা কিন্তু আমরা জানি। যেহেতু আপনি জানতে চেয়েছেন, তাই আমার যৎসামান্য জ্ঞান ও বুঝ অনুসারে আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়াকেই উত্তম মনে করছি-

       

      না ভাই, দেন মোহর পুরুষের যৌতুক নয়। সাধারনত বিয়েতে মেয়েদেরকে পরিবার পরিজন সহ স্মৃতি বিজরত অনেক কিছুই ত্যাগ করে নুতন এক পরিবেশে আসতে হয়। বলা চলে এটি তার জন্য নুতন এক আইডেনটিটি অর্থাৎ পরিচয়। এতকিছু ত্যাগ করার পরও কনে ও তার নিকটজনকে যখন উপরি হিসেবে বরকে মোটা অংকের টাকা-কড়ি বা সম্পদ দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়, তখন তাকে যৌতুক বলা হয়ে থাকে। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় এটিকে ভাল চোখে দেখা হয়না। তবে কনে পক্ষ বাধ্য হয়ে নয় বরং খুশি হয়ে সাধ্যমত বরকে কিছু উপহার দিতেই পারেন। তবে এটি দেয়ার বিধান নেই বিধায় তারা দিতে বাধ্য নন। তাই বাধ্য করা হলে সেটি হারাম হবে। আর হারাম দিয়ে কোন ইমানদারে পক্ষে শুভ কাজের সূচনা করা সম্ভব নয়।

       

      অপরদিকে একজন নারীকে যখন বিয়ে দেয়া হয় তখন এটি তার জন্য ভাল নাকি খারাপ হবে সেই আশংকা ও এক ধরনের অজানা ভয় কন্যা ও তার পরিবারের মধ্যে বিরাজ করাটাই স্বাভাবিক। কারণ কার মনে কি আছে তা অনেক সময় বোঝা যায়না। বরের পক্ষ থেকে কনেকে মোহর প্রদান করার বিধান দেয়ার কারনে বর ও তার পক্ষের নিকটজন তা প্রদান করতে বাধ্য। সুতরাং তারা যখন সেই বিধানকে উপেক্ষা না করে খুশি মনে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে তা প্রদান করতে সম্মত হন, তখন  কনে ও তার নিটকজনেরা কিছুটা হলেও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে থাকেন। আর মনের এই প্রশান্তিকে খাঁট করে দেখার উপায় নেই। মোহর প্রদান করার সম্মতিকে কনের জন্য বরের অন্তরে এক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করার প্রাথমিক উদ্দোগ হিসেবেও ধরে নেয়া যেতে পারে। তাছাড়া পারিবারিক টানাপোড়েন ও মনোমালিন্য তথা সঙ্কটের মুহূর্তে এটি একটি ঢাল ও নিরাপত্তা হিসেবেও কাজ করে থাকে। সর্বোপরি একজন বিশ্বাসীর জন্য মোহর প্রদান করা ইমানি পরীক্ষাও বটে।

       

      আমি যতটা বুঝি সেই অনুসারে সাধ্যমত চেষ্টা করলাম। প্রকৃত জ্ঞান তো সর্বজ্ঞ আল্লাহতায়ালাই রাখেন-

       

      1. ৪.২.১
        করতোয়া

        ধন্যবাদ মাহফুজ ভাই আপনার অসাধারন ব্যাখ্যার জন্য। আমি কামাল সাহেবের মন্তব্যে উত্তর লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু লিখি নাই। কারন উনার মন্তব্য পড়ে মনে হয়েছিল উনি বিষয়টার মূল র‍্যাশনালী সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। তাই মনে হয়েছিল উনি হয়তো ত্যানা প্যাঁচাবার চেষ্টা করবেন তাই বিরত ছিলাম।

