«

»

Jun ২৮

হেফাযতের আন্দোলন নিয়ে আমার অবস্থান এবং প্রাসঙ্গিক পোস্ট সম্পর্কে বক্তব্য

সদালাপে অবলীলায় মানুষকে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবনতা আগে ছিলো না। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে সংকীর্ন দৃষ্টিভংগীর মওদুদী দর্শনের অনুসারী জামাত-শিবিরের সমর্থকদের হেফাযতের আন্দোলনের বিষয়ে অতিউৎসাহ দেখাতে গিয়ে অবলীলায় মানুষের মতামত প্রকাশের কারনে  মুনাফিক কাফের ইত্যাদি ফতোয়ায় দিতে দেখা যাচ্ছে। একটা লেখা এসেছে আমার লেখার প্রতিক্রিয়া হিসাবে তাতে মুলত আমাকে মুনাফেক হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন জামাত সমর্থকদের কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য খুব একটা অবাক হবার কিছু নেই। জন্ম লগ্ন থেকে জামায়াত এই কাজটা করে এসেছে। মুসলিম সমাজের মাঝে বিভাজন তৈরী এবং পরষ্পরে বিরুদ্ধে ঘৃনার চাষাবাদের সর্বোচ্চ ঘটনা দেখেছি ১৯৭১ সালে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের সবাইকে "কাফের" মুরতাদ ইত্যাদি ঘোষনা করে তাদের নির্মূলের জন্যে রাজাকার, আল-বদর বাহিনী তৈরী করেএ গনহত্যা সহযোগী হয়েছে। মুলত জামায়াতের সক্রিয়তাই বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি হত্যা এবং গ্রামেগঞ্জে নারী ধর্ষন ব্যাপক ভাবে হয়েছে। 

শক্তির দিক দিয়ে পরাজিত জামায়াত সেনাশাসকদের ভোটের রাজনীতির সমীকরনের ব্যালেনাস হিসাবে রাজনীতিতে ফিরে এলেও – ৭১ এর কুকর্মের জন্যে সামান্য লজ্জিত হয়নি। এখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের সুবাদে বেড়িয়ে আসছে তাদের কদর্য চেহারা এবং নৈতিক ভাবে পুরোপুরি পরাজিত এরা। এই সময়ে কৌশলে এরা হেফাযতের কাঁধে ভর করে একটা নন-ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে তাদের জন্যে একটা সেইফ হেভেন চাইছে। হেফাযতের আন্দোলন নিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা যতটা সক্রিয় তার চেয়ে হাজারগুনে সক্রিয় জামাত-শিবির। কারন সহজেই বোধগম্য – শত্রু শত্রু আমার বন্ধু – যদিও হেফাযতের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মওদুদী মতাদর্শ। 

যাই হোক – কোরান একটা খোলা পুস্তক। এর পড়া এবং বুঝার দায় আমাদের সবার। সেই খোলা পুস্তকের বরাত দিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম – কোরানে আল্লাহ এবং রসুলগনের বিষয়ে কুৎসা রটনাকারীদের বিচার কি মৃত্যুদন্ড হতে পারে কি না। কোরআন বরঞ্চ এই উল্টাটা বলে। বলে ভাল দিয়ে মন্দকে বিতারিত করতে। আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে হেফাযতের কর্মী সদালাপের বিশিষ্ট লেখক সাদাতের একটা মন্তব্য চোখের সামনে আসায় ধাক্কা খেয়েছি।  

মুল বিষয়টা ছিলো রসুল(সঃ) কে নিয়ে আমেরিকায় বানানো একটা মুভি – যা নিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে হৈ চৈ হচ্ছিলো – তখন সদালাপের আরেক লেখক মহিউদ্দিন "নবীর প্রতি ভালবাসার আসল পরিচয় লেখা শুরু করেছেনকোরানের একটা আয়াত দিয়ে  – 

 
ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। (৪১:৩৩-৩৫)

সেখানে সাদাত একটা কমেন্ট করেছিলেন – যা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন মনে হয়েছে – বিশেষ করে নীতিগত ভাবে আজকের আমার অবস্থানের সাথে এই দুই জনই একমত ছিলেন। 

মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে মুসলিমদের অন্তরের কোন্ স্থানে রয়েছেন সেটা আহমকগুলো জানে না।  ওদের অপপ্রচারের প্রতিবাদে আমাদের উচিত  আমাদের সাহিত্যে নবী প্রেমের বন্যা বইয়ে দেওয়া।
যত আসে নিন্দা, তত হয় জিন্দা মুহাম্মাদের নাম,
তাঁর তরে পড়ি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কিন্তু আজ অবাক হয়ে দেখি বাংলাদেশের নাস্তিকতার নামে কিছু লোক যখন রসুল(সঃ) কে নিয়ে কটুকথা বলেন  – উনারা দুইজনই "নাস্তিকদের ফাঁসী"দাবীতে সোচ্চার আর মহিউদ্দিন ভাই তো ইন্টারনেট থেকে গল্পগুজব কপি/পেস্ট করে সত্য মিথ্যা একাকার করে ফেলছেন। আমি এই বিষয়ে সত্যই হতাশ। কি হলো আমাদের!

কি হলো হঠাৎ করে – মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্র এবং ছাপোষা শিক্ষকের উত্তেজিত করা হলো – তাদের জেহাদের ডাক দিয়ে ঢাকা এনে অরক্ষিত করা হলো এবং একটা বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ফেলে সরকার এবং সরকারী দলকে বেকায়দায় ফেলা হলো। রাষ্ট্রকে বাধ্য করা হলো শক্তি প্রয়োগ করতে। বলাই বাহুল্য সমগ্র ঘটনাবলীর থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হলো জামাত-শিবির।

সমগ্র আন্দোলন নিয়ে অনেক প্রশ্ন এখনও অমিমাংসিত থেকেই যাচ্ছে। প্রথমত প্রচারিত ২৫০০ নিহতের তালিকা এবং তাদের পরিবার পরিজন কোথায় গেলো? মতিঝিলে আসার কোন কর্মসূচী না থাকার পরও কেন হেফাযত মতিঝিলে গেলো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকার অংগীকার ভংগ করে সরকারের বিরুদ্ধে হুমকী দিয়ে অবস্থান শুরু করলো? কারা হেফাযতের সমাবেশের ভিতরে গিয়ে নাশকতা করলো? এই সকল প্রশ্নের উত্তর আসার কথা হেফাযতের কাছ থেকে – কিন্তু হেফাযত নিবর হয়ে আছে আর হেফাযতের পক্ষে জামাত-শিবির জোরসে প্রচারনা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা উঠাচ্ছে। তাই নির্দিধায় বলা যায় – হেফাযতের সকল আন্দোলনের ফসল তুলছে জামায়াত-শিবির – যদিও দৃশ্যত বিএনপি লাভবান মনে হচ্ছে – কিন্তু একটা কার্যত অসংগঠিত দল – যার ভিতরে শত বিভাজনের কারনে একজন মহাসচিব বা সংসদের উপনেতা নিয়োগ করতে পারছে না – সেখানে জামায়াতের প্রচন্ড প্রভাবে যে বিএনপির ভিতরে কাজ করবে তা বলাই বাহুল্য। 

এই হলো জামায়াতের আগ বাড়িয়ে হেফাযতের নামে প্রচারিত মিথ্যাচারগুলোর পক্ষে প্রবল প্রচারনা এবং হেফাযতের অগ্রবর্তী বাহিনী হিসাবে সক্রিয় দেখার যাওয়ার কারন। খুবই স্বাভাবিক জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা হেফাযতের সাথে জামায়াত বিরোধীদের শত্রুতাকে উস্কে দেবার জন্যে তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করবে – যার কিছু নমুনা দেখি সদালাপেও। এখন জামায়াত আর হেফাযতের লেখাগুলো এক ব্যানারের নীচে চলে আসছে। 

যাই হোক – আমি আগের লেখায় কোরআনের বেশ কিছু আয়াত উল্লেখ করেছি। যে দৃষ্টিভংগীর কারনে আমি হেফাযতের আন্দোলন সমর্থন করতে পারিনি তা শুরু থেকেই ব্যাখ্যা করেছি – বিশ্ববাসীর জন্যে আসার হেদায়তের পথ ইসলামকে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষুদ্রসীমায় নিয়ে ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগ করার যে দুরবর্তী ফলাফল হবে তার বিষয়ে ভাবার দাবী করছি। যেমন ধরা যাক বাংলাদেশে খৃষ্টানদের ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রতিক্রিয়া হিসাবে যদি টরন্টোর ইসলামিক ইনফোরমেশন সেন্টারের কাজ বন্ধ হয়ে হয় – যেখানে প্রতিমাসে গড়ে ৫০ জন ইসলাম গ্রহন করে যাদের অধিকাংশই টরন্টো ইউনিভার্সিটির ছাত্র  – তারা ইসলামের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবে। এভাবে বৈশ্বিক একটা ধর্মকে সংকীর্ন রাজনৈতিক কারনে কিছু আইন-কানুনের মাধ্যমে রক্ষার যে প্রচেষ্টা তা কতটুকু কোরান সন্মত কা ভাবতে হবে। 

জামায়াতের উৎসাহী কর্মী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসীর দাবীতে যে ব্লাসফেমী আইন প্রনয়নের কথা বলা হয়েছে তার পক্ষে কোরানের একটা আয়াত অংশ এনেছেন – খুব ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে – আয়াতের খন্ডাংশের মাঝে কোটোশন সাইনের ভিতরে উনি নিজের মতো "রিটার্ন" শব্দটা ঢুকিয়েছেন যাতে উনার জিঘাংসার বিষয়ট উঠে আসে। 

যে কোরানে এও আছে ‘মন্দের শাস্তি বা রিটার্ন সেই পরিমাণ মন্দ দিয়েই করা হবে’(42/40),

যার ব্যাখ্যা উনি দিয়েছে – 

 অর্থাৎ থাপ্পড়ের প্রয়োজন হলে থাপ্পড় দেওয়া হবে। 

এই বিষয়টি প্রচুর ব্যাখ্যার সুযোগ রাখে। লেখার জন্যে মৃত্যুদন্ড না লেখার জন্যে লেখা হবে তাই নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে। 

উনি আরো বলছেন – 

মনে রাখতে হবে মোনাফিকদের কোরান ব্যাখ্যায় এই উম্মতের উলামাগণ কখনও চলেননি, এবং চলবেনও না।. 

