«

»

অক্টো. ২৬

কি অপূর্ব তাই না, আধুনিক বিজ্ঞান যেন আল কুরআনের মহত্ত্বেরই জয় গান গেয়ে যাচ্ছে…….

ষ্ট্রীং তত্ত্বঃ

মোটামুটি গ্রিকদের সময় থেকেই দার্শনিকদের ধারণা ছিলো সকল পদার্থ, পরামানু (Atom) নামক অতিক্ষুদ্র, অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ যেকোনো পদার্থকে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সর্বশেষ যে অবস্থা পাওয়া সম্ভব তাই পরমানু। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ভাঙ্গার দৌড় পরমানু পর্যন্ত আটকে থেকে নেই। পরমানুকে ভেঙ্গে আমরা এর ভেতর থেকে বের করে এনেছি ইলেক্ট্রন, নিউক্লি (Nuclei)। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা ইলেক্ট্রন, নিউক্লিকেও ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন এবং আবিষ্কার করেছেন আরও অসংখ্য অতিপারমানবিক কণার (Subatomic Particle) অস্তিত্ব। কিন্তু আগেকার সময়ের বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকরা পরমানুর মাধ্যমে যেকোনো ধরণের পদার্থ সৃষ্টি হবার যে সরল কাঠামো (Framework) বের করে ফেলেছিলেন, অতিপারমানবিক কণাগুলো আবিষ্কার করার পর সেটা করা প্রায় অসম্ভব এবং ঝামেলার কাজ হয়ে দাঁড়ালো। নিউট্রিনোস, কোয়ার্কস, মেসন, লেপটনস, হার্ডডন্স, গ্লুওনস, ডব্লিও-বোসন ইত্যাদি ইত্যাদি উদ্ভট নামের এবং ধর্মের অতিপারমানিক কণার জঙ্গলই যে প্রকৃতির একেবারে মৌলিক পর্যায়ের অবস্থা সেটা মেনে নেওয়াটা কষ্টকরই বটে।
পদার্থের গাঠনিক কাঠামো ব্যাখ্যা করার কষ্টসাধ্য এই বিষয়টাকে অতিচমৎকার ও সরলভাবে উপস্থাপন করা যায় স্ট্রিং তত্ত্ব (String theory) এবং এম তত্ত্ব (M-theory) দ্বারা। অতিপারমানবিক কণা দ্বারা সকল ধরণের পদার্থ সর্বোপরী মহাবিশ্ব সৃষ্টিকে আসলে তুলনা করা যায় ভায়োলিনের তার কিংবা ড্রামের মেমব্রেনের মাধ্যমে সুর সৃষ্টির সাথে। তবে মনে রাখা দরকার, এগুলো সাধারণ তার কিংবা মেমব্রেনের মতো নয়, এদের অস্তিত্ব দশ-এগারো মাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত।

ব্যাপারটাকে আরেকটু বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানীরা ইলেক্ট্রনকে গণ্য করেন অতিঅতিক্ষুদ্র একটি মৌলিক কণা হিসেবে। যখন তারা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের নতুন ধরণের কোনো অতিঅতিক্ষুদ্র কণার সন্ধান পান তখন তার জন্য একটি নতুন নাম বরাদ্দ করেন। এরফলে বর্তমানে প্রায় শ’খানেক মৌলিক কণা নিয়ে তাদের মাথা ঘামাতে হচ্ছে। এগুলোই উপরে বর্নিত অতিপারমানবিক কণা। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্ব মতে, ইলেক্ট্রনের ভেতরটা যদি সুপারমাইক্রোস্কোপ দ্বারা দেখা সম্ভবপর হতো তাহলে আমরা কোনো কণা দেখতাম না, আমরা দেখতাম কম্পিত এক তার। এটাকে আমাদের কণা বলে মনে হয় কারণ আমাদের যন্ত্রগুলো এতো সুক্ষ্ম পরিমাপ উপযোগী নয়।