        ইসলামি শরিয়ায় ছেলেকে মেয়েকে দেনমোহর দেবার যে আয়াতটি কোরআনে নাজিল হয়েছিল সেটার একটা ব্যাখ্যা আছে “রিজনস অব রেভেলেশন” নামে তফসিরে। এই ব্যবস্থ্যা একটা ঐতিহাসিক প্রক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল। তৎকালিন আরবদের একটা প্রচলিত কালচারাল রিতী ছিল যে বিয়ের সময় ছেলেকে মেয়ের বাবা চাচা মামা বা এরকম আত্নীয়দের কিছু সম্পদ যৌতুক হিসেবে দিতে বাধ্য থাকতে হতো। কারন মেয়েকে যারাই লালন পালন করেছিল তারাই এই যৌতুক পাওয়ার অধিকারী ছিল। এই ব্যবস্থায় মূলত নারী’র অধিকারকে খর্ব করে নারীর অভিভাবকরা আর্থিক লাভবান হতো। সেই কালচারে যদি দূর সম্পর্কের কোন মামাও যদি নারীকে একদিনের জন্যও লালন পালন করতো সেও হাজির হতো এই যৌতুকের ভাগ দাবী করে। যেহেতু মেয়েকে বিয়ে দেয়ার মাধ্যমে বেশ কিছু উপরি আয়ের সুযোগ ছিল সেহেতু সে সময় আরবরা কোন কারন ছাড়াই মানুষের ঘর ভাঙ্গার ব্যবস্থা করতো। ফলে সদ্য ডিভোর্স পাওয়া মেয়েকে তারা আবার অন্য কারোর কাছে বিয়ে দিয়ে আবার যৌতুকের দাবী করতো। এই প্রচলনে মেয়েদেরকে মূলত পন্য হিসেবেই ব্যবহার করা হতো। যেহেতু এটা একটা কালচারাল রিতী ছিল যা রাতারাতি বন্ধ করলে ইসলামের প্রতি মানুষের অনিহা আসতে পারে সেহেতু রিতীটা ঠিক রেখে শুধু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আল্লাহ সোবহানা তালা যৌতুকের অধিকার অভিভাবকের পরিবর্তে নারীকেই দিয়েছেন দেনমোহর নামে। এটা আর তখন যৌতুক থাকে না। ন্যায্য দানকে কখনো যৌতুক বলে না। সেজন্য দেনমোহরের ব্যবস্থাটা যেমন কঠিন একজন ছেলের জন্য তেমনি আবার সহজ। স্ত্রী যদি বিয়ের রাতেই সেই দেনমোহরের দাবী ছেড়ে দেয় তাহলেই ছেলে সেই দাবী থেকে একেবারে মুক্ত। সুতরাং দেনমোহরটা একসময় যৌতুক হলেও কোরআনে আয়াত নাজিলের মাধ্যে যেহেতু এটা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ন্যায্যতা প্রমান করে সেহেতু এটা আর যৌতুক নয় বরং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উপহার।

        আশা করি বুঝাতে পেরেছি।

        1. ৪.২.১.১
          মাহফুজ

          ধন্যবাদ করতোয়া ভাই, তফসির ও ঐতিহাসিক প্রক্ষাপট অনুসারে আপনি যা তুলে ধরেছেন তা ঠিকই আছে।

          যদি কিছু মনে না করেন- //স্ত্রী যদি বিয়ের রাতেই সেই দেনমোহরের দাবী ছেড়ে দেয় তাহলেই ছেলে সেই দাবী থেকে একেবারে মুক্ত।//– এ ধরনের মতের সাথে আমি একমত নই। কারন মোহর হলো স্ত্রীর প্রতি স্বামীর নামমাত্র উপহার নয় বরং পবিত্র কোরআনে এটিকে (৪:২৪) (ujūrahunna farīḍatan) ফরজ উপহার/ প্রতিদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং বিয়ের রাতেই যেমন করেই হোক এটি মাফ করে নেয়া কোন বিবেক সম্পন্ন স্বামীর জন্য উচিত হবেনা। বরং প্রথমত সামর্থ ও সামাজিক অবস্থান অনুসারে মোহর নির্ধারণ করে নিতে হবে এবং বিশেষ কোন সমস্যা থাকলে মোহরের কিছু অংশ উপস্থিত উপহার হিসেবে দিয়ে বাকিটা পরিষোধের জন্য স্ত্রীর কাছে সময় ও সম্মতি নেয়া যেতে পারে। কিন্তু বিয়ের রাতেই তরিঘরি মাফ করে নেয়া মোটেই উচিত হবেনা। মোহর পরিশোধ করা স্বামীর অবশ্য কর্তব্য এবং ক্ষেত্র বিশেষে পিরবর্তীতে এটি বাড়িয়ে দিলে আরও ভাল হয়।

          ধন্যবাদ-

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।