– এই কথাটা সত্য যে মওদুদীকেও অনেক আলেমই মুনাফেক হিসাবে চিহ্নিত করেছে এবং একদল মানুষ পরষ্পরের বিরুদ্ধে অবলীলায় (রাজনৈতিক এবং ব্যখ্তিগত স্বার্থে) মুনাফেক হিসাবে চিহ্নিত করে থাকে। 

মজার বিষয় হলো নাস্তিকরাও যেভাবে কোরানের আয়ায়তকে খন্ডিত ভাবে ব্যবহার করে – এই ভদ্রলোকও তাই করেছেন – এই কথাটার সত্যতা বুঝা জন্যে পুরো আয়াত এবং প্রাসংগিকতা বুঝার জন্যে আগের কিছু আয়াত দেখা যেতে পারে। 

যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে,
যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য করে, 
নামায কায়েম করে; পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, 
তা থেকে ব্যয় করে,
যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। 
যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; 
নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।
নিশ্চয় যে অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, 
তাদের বিরুদ্ধেও কোন অভিযোগ নেই।
অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, 
যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। 
তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 
অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।

(৪২: ৩৮-৪২) 

এখানে ৪০ নং আয়াতের অংশ বিশেষ যা বলা হয়েছে – "আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই।" 

"And the retribution for an evil act is an evil one like it, but whoever pardons and makes reconciliation – his reward is [due] from Allah. Indeed, He does not like wrongdoers."(৪২:৪০) 

এখানে "retribution" বা "প্রতিফল" শব্দটা ব্যবহূত হয়েছে – যা কোরানের ব্যবহূত হয়েছে جَزَاءً মানে পুরষ্কার – আমরা যা প্রতিদিন ব্যবহার করি জাকাকাল্লাহ হিসাবে। প্রশ্ন হলো এই প্রতিফল দেওয়া অধিকার কি মানুষের হাতে আছে নাকি আল্লাহই সংরক্ষন করেন। দেখি জাযা শব্দটি আর কোথায় ব্যবহূত হয়েছে। 

 

 মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহর সে দিনগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে না যাতে তিনি কোন সম্প্রদায়কে কৃতকর্মের প্রতিফল দেন। (৪৫:১৪) 

এই ধরনের অনেক আয়াত আয়াতে বলা হয়েছে কাফেরদের প্রতিফল আল্লাহই দেবেন। মানুষের হাতে সেই ক্ষমতা দেওয়অ হয়নি। আল্লাহ রসুল (সঃ) কে মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই বলে যে – 

"অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা, আপনি তাদের শাসক নন,"(৮৮:২১-২২)

সুতরাং পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে – কোরানে কোথাও নাস্তিক ব্লগারদের জন্যে মৃত্যুদন্ডের বিধানের বিষয়ে আকার ইংগিতেও কিছু বলা হয়নি। 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আল্লাহ সুরা নাস এ পরিষ্কার করে বলেছেন – খান্নাসের কথা – যারা মানুষ এবং জ্বীনের রূপ ধরে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্যে উস্কানী দেবে। আশা করি বাংলাদেশের আলেম সমাজ সব ধরনের খান্নাসের ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক ইসলামের জ্ঞানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেবেন। হীন রাজনৈতিক সুবিধাবাদ আর ইসলামের নামে গনহত্যা, ধর্ষন আর অনাসৃষ্টি সৃষ্টিকারীদের কুমন্ত্রনা থেকে বাংলাদেশের আলেম সমাজকে আল্লাহ মুক্ত করুন। 

৫৪ comments

Skip to comment form

  1. 28
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    খুবই দু:খজনক যে -- সদালাপে লেখার মান আর কপি/পেস্টের কন্টেন্ড এর দুর্দশা দেখার সাথে সাথে মন্তব্যের নিম্নমান দেখে হতাশ। 

    সদালাপ হবে একটা সুস্থ বিতর্কের প্লাটফরম -- এমনই ছিলো আশা -- কিন্তু এখন দেখছি কপি/পেস্ট আর কুরুচীপূর্ন কমেন্টের কারনে সদালাপ তার মৌলিকত্ব হারানোর সম্ভাবনা কি তৈরী হচ্ছে না? 

  2. 27
    আহমেদ শরীফ

    @ জনাব মুখতার,

     

    আপনার বিচারে মাওলানা শফি 'অন্ধকারের প্রতিভূ' ! তাহলে 'আলোর প্রতিভূ' কারা ? অনুমান করি মাওলানা শফির বিপক্ষে-বিরুদ্ধে যারা আছে তারা। একটু যাচাই করেই দেখা যাক …

    * মাওলানা শফির ডাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর জঘন্য অবমাননার বিচারের দাবিতে বাংলার স্মরণকালের ইতিহাসে একমাত্র '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত ব্যপক অংশগ্রহণে আবারো গর্জে উঠেছিল বাংলার মানুষ। ইতিহাসের এই মহান সন্ধিক্ষণে সারা বাংলাদেশের শেকড় থেকে আসা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এত বড় গণবিপ্লব '৬৯ এর পর বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম।

    বাংলাদেশের হৃদয় থেকে উঠে আসা এই লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণের দাবিতে আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা যদি 'অন্ধকারের প্রতিভূ' হন তাহলে পাকিস্তানি শাসনামলে যে বা যারা স্বৈরাচারি শাসনবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ উদ্যোক্তা তারাও 'অন্ধকারের প্রতিভূ'। সেক্ষেত্রে আপনার ফর্মূলানুযায়ী এর বিপরীতে অবস্থানকারী 'আলোর প্রতিভূ' ধরতে হবে স্বৈরাচারি আইয়ুব খানকে !

    * আপনার বিচারে তৎকালীন 'আলোর প্রতিভূ' যারা তারা বাংলার স্বাধিকারের দাবিতে জনতার 'অন্ধকারের আন্দোলন' কে স্তদ্ধ করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ গ্রেপ্তার-জেলজুলুম-নির্যাতনের নানান পদ্ধতি প্রয়োগ করে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। এই যুগে 'আলোর প্রতিভু' রা বাংলার তাওহীদি জনতার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে ১ লাখের ওপর লোককে আসামী করে নেতৃবৃন্দকে জেলজুলুম-নির্যাতন-হুমকিধামকির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় শ্বাসরুদ্ধকর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

    * তৎকালীন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা জালিম স্বৈরাচারি দুরাচারি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি বাংলার আপামর মানুষের প্রাণের দাবিকে চিরতরে স্তব্ধ করতে ১৯৭১ এর ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে বাংলার সাধারণ ঘুমন্ত মানুষের ওপর চালিয়ে দেয় মধ্যরাতে ঢাকার রাজপথে ট্যাংক-সশস্ত্র বাহিনী। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অগুণতি সাধারণ মানুষকে হত্যা করে 'আলোর প্রতিভূ' র নির্দেশে, আলোর বন্যায় ভাসিয়ে দেয় গোটা দেশ। এই গণহত্যার জন্য আপনার বিচারে ‘আলোর প্রতিভূ’ ধরতে হয় ইয়াহিয়া খানকে !! ৫ ই মে শাপলা চত্বরে আসা সারা বাংলাদেশের অভুক্ত-ঘুমন্ত-নিরস্ত্র-হতক্লান্ত সাধারণ মানুষের ওপর চালানো হয় ১০/১২ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর হিংস্রতম নৃশংস অভিযান, নির্বিচারে এক দেড় লক্ষ রাউন্ড গুলি চালিয়ে, গরুর মত পিটিয়ে হত্যা করা হয় অগুণতি বাংলার মানুষকে, আহত হয় হাজার হাজার। যারা এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে আমি জানি আপনার বিচারে তারাই 'আলোর মহান দূত'।

    * একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী সুবিধাবাদি লোক যারা ১৯৭১ এ জালিম শাসকদের সহযোগী হয়েছিল, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন হত্যাকান্ডকে জায়েজ করার জন্য ক্ষমতাসীন 'আলোর প্রতিভূ' দের নির্লজ্জ বিবেকহীন চামচা হয়েছিল। সেই সময় তাদের 'আলোর প্রতিভূ' রা 'দেশপ্রেমিক' হিসেবে ঘোষণা দিলেও ইতিহাস তাদের 'রাজাকার' দেশশত্রু, গণশত্রু হিসেবে চিহিৃত করেছে। এই ২০১৩ তে 'আলোর প্রতিভূ' দের সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সুবিধাভোগী 'গণজাগরণ মঞ্চ' ও সমমনা রাজনৈতিক-সাংষ্কৃতিক গোষ্ঠি। আজ তাদেরও 'আলোর প্রতিভূ' রা তাদের দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচনা করছে। এরাও ছিল গণবিচ্ছিন্ন, নিজস্ব বলয়ে আবর্তিত। কিন্তু ইতিহাস কি বলবে সেজন্যে অপেক্ষা শুধু সময়ের।