এই অতিক্ষুদ্র তারগুলোই আসলে ভিন্ন ভিন্ন কম্পাঙ্কে স্পন্দিত এবং অনুরণনিত হয়। আমরা যদি একটি অতিপারমানবিক কণার সুক্ষ্ম তারের কম্পনের হার পরিবর্তন করে দেই তাহলে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আরেকটি অতিপারমানবিক কণা সৃষ্টি হবে, ধরা যাক কোয়ার্ক। এখন সেটি যদি আবার পরিবর্তন করি তাহলে হয়তো পাওয়া যাবে নিউট্রিনো। সঙ্গীতে আমরা যেমন ভায়োলিন বা গিটারের তার কাঁপিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নোট সৃষ্টি করি, অতিপারমানবিক কণাগুলোও সেরকম ভিন্ন ভিন্ন নোট। সুতরাং অসংখ্য অতিপারমানবিক কণাগুলো শুধুমাত্র একটি বস্তু দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব, সেটা হলো স্ট্রিং বা তার!

 

আল-কুরআনঃ
“আমি শপথ করছি মহাকাশের, যা বিস্ময়কর মহাসূক্ষ তারের বুননে ধারণকৃত” (৫১:৭)।

আল-কুরআন কি ১৪০০ বছর পূর্বে এই ষ্ট্রীং তত্ত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন, এর বিচারের ভার পাঠকদের!

১৭ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Sajib

    ভাই একটা বিষয় জানতে ইচ্ছে করছে, নিউট্রিনোস, কোয়ার্কস, মেসন, লেপটনস, হার্ডডন্স, গ্লুওনস, ডব্লিও-বোসন কণাগুলো বিজ্ঞান কিভাবে প্রত্যক্ষ করলো?

    আর আপনার লেখাটা আমার টাইমলাইনে share করতে পারি?

    1. ১.১
      সুলতান মাহমুদ

      @Sajib ভাই কণাগুলো মূলত উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা নিরীক্ষা দ্বারা প্রত্যক্ষ করা হয়৷ যেমন- ২০১২ সালে CMS Detector CERN হিগস বোসন কণার অস্তিত্ব প্রামান করেন৷

      লেখাটা share করতে পারেন, সমস্যা নেই৷

  2. এম_আহমদ

    আমি একটি মন্তব্য করতে যাচ্ছি। আপনার ব্লগটি যেন সমস্যা বহুল ঠেকাচ্ছে। আমি পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র নই তাই যেভাবে বুঝেছি সেভাবেই বলছি।  থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সে String Theory এর ধারণা concrete অর্থের কোনো  ‘তারের’  কথা না হয়ে, পারমাণবিক ফিল্ডে vibrating energy কে  ‘তারের মত’ তরঙ্গ-রূপী ধরে string-এর ধারনায় বুঝানো হচ্ছে, which is not a string in its concrete sense, but a vibrating string of energy, as I appears. অতঃপর আপনি কোরানের حُبُكٌ  (singular حِبَاكٌ) শব্দের অর্থ “বিস্ময়কর মহাসূক্ষ তারের বুননে ধারণকৃত” (৫১:৭) করলেন, এটি কীভাবে করলেন? এটি কি আপনার নিজের অনুবাদ, না কোরান-অনলি টাইপের কার কাছ থেকে ধার করা, না অন্য কার কাছ থেকে নিয়ে আসা? কোরানের অনুবাদ ও ব্যাখ্যার যে সব উসুল বা পদ্ধতি রয়েছে এই অনুবাদ সেই অঙ্গনের কোথায় বসে? আপনি কি আরবি ভাষার উপর ‘পর্যাপ্ত’ জ্ঞান রাখেন এবং এবং পদার্থ বিজ্ঞানের উপরও?