    আলো অন্ধকারের তফাৎ বোঝা সহজ ব্যাপার নয়। এটি আপেক্ষিকও। আমাদের চোখে সূর্যের আলো 'আলো' হলেও এমন কিছু কিছু প্রাণী আছে যাদের জন্য সেটি 'অন্ধকার'। সূর্যের আলোয় তাদের চোখ ঝলসে যাবার অবস্থা হয় রাতে ছাড়া তারা বেরোতে পারে না। 'অন্ধকার' ই তাদের চোখে আলো। সুতরাং কে 'আলোর প্রতিভূ' আর কে 'অন্ধকারের' সেটির সঠিক বিচার একমাত্র ইতিহাসই সময়মত করে দেবে।

  3. 26
    মুখতার

    'মাওলানা শফি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম। সেই সম্মান এবং আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে কথা বলতে হবে।'

     

     

    থু……পারলাম না এই অন্ধকারের প্রতিভু লোকটির প্রতি সন্মান ও আদব রাখতে।খালেদা জিয়ার কথা এসেছে রুপক হিসেবে।কারন খালেদা এই শফির সঙ্গে জোট বেধেছে।স্যরি..আমারই ভুল হয়েছে। সদালাপ ফাজলামি বা ফালতু কথা বলার যায়গা নয়। তবে শফি মাওলানার ওয়াজ ও যে ফাজলামি  ফালতু, আপনি না বললে জানতাম না। আবারো স্যরি আপনাদের মত ভদ্রলোকের আসরে আমার মত ফালতু লোক ঢুকে পড়ায়। বিদায়।

    1. 26.1
      আহমেদ শরীফ

      আবারো শুরু করলেন মিথ্যাচারের ফুলঝুরি। মাওলানা শফির সাথে খালেদা জোট বেঁধেছে এ ধরণের কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কি কোথাও দেয়া হয়েছে ? হেফাজত কি কোন রাজনৈতিক দল ? যে কথার কোন প্রমাণ নেই ভিত্তিও নেই সেটি কোন না কোন মহলের স্বার্থান্বেষী প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছুই নয়, সে কথা এত আত্ববিশ্বাসের সাথে বলেন কেন ?

      মাওলানা শফি 'অন্ধকারের প্রতিভূ' ? আপনার কাছে 'আলোর প্রতিভূ' কারা সেটা জানালে বাধিত হতাম। সারাদেশের আলেমওলামা তথা তাওহীদি জনতা এবং সাধারণ ধর্মভীরু জনগণের কাছে আল্লামা শফি একটি অতি সম্মানিত নাম। যাঁর এক ডাকে সারা দেশের এক এক জেলায় লক্ষ লক্ষ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে তাঁর চেয়ে আলোকিত মানুষ আর কে হতে পারে ? এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপ্রিয়তম একটি নাম হচ্ছে আল্লামা শফি। উনি এবং ওনার ডাকে মানুষ কাফন পরে শাহাদাতের জন্য তৈরি হয়ে যায়, এখনো ডাক দিলে আবার আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ হবে। একমাত্র ইসলামের খাঁটি দুশমন যারা তারা ছাড়া আর বাকি সবার কাছে উনি শুধু আলোকিত না, জ্যোতির্ময় একটি নাম।

      হ্যাঁ সরকার ও সরকাররের অন্ধ সমর্থকদের জন্য অবশ্য উনি খুবই বিপজ্জনক একটি নাম। কারণ বিএনপি-জামাতকে প্রায় হজম করে ফেলে ২০২১ পর্যন্ত নিজেরা ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে লুটেপুটে সর্বস্বান্ত করা ও অবশেষে ভারতের অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করার ব্যবস্থা যখন প্রায় পাকা _ ঠিক তখনই আল্লামা শফি আহুত স্মরণকালের বৃহত্তম গণআন্দোলনে সেই পরিকল্পনা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে এই হেফাজতের প্রভাবেই প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে যত্নের সাথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেরে ভূত হয়ে চলেছে সরকার। জনসমর্থন স্মরণকালের নিম্নতম শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে ৬৫ বছরের ইতিহাসে এই আল্লামা শফির আন্দোলনের কারণেই। সেজন্যেই আল্লামা শফি ও হেফাজত এখন সরকারি দলের আতঙ্কের আরেক নাম, যাকে যুগপৎ ভীষণ ভয় ও ঘৃণা করে সরকার এবং সরকারের অন্ধ সমর্থকরা।

      মাওলানা শফির ওয়াজ সাধারণ ইসলামপ্রেমী মানুষের জন্য। উনি আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করেন। ইসলামে যা আছে তাই বলেছেন বাড়তি কিছু বলেন নি। আঞ্চলিক ভাষায় করা সাবলীল এই ওয়াজটি আপনাদের মত 'উচ্চশিক্ষিত' রুচিবান' 'শহুরে' মানুষদের জন্য নয়, যেহেতু না মানতে না মানতে ইসলামের খুব কম হুকুম মানার যোগ্যতাই এখন আপনাদের অবশিষ্ট আছে। আল্লাহর দ্বীনকে আপনারা মোটামুটি খেলতামাশার বস্তু বানিয়ে ফেলেছেন যেটুকু ইচ্ছা হয় মানেন, যেটুকু ইচ্ছা হয় না মানেন না। এই ওয়াজ আপনাদের মত মানুষদের জন্য না, যারা মানতে অভ্যস্ত ও মানতে পারেন সেইসব কম শিক্ষিত কিন্তু অনুগত সহজ সরল সাধারণ মানুষদের জন্য।

      আপনাদের জন্য সহজপাচ্য ওয়াজ ও ফতওয়াও মাওলানা শফি দিয়েছেন। যেমন 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটুকু পর্দা করেন বা পোষাক পরেন, সেটুকু পর্দা করলে বা পোষাক পরলেও গ্রহণযোগ্য হবে।' মনে পড়ে এই কথাও শফি সাহেব বলেছিলেন ?  

  4. 25
    Najibullah

    আহমেদ শরীফ vai,

    bangla+english a non expart , bohirbisser sharbik obostha o rajnoitik parodorshitai onoviggo kowmi alemder dara ki islamic state porichalona kora possible ?

  5. 24
    মুখতার

    "কেউ যদি বলে, আমি বূড়া মানুষ, হুজুর মহিলাকে দেখলে আমার আমার দিল খারাপ হয় না, কূ খেয়াল দিলের মইধ্যে আসে না, তা হলে আমি বলবো ' এই ভাই, তোমার ধ্বজভঙ্গ বিমার আছে, তোমার পুরুষত্ব নস্ট হইয়্যা গ্যাছে। সেই জন্য মহিলা দেখলে তোমার কূভাব আসে না।"

     

    খালেদা জিয়াকে দেখলেও শফি মাওলানার মনে কূভাব জাগে ? না উনার ধ্বজভংগ বিমার আছে ?

     

    1. 24.1
      আহমেদ শরীফ

       

      তাত্বিকভাবে যা ইসলামের নির্দেশ সেটা পৌঁছানোর কাজ হল ওলামায়ে কেরামের। ইনিয়ে বিনিয়ে রাজনীতিবিদদের মতো অভিনয় ওনারা করেন না। সেজন্যে ওনাদের বয়ান হল কৃত্রিমতা বিবর্জিত, সহজ সরল, সোজা সাপ্টা। তাত্বিকভাবে নারীপুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামের যে বিধিনিষেধ আছে একজন ওলামা হিসেবে তার গতিপ্রকৃতি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে 'ইসলামের বাইরে' উনি কিছু বলেছেন কি না সেইটা বলেন। সুশীল সমাজ যে আগাগোড়াই ভন্ড সেটা সবাই জানে, আদতে 'প্লেটোনিক লাভ' বলে বুড়ো বয়েসেও যে ইসলাম অনুমোদন করে না এমন ধরণের সম্পর্কে জড়ানোর সুযোগ নেই এটা বোঝাতে গিয়েই এ কথা বলেছেন। এতে আপনার গাত্রদাহের কারণটা ঠিক বুঝতে পারলাম না।

      এখানে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ কিভাবে চলে এলো বুঝলাম না ! খালেদা জিয়াকে মাওলানা শফি আদৌ কখনো দেখেছেন বা তাদের কখনো কোনরকম সাক্ষাৎ হয়েছে বা স্পর্শ ঘটার মত কোন প্রমাণ আপনি দিতে পারবেন ?

      মাওলানা শফি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম। সেই সম্মান এবং আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে কথা বলতে হবে। একটি ইসলামী ব্যকরণসম্মত ওয়াজের ভেতর খালেদা ও শফি প্রসঙ্গ অপ্রাসঙ্গিক, অযৌক্তিক এবং প্রমাণবিহীনভাবে নিয়ে আসার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। হালকাভাবে ফাজলামির ব্লগ অনেক আছে। সদালাপ সেরকম ব্লগ নয়। এটি বাংলা ভাষাভাষীদের একটি শ্রেষ্ঠ রাইটার ফোরাম। এখানে অনেক ভারী ভারী লেখক রয়েছেন। এখানকার পরিবেশ সেজন্যে অনেক ভিন্ন, পরিণত, সৌকর্যমন্ডিত, পরিচ্ছন্ন।

      প্রমাণ দিতে না পারলে এসব ফালতু কথা বন্ধ করেন। সদালাপ ফাজলামি বা ফালতু কথার জায়গা নয়। এখানে প্রমাণ ছাড়া হালকাভাবে গুরুতর অভিযোগের মত অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষমূলক মিথ্যাচার বরদাশত করা হয় না।

  6. 23
    মুখতার

    এই হ্যাডম নিয়া ব্লগ চালান !!!!!আল্লামা শফি'র ওয়াজের কিছু অংশ পাঠিয়েছিলাম। প্রকাশ করার সাহস পেলেন না !!!তাইলেই বুঝেন হেফাজত কি জিনিষ !!!!

    1. 23.1
      আহমেদ শরীফ

      যেটুকু লেখা হয়েছে তার ভিত্তিতেই বলেন দেখি 'হেফাজত কি জিনিস' ?

      তারপর আপনি ও আপনার দল 'কি জিনিস' তার আলোচনা হবে।

      অতঃপর কার কদ্দুর ‘হ্যাডম’ তাও দেখা যাবে।

      1. 23.1.1
        মুখতার

        ALLAMA SHAH AHAMMED SHUFI DB Top class Ahalem of Bangladesh (LATEST 2011 TAFSEER MAHFIL)-01

        rel="nofollow">

      2. আহমেদ শরীফ

        ওনার ওয়াজের প্রমাণ দেওয়ার দরকার নেই ঐসব আমি জানি। আলেমওলামাগণ আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর নির্দেশ মাথায় রেখে কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে মানুষকে আল্লাহর দ্বীনকে পৌঁছে দেন। নিজের মনগড়া কথা রাজনীতিবিদদের মত ওনাদের বলার সুযোগ নাই।

         

        আপনি 'হেফাজত কি জিনিস' বলতে কি বুঝিয়েছেন সেইটা ব্যাখ্যা করেন, আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

  7. 22
    মুখতার

    মাওলানা শফি আহমেদের ওয়াজের অংশবিশেষ……………." এই মহিলারা আল্লাহর কোরানকে যদি বিশ্বাস করেন, কোরান বলতেছে এই মহিলারা ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে তোমরা থাক।ঘরের বাইরে ঘুরাফিরা কইরো না। উলঙ্গ হইয়া ঘুরাফিরা কইরো না, রাস্তাঘাটে হাটে মাঠে । মার্কেটিং কইরতে যাইও না। স্বামী আছে ছেলে আছে, এদেরকে বলবেন মার্কেটিং করার জন্য, তোমরা কেন মার্কেটে যাইবা। তোমরা শুধু অর্ডার কইরবা, আপনে কেন কস্ট করবেন। আপনি স্বামীর ঘরের ভিতর থাইকা স্বামীর আসবাব পত্র এসব গুলার হেফাজত করবেন, ছেলে মেয়েদের লালন পালন করবেন, এইগুলা আপনার কাজ, আপনে কেন বাইরে যাবেন।………… আপনার মেয়েকে কেন গার্মেন্টসে দিছেন? ফজরে ৭-৮ টায় চলে যায়, রাত ৮-১০ টা , বারটায়ও আসে না, কোন পুরুষের সঙ্গে ঘুরাফিরা করতেছে, তুমিতো যান না , কত জ্বেনার মধ্যে মুকতালা হচ্ছে আপনার মেয়ে আর জ্বেনা কইরা কইরা টাকা রোজগার করতেছে, কি বরকত হবে? আপনার মেয়ে স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়তেছে, আরে, ক্লাস ৪/৫ পর্যন্ত লেখা পড়া করান, যাতে বিবাহশাদী দিলে স্বামীর টাকা পয়সার হিসাব রাখতে পারবে, এমত এতটুকু।মেয়েরা হইলো তেতুলের মত। দেখলেই দীলের মইধ্যে লালা বাইর হয়।এই মহিলাদের সঙ্গে লেখাপড়া করতেছেন , দিল ঠিক রাখতে পারবেন না।যতই বুজুর্গ হউন মহিলাকে দেখলে, তাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলে আপনার দিলের মইধ্যেও কূভাব আইসা যাবে, খারাপ খেয়াল। এইটা মনের জ্বেনা, দিলের জ্বেনা, হইতে হইতে এইটা আসল জ্বেনায় পরিনত হবে।কেউ যদি বলে, আমি বূড়া মানুষ, হুজুর মহিলাকে দেখলে আমার আমার দিল খারাপ হয় না, কূ খেয়াল দিলের মইধ্যে আসে না, তা হলে আমি বলবো 'এই ভাই, তোমার ধ্বজভঙ্গ বিমার আছে, তোমার পুরুষত্ব নস্ট হইয়্যা গ্যাছে। সেই জন্য মহিলা দেখলে তোমার কূভাব আসে না। আপনার বিবি 'যাদের সঙ্গে বিবাহ হতে পারে……………..তাদের কাউকে দেখা দিতে পারবে না। আপনার বিবি যদি দেখা দেয় তবে যদি আপনে বাধা না দেন তবে আপনার জন্য বেহেস্ত হারাম হয়ে যাবে।"

  8. 21
    আহমেদ শরীফ

    আপনার মন্তব্যের বেশীর ভাগের সাথে একমত – কিন্তু আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতেই হবে তার সাথে একমত না। ৩০০ এমপির মাঝে এমনও অনেক আছেন যারা হেফাযতের বন্ধু। যেমন খুলনার মেয়র নির্বাচনে একজন ভাল মানুষকে পরাজিত হতে হলো – যার সাথে ৫ই মের কোন সম্পর্কই নেই 

    আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগ নিজেই পরাজিত করেছে। ৫ ই মে এক ভয়াবহ নৃশংস রাজনৈতিক আত্মহত্যার মাধ্যমে ৬৫ বছরের পুরনো এই দলটির বহিরাগত বামসন্ত্রাসীরা এটিকে হেমলক পান করিয়ে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। এখন ছটফটানি ইত্যাদি যা দেখছেন তা নিতান্তই বিষের প্রতিক্রিয়া।

     

    যাই হোক – আপনার দেওয়া ভিডিওটা আগেই দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের প্রপাগান্ডা মুলক ভিডিও খুবই ট্রিকি। মানুষের আবেগকে ব্যবহারে জন্যে এই ধরনের কাজ করা হয়। এই ভিডিওটা দেখার পর কতগুলো প্রশ্ন মাথা আসে -- 

    যেমন পুলিশের যে একশ্যান দেখানো হচ্ছে তার আগে কি হয়েছিলো? পুলিশ কি আনপ্রভোকড হয়ে এই ধরনের এগ্রেসিভ হয়ে উঠলো?

    ভিডিওগুলো 'ট্রিকি' না 'স্ট্রেইট' সেটা গুরুত্বপূর্ণ না এই ক্ষেত্রে। ঘটনাগুলো ঘটেছে সেটাই বড় কথা, এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন ঘটেছে এসব ক্ষেত্রে। দলমতের উর্দ্ধে উঠে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করলে বোধগম্য হবে। এক পর্যায়ে নিশ্চয়ই দেখতে পেয়েছেন দিনের বেলায় মতিঝিলে হেফাজতের নাম লেখা এ্যাম্বুলেন্সের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে পুলিশবাহিনীর দু'জন সদস্য, যাতে মারাত্মক আহত হেফাজতকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব না হয়। যেভাবে মানুষের ওপর পুলিশ আক্রমণ করছে ও নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে সেটিকে রাষ্টীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের রাজনৈতিক জিঘাংসার প্রতিফলনই কি নয় ? যুব-ছাত্রলীগ সম্মন্ধে কিছু বলার নেই কারণ তাদের চরিত্র জনগণের সামনে বেশ ভালভাবেই উম্মোচিত।

    আগে কি ঘটেছিল মানে কি বোঝাতে চাইলেন বুঝলাম না। আগে যদি খুন বা ডাকাতিও ঘটে থাকে সেজন্যে পুলিশ 'অপরাধীদেরও' এভাবে পৈশাচিক নির্যাতন করতে পারে না। সংবিধান তাকে সেই অধিকার দেয় না। পুলিশের কাজ হল তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তারপর রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন তার ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা আদালতের দায়িত্ব। আগে যাই ঘটুক পুলিশ 'প্রোভোকড' বা 'এগ্রেসিভ' হবার কোন সাংবিধানিক অধিকার কোন সভ্য রাষ্ট্রে থাকার কথা নয়।

     

    কিন্তু আমরা যা আগে দেখিনি তা হলো পুলিশের মার খাওয়া – জামাত-শিবির পুলিশের উপর যেভাবে আক্রমন করেছে তা এই ভিডিওতে আসেনি – যদিও ভিডিওর অধিকাংশ পার্টই শিবিবের উপর পুলিশের আক্রমনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। 

     

    এখানে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্যনীয় শুরুতে হেফাযতের কর্মীদের উপর আক্রমন দেখানো হয়েছে – তা ছিলো হূদয় বিদারক – যা উদ্দেশ্যমুলক ভাবে করা হয়েছে – যাতে মানুষের সহানুভুতিটা টানা যায় – তারপরই চলে এসেছে জামাত-শিবিরেও উপর আক্রমন। 

     

    ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গুলিহেলনে পুলিশের মাধ্যমে রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করার চিত্রই ফুটে উঠেছে ছবিতে। এখানে আগে পুলিশকে কিভাবে মারা হয়েছে সেটি ঘটেছে _ না কি পুলিশ বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর তারা পুলিশের ওপর খড়গহস্ত হয়ে উঠল সেটাই প্রশ্ন। রিমান্ডে নিয়ে বাংলাদেশের পুলিশ কিন্তু আইন কানুনের ধার ধারে না এটা সবাই জানি, রাজনৈতিক কর্মী তো দূরের কথা মানুষ হিসেবে ন্যূনতম সম্মান দেয়া মানবাধিকার রক্ষা করার কোন ধার ধারে কিনা সন্দেহ আছে। যেসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বা এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হয় সেগুলো তো জনসাধারণের অগোচরেই ঘটে। এখানে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকেই যেভাবে মানবাধিকারের চুড়ান্ত লঙ্ঘন করা হচ্ছে সেখানে বিরোধীদলীয়দের ক্ষেত্রে হস্টাইল হয়ে যাওয়াটা কি অস্বাভাবিক কিছু ?