    1. ২.১
      এম_আহমদ

      as I appears = as it appears. কোরানের কোন far fetched এবং archaic অনুবাদ সদালাপের নীতিমালার সাথে কতটুকু খাপ খায় সেটা কর্তৃপক্ষ দেখবেন কেননা এতে সাইটের স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাপার থাকতে পারে।

  3. এস. এম. রায়হান

    “আমি শপথ করছি মহাকাশের, যা বিস্ময়কর মহাসূক্ষ তারের বুননে ধারণকৃত।” (৫১:৭)

    এই অনুবাদকের নাম বা অনুবাদের সূত্র দেন। আর এই ধরণের চটকদার-মার্কা শিরোনামও বিভ্রান্তিকর।

  4. সুলতান মাহমুদ

    এই অনুবাদটি "অাল কুরঅান দ্যা চ্যালেঞ্জ মহাকাশ পর্ব-১" (লেখকঃ কাজী জাহান মিয়া) বই এর ২৪৮ ও ২৪৯ পৃষ্ঠাতে অাছে এবং বইটিতে লেখক অনুবাদের শব্দগত ব্যাখ্যাও করেছেন৷ তাছাড়াও "বিজ্ঞানের মহাবিস্ময়কর অাবিষ্কার পরকাল" (লেখকঃ মুহাম্মদ অানওয়ার হুসাইন) বই এর ৬৫ পৃষ্ঠা এবং "অাল-কুরঅান দ্যা ট্রু সাইন্স সিরিজ-১, কুরঅান সৃষ্টতত্ত্ব বিগ-ব্যাংগ" (লেখকঃ মুহাম্মদ অানওয়ার হুসাইন) বই এর ১৫৪ পৃষ্ঠাতেও দেখতে পারেন৷

    1. ৪.১
      এম_আহমদ

      @সুলতান মাহমুদ: [১] আপনার উত্তর সন্তুষ্টিজনক নয়। কোনো অপরিচিত লোকের বেখাপ্পা কথা কাগজে ছাপা হয়ে বলে তা সঠিক হয়ে যায় না। এই ব্লগের ভিত্তি হচ্ছে বেখাপ্পা অনুবাদ। নিশ্চয়ই এই ধারণাও এসেছে কাজী জাহান মিয়ার বই বা এমন অন্যদের কাছ থেকে যা জিজ্ঞেস করার আগ পর্যন্ত আপনি উল্লেখ করেন নি। আপনি নানান চৌকস শিরোনামে আগেও অন্যের ধারণা কপি প্যাস্ট করতে দেখা গিয়েছে, যেমন এই লেখাতে ‘বানরজাতীয় প্রাণীর সাথে মানুষের জীনগত মিল ৯৮%, তাই আমরা বানরজাতীয় প্রাণীর নিকটাত্মীয়!’ এবং তাতে তথ্যগত ভুলও ছিল যে বিষয়ে অনেকে প্রতিবাদ করেছেন। সদালাপে মৌলিক লেখাই উৎসাহিত হয় এবং কপিপ্যাস্ট মোটেই গ্রহণ করা হয় না। আপনার এই লেখাটিও এখানে এবং এখানে দেখা যাচ্ছে। ‘বিজ্ঞানের কষ্টি পাথরে আল-কুরআন’ এটা কি আপনার নিজের ভিন্ন আইডেন্টিটি? তকদীরের উপর লেখাটি আপনার নিজের না অন্য কারো কাছ থেকে এনেছেন?  এটা ছিল অত্যন্ত দুর্বল আলোচনা। ওখানে এমনসব বাক্য ও ধারণা রয়েছে যা সঠিক নয় এবং আমরা দীনি আলোচনা এমন ভাষায় করি না। আপনাকে তাই প্রশ্ন করেছিলাম আপনি কী কোরান অনলি, হেজবুত তাওহীদ বা এমন কোনো সম্পর্কের লোক এবং আপনার নামটি কি ছন্মনাম। আপনি উত্তর দেননি।