     

    হেফাজতের ক্ষেত্রে 'তান্ডব' এর কথা এখানে আর ফেসবুকে খুব প্রচারণা চালানো হয়েছে। যুবলীগ-ছাত্রলীগ-পুলিশলীগ যা করলো তা আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করবেন ?  এটা নিয়ে সরকার সমর্থকদের বিদ্রুপ-উপহাস আজ আনন্দ দিলেও কাল বড় করুণ রুপ পরিগ্রহ করবে, কারণ আজকের বিরোধীরা কাল যখন ক্ষমতায় যাবে তখন চক্রবৃদ্ধি হারে সুদসহ আসল যখন দফায় দফায় তুলতে থাকবে তখন আজকের উল্লাসকারীদের কান্না আর আহাজারিতে তখন কান পাতা দায় হবে। এসবই কি রাজনৈতিক সংষ্কৃতি হওয়া উচিত ? এই গুন্ডাতন্ত্র ?  তাহলে তো পুরোপুরি মাৎসান্যায়কে স্বীকার করে নিতে হয় _ "জোর যার মুল্লুক তার,"। আজ লীগের ক্ষমতা আছে গায়ের জোর আছে তাই তার সব অত্যাচার জায়েজ। তো কাল ক্ষমতায় গেলে বিএনপি-জামাত যদি ধরে ধরে জবাই করা শুরু করে লীগের লোকদের সেটাও ক্ষমতার জোরে জায়েজ হয়ে যাবে।

     

    আজ প্রতিশোধের ভাষা হিসেবে হেফাজতের ১৮ দলের পক্ষে প্রচারণা সরকার সমর্থকদের 'ভাল লাগছে না', সাংবিধানিক অহিংস নির্বাচনী প্রচারেও এত জ্বালা ? লীগিয় কায়দায় বন্দুকের ভাষায় প্রতিশোধ নিলে সেটাই যথার্থ হতো ? কিন্তু হেফাজত সে পথে যায় নি ইসলামের খাতিরেই এবং এতে জনসমক্ষে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে।

  9. 20
    আহমেদ শরীফ

    এখানে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্যনীয় শুরুতে হেফাযতের কর্মীদের উপর আক্রমন দেখানো হয়েছে – তা ছিলো হূদয় বিদারক – যা উদ্দেশ্যমুলক ভাবে করা হয়েছে – যাতে মানুষের সহানুভুতিটা টানা যায় – তারপরই চলে এসেছে জামাত-শিবিরেও উপর আক্রমন। 

     

    কি উদ্দেশ্যে করা হয়েছে সেটা বাদ দেন। মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘনটা দেখেন, নির্যাতনের ভয়াবহতাটা দেখেন। এরা বাংলাদেশেরই জনগণ। যে দলেই থাকুক। জনগণ রাষ্ট্রের আসল মালিক, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। পুলিশের ওপর জামাত-শিবিরের আক্রমণের ভয়াবহতার মাত্রা দেখে আমিও অবাক হয়েছিলাম, পরে যখন এই জাতীয় ভিডিওগুলো দেখলাম তখন বুঝলাম তাদের ক্ষোভ ও ঘৃণার মাত্রা।

    আওয়ামী লীগের ভেতর হেফাজতের লোক নেই বা লীগের সবাই হেফাজতবিতৃষ্ণ এ কথা আমি বলছি না। পরিশোধিত হওয়ার জন্যে হলেও দলগতভাবে তাদের এবার হেরে ভূত হওয়া দরকার। অন্যদিকে যারা হেফাজত অভিযানের পরিকল্পনাকারী-নির্দেশদাতা তাদের বিচারের আওতায় আনা দরকার জাতির স্বার্থে সেটা নিশ্চয় অস্বীকার করবেন না। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের ছুতো দিয়ে কোন মহলই যাতে রাষ্ট্রীয় শক্তি অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে নিস্তার না পায় সেজন্যে জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এখন এশার নামাজের সময় কাজেই উঠতে হবে। রাবার বুলেট সম্মন্ধে যা বললেন সেটা অসম্পূর্ণ। কাছ থেকে মারলে রাবার বুলেটেও মানুষ মারা যায়।

  10. 19
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনার মন্তব্যের বেশীর ভাগের সাথে একমত -- কিন্তু আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতেই হবে তার সাথে একমত না। ৩০০ এমপির মাঝে এমনও অনেক আছেন যারা হেফাযতের বন্ধু। যেমন খুলনার মেয়র নির্বাচনে একজন ভাল মানুষকে পরাজিত হতে হলো -- যার সাথে ৫ই মের কোন সম্পর্কই নেই 

     

    যাই হোক -- আপনার দেওয়া ভিডিওটা আগেই দেখেছি। কিন্তু এই ধরনের প্রপাগান্ডা মুলক ভিডিও খুবই ট্রিকি। মানুষের আবেগকে ব্যবহারে জন্যে এই ধরনের কাজ করা হয়। এই ভিডিওটা দেখার পর কতগুলো প্রশ্ন মাথা আসে -- 

    যেমন পুলিশের যে একশ্যান দেখানো হচ্ছে তার আগে কি হয়েছিলো? পুলিশ কি আনপ্রভোকড হয়ে এই ধরনের এগ্রেসিভ হয়ে উঠলো?

    গত বছরে ৫ নভেম্বর থেকে শিবির-জামাত পরিকল্পিত ভাবে পুলিশের উপর আক্রমন করেছে। আগে আমরা যা দেখেছি পুলিশ কখনই সিভিলাইড আচরন করেনি। এখনতো পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করে -- এরশাদের সময় রাবার বুলেট ছিলো না -- সরাসরি গুলি করা হতো। সুতরাং পুলিশের ব্রুটালিটি কি নতুন?

     

    কিন্তু আমরা যা আগে দেখিনি তা হলো পুলিশের মার খাওয়া -- জামাত-শিবির পুলিশের উপর যেভাবে আক্রমন করেছে তা এই ভিডিওতে আসেনি -- যদিও ভিডিওর অধিকাংশ পার্টই শিবিবের উপর পুলিশের আক্রমনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। 

     

    এখানে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্যনীয় শুরুতে হেফাযতের কর্মীদের উপর আক্রমন দেখানো হয়েছে -- তা ছিলো হূদয় বিদারক -- যা উদ্দেশ্যমুলক ভাবে করা হয়েছে -- যাতে মানুষের সহানুভুতিটা টানা যায় -- তারপরই চলে এসেছে জামাত-শিবিরেও উপর আক্রমন। 

     

    মুদ্রার যেমন দুই পিঠ থাকে -- তেমনি এই ভিডিওরও অন্য দিক আছে যা না দেখানোর কারনে এইটা খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে -- কারন আংশিক সত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ংকর। 

     

    সবশেষে লক্ষ্য করুন -- শিরোনাম ছিলো পুলিশ লীগ ( যদিও আমরা জানি বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান পুলিশ এবং সর সরকার এসেই পুলিশকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থে ফলে পুলিশের এই ব্রুটালিটি শুধু রাজনৈতিক পক্ষ বিপক্ষে আলোচনা বস্তু হয়ে উঠে) যা রাজনৈতিব উদ্দেশ্যে করা হয়েছে আর পিছনের ধারা বর্নণা ছিলো ইংরেজীতে যা বস্তুত বাংলাদেশের কঠিন অবস্থা দেখানো জন্যে করা হয়েছে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন এই ধরনের ভিডিও থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় যারা রাজনেতিক আশ্রয়ের জন্যে আবেদন করে। 

     