      [২] আপনার এই লেখাটির ক্যাটাগরিতে কোরান-অনলি সংযোগ করেছেন। কোরান অনলিরাই তফসীর, মুফাসসীর, সুন্নাহ, ভাষার কনভেনশন কিছুর ধারে না। একখানা ডিকশনারি খোলে নিজের মন মত যা পায় তা দিয়েই কোরানের ব্যাখ্যা করে। কিন্তু ডিকশনারিও যে প্রথার কনভেনশনের একটি বস্তু তাও বুঝে বলে মনে হয় না। তাদের মধ্যে মজ বাশার নামক একটি মূর্খের অবস্থা এমন যে সে ডিকশনারি দেখার মত পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না যেখানে সরফের (صرف/শাব্দিক পরিবর্তন বা declension) ব্যাপার রয়েছে। এই মূর্খটি কোরানে মুদ্দাকির (مُّدَّكِرٍ) শব্দের উৎস কই তা সে জানে না।  এমনকি তা ডিকশনারিতেও পায় নি! অতঃপর মুর্খামি করে বলেছে, “দাল-কাফ-রা= দাকর এর সাথে মিম যুক্ত হয়ে মুদ্দাকার হয়েছে; কিন্তু অভিধানে ’দাকার’ বলতে কোন শব্দ নেই; সুতরাং ’মুদ্দাকার’ শব্দের কোন প্রশ্নই আসে না (লিঙ্ক)। কত্তবড় মূর্খ। এখানে কোন শব্দের ডিক্লেনশন কীভাবে এসেছে তা সে জানে না। আর এভাবেই ব্যাখ্যা হয়ে যাচ্ছে তার কোরান!

       [৩] কোরান ব্যাখ্যার (অনুবাদও এক ধরনের ব্যাখ্যা) প্রথম মূলনীতি হচ্ছে আল-কোরান বিল-কোরান। কোরানের অর্থের তার এক নিজ পরিমণ্ডল রয়েছে। সামঞ্জস্যশীলতায় কোরান কোরানকে ব্যাখ্যা করবে। ৫১/৭ আয়াতের অর্থ হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ, চলার পথ, এই বাক্যের অর্থে ধারা হতে পারে এমনভাবে, ‘সংখ্যা পথ বিশিষ্ট আকাশের শপথ’ আজকের আরবিতেও حبك النجوم হচ্ছে the orbits  of the celestial bodies । এমন অর্থ কোরানের অন্যত্রও রয়েছে। এই আয়াতখানি মুহকাম। অতীতে কখনো এই আয়াতের অর্থে অবোধগম্যের কিছু ছিল না। কোরান যে অর্থে নাজিল হয়েছে সেই অর্থ বাদ দিয়ে বিজ্ঞান খোঁজার কোনো দরকার নেই।

      [৪] কোরান পদার্থ বিজ্ঞানের কোন বই নয়। স্ট্রিং থিওরি এখনও থিওরি। যদি আগামীতে এই থিওরি সঠিক বলে ধর্তব্য না হয় তখন কী হবে? আমাদের কারো ঈমান কি এমন দুর্বল হল যে শব্দের হেরফের করে কোরানে স্ট্রিং থিওরি দেখাতে হবে? অথবা যারা বিজ্ঞানী নয় তারা টমেটো কেটে কী আল্লাহর নাম আবিষ্কার করে আমাদের ঈমান বাড়াতে হবে? আমাদের হানাফি মজহাবে ঈমানের বাড়তি-কমতি নেই –এটা আছে অথবা নাই।

      [৫] বিজ্ঞানের ব্যাপারে মুসলমানদের কথা হচ্ছে এতটুকু যে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের সাথে কোরানের কোনো ধারণা “সাংঘর্ষিক” নয়। আমাদের হেদায়াতের জন্য কোরানে স্ট্রিং থিওরি থাকার দরকার নেই। টমেটো কেটে আল্লাহর নাম দেখানোর দরকার নেই।

      [৬] আজকে ইসলামের উপর গভীরতা অর্জন না-করা বিজ্ঞান পড়ুয়াদের কাছ থেকেই অনেক সমস্যা আসছে। এই লাদিন-বাদিন, আওলাকী-বাওলাকী এদের ব্যাখ্যাই চরম হচ্ছে অথচ দীনের উপর এদের তাত্ত্বিক অরিয়েন্টেশনও নেই। এদের অনেক আবার পারিবারিক দিক থেকে সালাফি এবং আহলুল হাদিস থেকে আসা। এরাই বিশ্বে সাংঘর্ষিকতায় প্রভাব ফেলতে চাচ্ছে।

      1. ৪.১.১
        এম_আহমদ

        ‘সংখ্যা পথ বিশিষ্ট আকাশের শপথ’=‘অসংখ্য পথ বিশিষ্ট আকাশের শপথ’

        1. ৪.১.১.১
          সুলতান মাহমুদ

          হুবুক শব্দের অর্থ কি কি?

      2. ৪.১.২
        সুলতান মাহমুদ

        অামি কোন লেখা সরাসরি কপি পেষ্ট করেনি, অার যে লেখা কপিপেষ্ট করি, লেখার নিচে অবশ্য-ই তথ্য সুত্র লেখে দেই৷ "বিজ্ঞানের কষ্টি পাথরে অাল-কুরঅান" এটা অামার-ই পেইজ৷  অার লেখাতে ভুল থাকতেই পারে, তবে এমন কোন লেখা নেই যার তথ্যের রেফারেন্স অামার কাছে নেই৷ তবে সময়ের স্বল্পতা ও একটি কম্পিউটারের অভাবের জন্য সব প্রশ্নের উত্তর বর্তমানে অামার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়৷

        1. ৪.১.২.১
          এম_আহমদ

          @সুলতান মাহমুদ:  [১] অনেক প্রশ্ন ছিল কিন্তু আপনার ‘সময়ের স্বল্পতা ও একটি কম্পিউটারের অভাবের জন্য সব প্রশ্নের উত্তর বর্তমানে দেয়া সম্ভব নয়’৷ ঠিক আছে।

          [২] আপনি “সরাসরি” কপি পেস্ট করেন না -আপনি “চামচ” দিয়ে খান। কোরানের স্ট্রিং থিওরিত ধারণাটি আপনার চিন্তা-প্রসূত নয়। এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনুবাদও আপনার নয়।  আপনি এই আলোচনা তো তাদের নামে শুরু করবেন যারা তা উপস্থাপন করেছেন -এমনভাবে নয়, তা যেন আপনারই।  কিন্তু লেখা প্রিন্ট করার পরে অন্যদের প্রশ্নের মোকাবেলায় সেটা উল্লেখ করাতে কী আসে যায়? মার্জিতভাবে বলি, এমন কাজ নৈতিক বা সঠিক নয়।