    সমস্যা সমাধানের জন্যে পুরো সত্যটাকেই দেখা এবং উপলদ্ধি করা দরকার। 

  11. 18
    আহমেদ শরীফ

    হেফাজত আন্দোলনের ফলে ইসলামপন্থিদের শক্তি সম্মন্ধে যেভাবে স্পষ্টতা দেখা গেছে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম, অনুসারীদের শৃঙ্খলা কল্পনাতীত, নেতৃত্বের যে দূর্বলতা সেটা সময়ের সাথে সাথে অবশ্যই কাটিয়ে উঠবে তারা, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। আপাততঃ বিএনপি অবধারিতভাবে মাঠ দখল করবে, নিজের যোগ্যতায় না হলেও জনগণের আওয়ামী বিদ্বেষ প্রবল হওয়ার কারণে। কিন্তু বিএনপির সাথেও একসময় দেখা দেবে সংঘাত, অতঃপর সময়ের প্রয়োজনেই ইসলামপন্থিদের নিজস্ব আন্দোলন সংগঠিত হতে বাধ্য হবে। আগের দিনের হিসেব চলে না এ কারণে বলেছি, আগের চেয়ে ইসলাম প্র্যাক্টিশনার এখন অনেক অনেক বেশি হওয়ায় ইসলামের জেনুইন চাহিদা অনেক অনেক গুণ বেড়ে গেছে এবং এটি জ্যামিতিক হারে ক্রমবর্ধমান, কাজেই চাহিদা যখন আছে ক্রেতাও আছে, তখন স্বভাবতঃই এক পর্যায়ে 'দোকান' তৈরি হয়ে যাবে এটা তো সহজবোধ্য ব্যাপার। আওয়ামী লীগের পজিটিভ বা নেগেটিভ ভোটের ব্যাপারে আমি চিন্তিত না, কারণ আওয়ামী-বিএনপি-জামাত এই ত্রয়ীর সম্মন্ধে মোহভঙ্গ হবার প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরেই চলছে, মানুষও ত্যাক্তবিরক্তের শেষ পর্যায়ে, কাজেই চললেও এই ৩ দলের যাবতীয় নর্তনকুর্দন যদি আর ১০/১৫ বা ২০ বছরের মধ্যে স্তিমিত হয়ে যায় আমি খুব অবাক হবো না, আসল ব্যাপার হচ্ছে ইসলামপন্থি মূলধারা ক্রমশঃ শক্তিশালী হচ্ছে, হবে, হেফাজতের সমাবেশের পর এর বিপরীত ধারা নৈতিকভাবে জঘন্যভাবে পরাজিত হয়েছে, দিশা হারিয়ে দূর্বল হয়েছে, নীতিগতভাবে চরম দৈন্য ও ভগ্নদশার মুখোমুখি হয়েছে এটাই মূল বিজয়ের পূর্বাভাস। বাকিটুকু সময়ের ব্যাপার, রক্ত প্রয়োজনে আরো ঝরুক, রক্ত না ঝরলে তো পিউরিফিকেশন আসবে না, ইস্পাতকঠিন ঐক্যের জন্য রক্ত-শোক-দুঃখের প্রয়োজন আছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের বামপন্থিদের কাছে কৃতজ্ঞ, ইসলামপন্থিদের অনেক দূরের বন্ধুর পথ তারা সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছে।

     

    যে কোন দলের গ্রহণযোগ্যতা সর্বতোভাবে নিঃশেষ হয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকার যে পর্যায়গুলো আছে সেগুলোর অনেকগুলোই অতিক্রম করে নৈতিক শক্তি হারিয়ে দেউলিয়া হওয়ার বাংলাদেশের দু'টো প্রধান রাজনৈতিক দলই। উত্থান-আরোহণ-অবরোহণ-পতনের অবশ্যম্ভাবী যে ঐতিহাসিক পরিণতি তা থেকে পরিত্রাণ কারোরই হয় না শেষ পর্যন্ত। বাংলাদেশের লোকে প্রকৃতিগতভাবে চরমপন্থি নয় কোন ব্যাপারেই, এখানে বামপন্থি বা চরম ডান যেমন জামাত কখনোই খুব বেশি কল্কে পায় নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অতীত ধারাবাহিকতা হিসেব করলে স্বাভাবিকভাবেই এটা মনে হওয়ার কথা যেরকম আপনি ভবিষ্যৎ ধারাবর্ণনা দিলেন। তবে এটাও ভুললে চলবে না যে আওয়ামী লীগকেও সুদীর্ঘকাল, প্রায় ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়েছিল, ইতিহাসের ঘটনাক্রম কখন কোনদিকে মোড় নেয় সেটা সময়ই আসলে বলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-বিএনপির মত একমাত্র বিকল্প-ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির কারণে অনেকে অনিচ্ছাসত্বেও আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিতে বাধ্য হলেও বাংলাদেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলই যে চোরছ্যাঁচড়ে ভর্তি, লুটেরা ভর্তি, দুটিই বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপের ক্রীড়নক, দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এটা মোটামুটি সবাই স্বীকার করেন। কাজেই মানুষ পরিবর্তন চায়, আরো আগে থেকেই চাইছে কিন্তু গ্রহণযোগ্য বিকল্প না থাকায় এদেরকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়েছে, হচ্ছে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনও ঐতিহাসিক অনিবার্যতায় একসময় হবে, হয়তো দেয়ালে পিঠ ঠেকতে ঠেকতে সর্বশক্তি দিয়ে গর্জে উঠতে জনগণের আরো কিছুটা সময় বাকি আছে। হেফাজতের ঘটনাটি একটি চমকপ্রদ ভিন্নস্বাদের আন্দোলন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য না হলেও ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করতে গিয়ে ইসলামপন্থিদের সম্পূর্ণ নবচেতনার ঐতিহাসিক আত্মোপলব্ধির এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন, ইসলামপন্থিরা নিজেরাও সম্ভবতঃ ভাবতে পারেন নি বাংলাদেশে তাদের অবস্থান সর্বস্তরে এতটা সংহত হয়েছে।

     

    শফি সাহেব বা বাবুনগরীর মত মানুষদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় যাবার বয়েস বা প্রবৃত্তি কোনটাই আর অবশিষ্ট নেই, কিন্তু নৈতিক আন্দোলনের স্ফূরণ ঘটানোর ঐতিহাসিক ভূমিকা যেটুকু তাঁরা পালন করেছেন, সেটুকুও কম নয়, প্রায় ৮৭ বছরের এক অশীতিপর বৃদ্ধের ডাকে সারা বাংলায় এই অভূতপূর্ব জাগরণের বীরগাঁথা বাংলার ইতিহাসে এমনিতেই অমর হয়ে থাকবে। নেতৃত্বের সংকট বেশিদিন থাকবে বলে মনে হয় না, বিশেষতঃ আপাততঃ চুড়ান্ত নেতৃত্ব শফি সাহেবের হাতে থাকলেও পরের স্তরের নেতৃত্বে ঘটতে পারে অনেক পরিবর্তন। যতদূর শুনেছি, এমনকি আজকেও কিছুটা শুনেছি, রমজানের পর ছাত্রদের পরীক্ষা শেষ হলে নতুন করে আবার শুরু হবে আন্দোলন। শফি-বাবুনগরিরা অবশ্যই ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেননি, কিছু কিছু জুনিয়র নেতা যারা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী হয়েছিলেন আর কোন সুযোগ তারা পাচ্ছেন না আপাততঃ, সারাদেশের নেতৃত্বে মেধাবী তরুণরা প্রাধান্য পাবেন _ আজ এটুকুই বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারলাম। আরো জানা গেলে আন্দোলনে পুরোপুরিই ধর্মতাত্বিক আবহ পরিগ্রহ করা হবে, আগের মত যাতে কোন ছিদ্র দিয়ে রাজনৈতিক সংস্পর্শের ছোঁয়াচ চলে না আসে সেজন্যে তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন, আন্দোলন 'শান্তিপূর্ণ' ভাবে করার নিয়তে হেফাজতের পক্ষ থেকে পরিচালিত হবে। তাবলীগ জামাত এখনই আসছে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত, তবে আমার ধারণা একসময় তারা ঠিকই আসবে, লোকের মাঝে ইসলামী ভাবধারার আরো অনেক প্রসার যখন ঘটবে, মানুষই ইসলামী শাসন চাইবে তখন নিজের তাগিদে, সর্বগ্রাসী চাহিদা অনুযায়ী একসময় হয়তো সময়ই এগিয়ে নিয়ে যাবে অনিবার্য নিয়তিকে। তবে তার আগে পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী বা জামাত রাজনীতি-শাসনের নামে গয়ংগচ্ছ চালালেও সব রাজনৈতিক দলই পর্যুদস্ত অবস্থায় থাকবে, চুরিচামারি আর চুলোচুলি করেই কাটাবে, কোন দলই নিজ নিজ সময়কাল শান্তিতে কাটাবার এতটুকু সম্ভাবনা আর আছে বলে মনে হয় না।

     

    খুব ঠান্ডা মাথায় একবার ভিডিওটা দেখুন। আমি সত্যিই জানি না এরা কোন দলের লোক, কি তাদের পরিচয়, তবে ছবি দেখে মনে হয় কোন না কোন ধরণের 'ইসলামপন্থি'ই হবে, রাজনৈতিক বা আধ্যাত্মিক। এটা দমনের কোন পদ্ধতি হতে পারে ? মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি এদেরকে ? খুব সহজে তো বলে ফেলি আমরা মাদ্রাসা-ইসলাম মানেই 'জঙ্গিবাদ', তো এদের যেভাবে দমন করা হচ্ছে সেটাকে কি 'অভিধা' দেয়া যায় বলতে পারবেন ? এরপর যদি এদের বুকে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে রাষ্ট্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় তাহলে সে দায়ও কি শুধু এদেরই ? দমন-নিপীড়ন-অমানুষিক অত্যাচার এভাবে যদি বাড়তে বাড়তে ইসলামপন্থিদের শোক-দুঃখ অমিত শক্তিতে পরিণত হয়, অবশ্যম্ভাবী হবে, তাহলে একদিন অচিরেই আসবে যখন আজকের এই পৈশাচিক অত্যাচারীদের কথা বলার স্বাধীনতা, এমনকি চলাফেরার স্বাধীনতাও থাকবে না। পাল্টা প্রতিক্রিয়া অবশ্যি আসবে একসময় এবং তা অতি অতি ভয়ংকর রুপে। এর জন্যে দায়ী হবে আজকের অত্যাচারীরাই, এর মূল্য গলায় গামছা দিয়ে হলেও ঠিকই অত্যাচারিতেরা আদায় করে নিয়ে যাবে।

    https://www.facebook.com/photo.php?v=480368255375393&set=vb.484118214970894&type=3&permPage=1

     
     

     

  12. 17
    আহমেদ শরীফ

    মিডিয়া-সংবাদপত্র এসবের নির্দিষ্ট অফিস ও ব্যক্তিবর্গ আছে যারা মোটা দাগের হুমকি-ভয়ভীতি-সন্ত্রাসী দমননীতির শিকার হয়েছে, সোজা কথায় বলতে গেলে পুলিশ/দলীয় সন্ত্রাসী/প্রশাসনিক সম্ভাব্য সবধরণের চুড়ান্ত দমননীতি প্রয়োগ করা না হলে এধরণের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি হতেই পারে না। যে টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোর মাঝে যেমন সমস্ত রেকর্ডেড টেপসহ দিগন্তর ক্যামেরা যন্ত্রাংশ পর্যন্ত খুলে নিয়ে আসা হয়েছে ৫ ই মের রাতেই একদল পুলিশ পাঠিয়ে। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েই এরকম চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে সবাইকে, এছাড়া প্রশাসনিক হুমকি, মামলা-রিমান্ড হয়রানির প্রয়োগ/হুমকি তো আছেই। 'অধিকার' এর নেপথ্যে যে বা যারাই থাকুক না কেন সে প্রশ্ন অবান্তর _ কেননা মানবাধিকার রক্ষার মহান ব্রত নিয়েই হোন কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই হোক, ধরা যাক রাজনৈতিক কারণেই তারা করছে, আওয়ামী বিরোধিতার জন্য, সেক্ষেত্রে অবাস্তব মিথ্যা খবর ছড়ানোর বিলাসিতা করে তাদের লাভ কি যেখানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অচিরেই উম্মোচিত হলে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ-উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে ? আর একটা ব্যাপার ভুলে যাচ্ছেন শাপলা চত্বরে ওই রাতে ১ লক্ষের কমবেশি মানুষ ছিল এবং তারা সারা বাংলাদেশ থেকে আসা সাধারণ মানুষ। নিহতরা তো নিহত, আহত আর বেঁচে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষ যে ফিরে গেছে তাদের কথা ভুলে যাচ্ছেন কেন ? যে দেশে কোন পোস্টার/মিছিল/মিটিং ছাড়া শুধু মুখে মুখে যোগাযোগের ভিত্তিতে মানবজাতির স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা হয় প্রতি বছর দুটো করে _ সেখানে ওই কালোরাতের পরপরই বাতাসের বেগে সারা দেশের আনাচে কানাচে এই গণহত্যার খবর প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে ছড়িয়ে যায় নি কি করে বুঝলেন ? মিডিয়ার পরিবেশিত মিথ্যার লেবেঞ্চুষ যদি জনগণকে অবলীলাক্রমে চোষানো এত সহজই হত তাহলে ৪ সিটি কর্পোরেশনে ক্ষমতাসীন দলের এই ভরাডুবি হল কেন ? হেফাজত সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে ঢাকায় যায় নি, হেফাজতের ভূমিকা মূলতঃ ইসলামের পক্ষে নিছক ১টি প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই ছিল, পুরোপুরি ধর্মতাত্বিক, রাজনৈতিক নয়, রাজনৈতিক হলে এত মানুষ তাদের সমাবেশে যেতো না। হ্যাঁ নিশ্চিতভাবে কিছু নেতা যারা আগে থেকে প্রথমে ১৮ দলীয় জোটের শরীক দলের নেতা পরে হেফাজতের নেতা এরকম কিছু লোকের উচ্চাভিলাষ হয়তো কাজ করেছে কিছু ভুল সিদ্ধান্তের পেছনে, কিন্তু যোগ্য অভিজ্ঞ কুশলী নেতৃত্বকে সমাধানের দায়িত্ব দিলে রাজনৈতিকভাবেই হেফাজত পরিস্থিতি সুন্দরভাবে ট্যাকল করা যেতো। এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফসল, বিএনপি এখানে ইস্যু না।

     

    '৭১ সালে আইয়ুব খান পরিচালিত গণহত্যার সমালোচনা যেমন ওই সময়ে ডালপালা গজানোর সুযোগ ছিল না কিন্তু পরে ঠিকই মহীরুহে পরিণত হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়ে গিয়েছে। অপেক্ষা করেন আপনার দলের পতনের। তারপর এই গণহত্যার দলিলপ্রমাণও বের হবে, মিডিয়া একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে লুকিয়ে রাখা অবরুদ্ধ দলিলপ্রমাণ বের করবে, আসবে হাজার হাজার সাক্ষী, আজকের মিথ্যাবাদি আসামিদের উপযুক্ত বিচারও এই দেশের মাটিতেই হবে। কিছুকাল তারা আস্ফালন করে নিক, সত্য বেশিদিন গোপন এমনিতেই থাকবে না। আমারব্লগের সাদাতকে মনে আছে ? আপনার বুয়েটের প্রকৌশলি ভাই। উনিও সেই কালো রাতে শাপলা চত্বরে ছিলেন, ওনার শরীরেও গুলি লেগেছিল। ওনার ওয়ালে গেলে দেখবেন প্রত্যক্ষদর্শীর ভীতিকর বর্ণনা আর রক্তাক্ত আবেগ, পুরো মানুষটিকেই পাল্টে দিয়েছে ওই বীভৎস কালো রাত। এই গণহত্যা মামলা আওয়ামী লীগের জন্য কি দীর্ঘস্থায়ী সর্বনাশা অভিশাপ হয়ে যুগের পর যুগ চলতে থাকবে সেটা নিজের চোখে দেখার জন্য আর খুব বেশিদিন মনে হয় না অপেক্ষা করতে হবে, অন্ততঃ শুরুটা দেখার জন্য। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ তো পুলিশ আর ক্যাডারের জোরে চলছে এখন, সময় পাল্টালে দেখেন কয় হাজার মামলা তাদের পেছনে অগুণতি জ্বলন্ত টর্পেডোর মত হামলা করে !

     

    রাতের কথা বাদ দেন কমসে কম ২৫/৩০ জনকে তো ৫ ই মে দিনের বেলাতেই মতিঝিলে যুবছাত্রলীগ আর পুলিশলীগ মিলে মেরেছে, তো রাতের বেলা ১০/১২ হাজার পুলিশ/বিজিবি/রেব আর্মড হয়ে যুবছাত্রলীগ ক্যাডারসহ সেখানে রাত আড়াইটায় কি করতে পারে ? ৫ ই মের পরদিন সুশান্ত দাশগুপ্ত হেফাজতকর্মীদের কানে ধরে হেঁটে যাওয়ার ছবি দিয়ে 'দিনে ঘেউ, রাতে মিউ', চিন্তিত সৈকতসহ আরো কয়েকজন ফেসবুকে মরা গরুছাগলের ছবি দিয়ে বিদ্রুপাত্মক ক্যাপশন দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে নিজের চোখে দেখেছি, এই সুশান্ত/সৈকতরাই থাবা বাবা ওরফে রাজিবের মৃত্যুতে ব্লগে-ফেসবুকে স্বজন হারানোর শোকে দুঃখে উম্মাদের মত আচরণ করেছিল। সুশীল সমাজের 'অনুভূতি' ইসলামপন্থিদের সম্মন্ধে কি সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ৫ ই মের রাতের হাজার হাজার হত্যাকান্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলেও এই সরকারের আমলে যেহেতু সেগুলো বিচারের আওতায় আনার ভাবনা আকাশ কুসুম ছাড়া কিছুই না সেটাও সবাই জানে। কাজেই বিচারের বাণী এই মূহুর্তে নিভৃতেই গুমরে গুমরে কেঁদে যাবে এবং অপেক্ষা করে যাবে নতুন সকালের _ যে দিন একে একে প্রতিটি রক্তের ফোঁটার হিসেব করা শুরু হবে।

     