          [৩] হুবুকের অর্থ কি কি হবে? এটা তো আপনার আগেই অনুসন্ধান করার দরকার ছিল। একটি শব্দের নানান অর্থ থাকতে পারে।  আপনি আমার আগের কথাটি বুঝেননি। খামাখা বিতর্কের প্রয়োজন দেখছি না। ডিকশনারিতে হুবুকের অনেক অর্থ রয়েছে কিন্তু ইচ্ছেমত যেকোনো গ্রহণ করা যায় না। আগেই বলেছি, কোরান হাদিসের অর্থ গ্রহণের উসূল বা নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে যা জ্ঞানের ধারাবাহিকতায় চলছে। হুবুকের অনেক অর্থের মধ্যে আছে ‘এলোমেলো’, ‘ছিন্নভিন্নতা’ বস্তুর বক্ররূপ। দাজ্জালের মাথার চুল রাসূলের (সা) বর্ণনায় হুবুক বলা হয়েছে, (رأْسه حُبُك/তার মাথা হুবুক)। মানি এলোমেলো বা কোঁকড়ানো মাথা (চুল)। তাহলে কি আমরা বলব, ‘এলোমেলো আকাশের শপথ বা কোঁকড়ানো আকাশের শপথ’? বালুর উপর বাতাস প্রবাহের পর যে লাইন এবং পথ তৈরি হয় তাও হুবুক। বাতাস যখন বালুকে ছিন্নভিন্ন করে তাও হুবুক। বদ্ধ পানির স্থির উপরিভাগকে (surface) বাতাস যখন এলোমেলো করে তাও হুবুক। মাঝখানে বেষ্টনী দিয়ে বাধা একত্রিত কিছু লাকড়ির টুকরো হুবুক। যে রশি দিয়ে মধ্যস্থান বাধা হয় তাও হুবুক। বর্মের(armour) লোহার অংশও হুবুক [লিঙ্ক]। আরেকটু অন্য ধারায় حَبْكَةٌ  (হাবকাতুন) হচ্ছে বস্ত্র (fabric)। এভাবে আরও অর্থ আনা যেতে পারে কিন্তু কোরানের মূল অর্থ কি হবে? আমরা কি ইচ্ছেমত অর্থ "তৈরি" করব? কোরান আরবদেরকে পরকাল বুঝাতে হঠাৎ  স্ট্রিং থিওরি নিয়ে এসেছিল?  এমন ধারণা কি স্বাভাবিক? আমরা তো কেউ কাউকে কারও ‘বিজ্ঞানবাদ’ থেকে বারণ করতে পারব না –একদিকে আস্তিকের বিজ্ঞানবাদ আর অন্যদিকে নাস্তিকের বিজ্ঞানবাদ। মাঝখানে আমরা বড় সমস্যায়।

          [৪] আপনি কোরান অনলি বা হেজবে তাওহীদের কেউ হলে আর আলোচনার কোন দরকার নেই। লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন। তবে লেখা অরিজিন্যাল না হলে তা প্রিন্ট করার আগে উৎস চেক করে দেবেন।

  5. এস. এম. রায়হান

    এভাবে জোর করে কোরআনের মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজার কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না। তাছাড়া এই ধরণের চটকদার শিরোনামগুলোও দৃষ্টিকটূ ও বিভ্রান্তিকর বলেই মনে করি।

    বিজ্ঞানের মহাবিস্ময়কর আবিষ্কার পরকাল

    আাল-কুরআন দ্যা ট্রু সাইন্স

  6. mdmohosin

    অপূর্বই বটে। কোরাণ নয় আপনাদের পক্ষপাত মূলক দৃষ্টিভঙ্গী।যে কোরাণ   আলগোছে     বলে  সুর্য   পৃথিবী কে পুর্ব থেকে পশ্চিমে প্রদক্ষিণ করে তার সঙ্গে বিজ্ঞানের সমতার কথা বলেন? সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র্য এই দেশ।

    http://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=548)

    1. ৬.১
      কিংশুক

      বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা অনেকে অনেক রকম করে করেন। এই শায়খ সূর্যের ঘূর্ণন গোলাকৃতি নাস্তিক ইহুদি খ্রিস্টান বিজ্ঞানীদের কথা হিসাবে বিবেচনা করে না জেনে বিশ্বাসযোগ্য নয় মনে করে উল্টাপাল্টা বিরোধিতা করেছিলেন। পরে সৌদি এক রাজপুত্র নাকে তার নিজের মহাকাশে গিয়ে পৃথিবী গোলাকার ও সূর্যের ঘুর্ণনের কথা জানিয়ে ছাগলামির জন্য ধমক দিলে মুসলমানের স্বাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য ধরে মত পরিবর্তন করেন। এমনিতে আমাদের অনেক আগের শতকের অনেক মুসলিম মনীষি পৃথিবী গোলাকার ও সূর্যের ঘূর্ণন বিশ্বাস করতেন, কোরআন হাদিস দিয়ে প্রমাণও দিতেন।

    2. ৬.২
      কিংশুক

      যেমনঃ গণতন্ত্র,সমাজতন্ত্র,রাজতন্ত্র ইসলাম বিরোধী ব্যাখ্যা করাও খুব সহজ আবার শুধু ইসলাম সম্মতও নয় বরং ইসলামি আদর্শ ও হতেই সৃষ্ট এটাও প্রমাণ করা সম্ভব। অনেক বড় বড় ইসলামি মণিষীই তা করছেন।

    3. ৬.৩
      এম_আহমদ

      @mdmohosin: এই যে মালু mdmohosin, এই যে সাইটের লিঙ্ক দিয়েছেন সেখানকার আয়াতগুলোর পূর্ণবাক্য দেখেছেন? মূল আয়াতগুলো বুঝেছেন? প্রথম দিকে বাক্যগুলো কেটে বাক্যাংশ দিয়েছে যাতে করে আপনারদের মত মূর্খদের প্রতারিত করা যায়। আপনি এখানে নিজ মূর্খতার কারণে এবং বিষয়ের উপর পড়াশুনা না করেই মন্তব্য করেছেন। যান, এই বাক্যগুলো আবার তাদের নিজ পাঠ্যস্থান থেকে পড়েন। তারপর কে, কোন যুক্তিতে কী বলছে তা বুঝেন। কিন্তু ওখানে তো আয়াতগুলোর রেফারেন্স আনে নি, তাই আপনার মত মূর্খ সেগুলো বের করে পড়তে পারবে কী না সন্দেহ। যান, গুগলিং করে যদি পাঠ উদ্ধার করতে পারেন কিনা দেখুন। তারপর গো-বিষ্ঠাপূর্ণ মাথা যদি অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হয় তবে আবার গুগ্লিং করে দেখবেন। অর্থ এই নেটেই পেয়ে যাওয়ার কথা, জ্ঞানের বিষয়ে দুই বিরোধি পক্ষ থাকলে উভয় কথা ও ব্যাখ্যা পড়তে হয় বিবেচনা করতে হয়।  আর যদি গুগ্লিং করে না পান, তবে ৫ বার কানমলা খেয়ে আমাদের কাছে আসবেন আমরা বুঝিয়ে দেব। আজকে কিছু মূর্খ নাস্তিক আর কিছু বিদ্বেষী হিন্দু যা করছে তা ধৈর্যের সীমা ছড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে এই মূর্খ বিদ্বেষী গোয়ারগুলো, তারা যেভাবে জানে, সেভাবে তাদের স্বাধীনতা প্রকাশ করছে আর অপর পক্ষ তাদের পায়ে জুতা খোলে গোয়ার-গর্দভদের মুখে বসিয়ে দিয়ে তারা যেভাবে জানে সেভাবে তাদের স্বাধীনতা প্রকাশ করছে। কী আর করা। চলতে থাকুক। হুজুগে বঙ্গাল তাদের মূর্খতা প্রদর্শনের পর যখন ‘সেকুলাস’ আর বৈচিত্র্যের কথা আওড়ায় তখন তা দেখতে কমেডির মত লাগে। 

       

      (মন্তব্যের একটি শব্দের ব্যবহারের বিষয়ে মন্তব্যকারীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হচ্ছে – দয়া করে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, ধন্যবাদ) 

  7. শামিম

     আমার জানামতে মুক্তমনা ব্লগে কেউ একজন বেঙ্গ করে একটি মন্তব্য করেছিল  " কোরানে নাকি বিজ্ঞানের সব কিছু আগেই বলা আছে, ভাগ্য ভাল যে মোল্লারা এখনো কোরানে স্ট্রিং তত্ত্ব  আবিস্কার করে নাই "  

    এখন প্রশ্ন  মুসলমানদের বোকা বানানোর জন্যই কি এই পোষ্ট দেয়া হয়েছে কিনা ?

     আমি মনেকরি এইসব মূর্খ নাস্তিকরা তথাকথিত যে বিজ্ঞনের বাহাদুরি করছে কোরানের জ্ঞ্যন তার থেকে আনেক উর্দে যা আজ তারা বুঝতে পারছে না 

Comments have been disabled.