    আমি বলিনি যে ইসলামপন্থিদের 'সহসা উত্থান' ঘটবে, আমি বলেছি সংগঠিত হতে সময় নেবে। এই সময়টা ১০/১৫ বা ২০ বছর হতেই পারে বিচিত্র না। হেফাজতের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই কারণ আমার ভালই জানা আছে যে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যতই ধর্মীয় যোগ্যতা রাখুন না কেন জীবনে মাদ্রাসার চৌহদ্দির বাইরে খুব একটা যান নি, সমাজ-রাজনীতির জটিলতা-গোলকধাঁধা সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতাও তাদের নেই। অবশ্য বাস্তববুদ্ধির কিছুটা অভাব থাকলেও অনেক ভাল ভাল গুণও আছে যেমন ধৈর্য-সহিষ্ণুতা-শৃঙ্খলা-আনুগত্যের মত মূল্যবান যোগ্যতা। আর চিকিৎসক-প্রকৌশলি-আমলা-বুদ্ধিজীবি-সরকারী চাকরিজীবি-কর্মজীবি-ছাত্র-শিক্ষক-সামরিক বাহিনী তথা সর্বস্তরের সর্বশ্রেণীর যে পরিমাণ যোগ্যতাসম্পন্ন লোক তাবলীগে আছে আর কোন দলেই তা নেই _ এটা বোধহয় ব্যাখ্যার কোন প্রয়োজন নেই। আমার কমেন্টে আগেই বলেছি যে 'তাবলীগ জামাত' এর ভেতর থেকেই নেতৃত্ব উদ্ভূত হবার সম্ভাবনা। তাবলীগ যেভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে সর্বস্তরে, এমনকি বুয়েটেও আপনি নিজেই দেখে থাকবেন, কানাডা-আমেরিকা-ইউরোপের কাহিনী আর এখানে আনলাম না _ বাংলাদেশেরই সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যভাবে এটি সম্প্রসারিত হয়ে চলেছে বিপুল বেগে। এনাদের সাথে হেফাজতের আদর্শিক মিল রয়েছে অনেক দিক দিয়ে এবং এগুলোই বাংলাদেশে ইসলামের মূলধারা, যা সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহৎ, যদিও অসংগঠিত। আবার অসংগঠিত এই অর্থে ধরতে হবে যে এরা ঠিক 'রাজনৈতিক' নয়, খাঁটি ধর্মতাত্বিক, ধর্মতাত্বিক সংগঠন হিসেবে খুব ভালভাবেই সংগঠিত। এদের সাথে জামাতের মৌলিক আদর্শগত দিক থেকে এতটাই বৈপরিত্য রয়েছে যে 'মেলবন্ধন' যাকে বলে জামাতের সাথে কখনোই হবার সম্ভাবনা নেই, আদর্শিক-তাত্বিক সাংঘর্ষিক কারণে। এরা কখনোই জামাতের আদর্শে যাবে না, জামাতে বিলীন হবে না, তবে কখনো যদি জামাত 'মওদুদিবাদ' পরিত্যাগ করে জামাত এদের সাথে একীভূত হতে পারলেও নেতৃত্বে যেতে পারবে না। একসময় জামাত হয়তো এনাদের নেতৃত্ব মেনে নেবে বা মেনে নিতে বাধ্য হবে পরিস্থিতির চাপে, এনারা কখনোই জামাতের নেতৃত্ব মানার কোন সম্ভাবনাই নেই। হেফাজত বা তাবলীগ জামাত কেউই প্রথাগত রাজনীতিতে আসেন নি বা আদৌ আসবেন কি না সেটা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবে না। আবার প্রথাগত রাজনীতি না হলেও আসতে পারবেন না একথাও বলা যায় না। আমি এখানে পদ্ধতির কথা বলছি, অভ্যুত্থানের কথা বলছি না। পদ্ধতি ভিন্ন হতেই পারে যা এখনো আমাদের ধারণায় নেই। তবে আলটিমেটলি এনারা যে চলে আসবেন তাতে কোন সন্দেহই নেই। তার আগে পর্যন্ত এনারা অব্যাহতভাবে প্রভাব বিস্তার করতে থাকবেন ও সম্প্রসারিত হতে থাকবেন বলে মনে হয়। যেমন ধরুন এখন সংখ্যাধিক্যের কারণে বাংলাদেশে টঙ্গির ইজতেমা ২ টো হচ্ছে। ১০ বছর পর হয়তো জেলায় জেলায় হবে, সংখ্যাধিক্য স্থান অসংকুলান ইত্যাদি কারণে জেলায় জেলায় হওয়া কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার না, এরকম কয়েকটি দেশে হচ্ছে। 'ইসলামপন্থি' অতি দ্রুতবেগে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আমি স্বীকার করি যে এই মূহুর্তে ইসলামিক শাসনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবে আসলেই প্রস্তুত নয় _ এটিই বাস্তবতা। তবে আশা করা যায় ১০ বা ২০ বছরের মাঝে সেটা হয়ে যাবে, ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পছন্দ করা মানুষের সংখ্যা ততদিনে আরো অনেক বেড়ে যাবে বলেই মনে হয়। তার জন্য যে পদ্ধতিগতভাবে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ নীরবে চলছে তার স্বাভাবিক ফলস্বরুপই সেটা হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, হেফাজতের সমাবেশে বিশাল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যা সবাইকেই চমকে দিয়েছিল সেটি আসলে নীরবে চলতে থাকা বিশাল পদ্ধতিগত কর্মযজ্ঞেরই একটি 'অপরিণত' অসময়ের আচমকা স্ফুলিঙ্গ। কর্মযজ্ঞের কারিগরদের সার্বজনীন সমন্বয় ছাড়াই যা আসলে ঘটে গিয়েছিল।

     

     

    হেফাজতের ৬ ই এপ্রিলের কর্মসূচী সম্পূর্ণ ধর্মতাত্বিক কর্মসূচী ছিল, যেহেতু সর্বস্তরের মুসলিম জনগণের উপস্থিতি নিশ্চিত হবার মতোই ইস্যু ছিল সেজন্যে সব দলের মুসলমানরাই সেখানে যোগ দিয়েছিল। পরে কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের কারণে 'তথাকথিত' মহলের কিছু কিছু সমালোচনা হেফাজতের ঘাড়ে এসে পড়ায় পরেরটাতে, অর্থাৎ ৫ ই মের সমাবেশে তাদের এড়িয়ে চলার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিল। এমনকি সাধারণ হেফাজতকর্মীরাও জামাত-বিএনপির ছোঁয়াচ পর্যন্ত বাঁচিয়ে চলতে চেয়েছিল। বিএনপি বরং হেফাজতের ক্ষতি করেছে বলতে হবে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা-পৃষ্ঠপোষকতা যেমন গণজাগরণ মঞ্চের সর্বনাশ করেছে তেমনি হেফাজতের নেতারাও কখনো চান নি রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট হয়ে আন্দোলন গ্রহণযোগ্যতা হারাক, এটা তাঁরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন। যে কোন রাজনৈতিক দলের চেয়ে ইসলামপন্থি মূলধারার সংগঠকরা অনেক সুশৃঙ্খলভাবে অনেক বড় বড় সমাবেশ-কর্মসূচী সাফল্যজনকভাবে আয়োজনে সমর্থ এটা এই দেশে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা বা ৬ ই এপ্রিলের হেফাজতের সমাবেশ তাই প্রমাণ করে। কিন্তু ১৮ দলীয় জোটের ছোট ছোট শরিক দলের কিছু নেতা যারা পরে হেফাজতেরও নেতা হয়েছিলেন, যেমন ইসলামী আন্দোলন-খেলাফত মজলিস এই জাতীয় কিছু নেতা, ওনারাই বিএনপি-জামাত জোটের সাথে লিয়াঁজো করেন যার সম্পর্কে হেফাজতের অরাজনৈতিক মূল নেতৃত্ব ঘটনাচক্রে বিভ্রান্তিকরভাবে সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ হারান। ১ম সমাবেশ ৬ ই এপ্রিলেরটিতে রাজনৈতিক কোন এসোসিয়েশন ছাড়াই কিন্তু অনেক ভালভাবে হয়েছিল। যাই হোক ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে, কাজেই আমি আশা করি পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুলভ্রান্তিগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করবেন এবং সংশোধিত হয়ে নতুনভাবে চলার পথ তৈরি করে নিতে সচেষ্ট হবেন। তারা ইতিমধ্যে সে ধরণের সংশোধনবাদি কিছু পদক্ষেপ নেয়ার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে, হেফাজতের আভ্যন্তরীন মূল পরামর্শে ঢাকার সেই ১৮ দলীয় জোটের 'রাজনৈতিক নেতৃত্ব' দের হেফাজতের সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথাও শোনা যাচ্ছে।

    1. 17.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ১ম সমাবেশ ৬ ই এপ্রিলেরটিতে রাজনৈতিক কোন এসোসিয়েশন ছাড়াই কিন্তু অনেক ভালভাবে হয়েছিল। যাই হোক ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে, কাজেই আমি আশা করি পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুলভ্রান্তিগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করবেন এবং সংশোধিত হয়ে নতুনভাবে চলার পথ তৈরি করে নিতে সচেষ্ট হবেন। তারা ইতিমধ্যে সে ধরণের সংশোধনবাদি কিছু পদক্ষেপ নেয়ার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে, হেফাজতের আভ্যন্তরীন মূল পরামর্শে ঢাকার সেই ১৮ দলীয় জোটের 'রাজনৈতিক নেতৃত্ব' দের হেফাজতের সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথাও শোনা যাচ্ছে।

       

      -- ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্যে। আমিও নিজেও তবলীগ জামাতে সাথে যুক্ত -- আমার এপার্টমেন্টে প্রতি রোববার বয়ান এবং গাস্থ হয়। সেইটা ভিন্ন বিষয়। বাংলাদেশ কেন সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন চালু হউক -- এর চেয়ে বড় চাওয়া কি আর হতে পারে। আমি নিজেও চাই বাংলাদেশ কেন বিশ্বের বিপর্যস্ত শাসন ব্যবস্থাকে দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হউক ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দ্বারা। 

       

      হেফাযত যে ভুল গুলো করেছে তার জন্যে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে -- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কথা বলার মানে এই না যে বর্তমান সরকার সব কিছুই সঠিক করেছে। তারাও হয়তো ভিন্নভাবে বিষয়গুলো মিমাংসা করতো পারতো। কিন্তু আমি যুদ্ধের নীতিনৈতিকতা নিয়ে খুব একটা কথা বলি না -- কারন যারা যুদ্ধে যায় -- তারা জেনেশুনেই যায় -- তার ফলাফল গ্রহন করার মতো পরিকল্পনা আর মেধা থাকাটাই গুরুত্বপূর্ন। 

       

      যাই হোক -- ভিন্ন প্রসংগ বলি। এমবিসি একটা ডকুমেন্টারী মুভি বানিয়েছে -- নাম ওমর -- যদি সুযোগ হয় দেখবেন। 

       

       

      1. 17.1.1
        আহমেদ শরীফ

        বাংলাদেশ কেন সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন চালু হউক – এর চেয়ে বড় চাওয়া কি আর হতে পারে। আমি নিজেও চাই বাংলাদেশ কেন বিশ্বের বিপর্যস্ত শাসন ব্যবস্থাকে দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হউক ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দ্বারা। 

         

        এটাই হল আসল কথা। আমার প্রথম এবং সর্বশেষ চুড়ান্ত পরিচয় 'আমি মুসলিম'। সারা বিশ্বে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোক সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে, ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তর জ্যোতির্ময় হোক এটাই হতে হবে একজন মুসলমানের অন্তরের চাওয়া।

        আল্লাহ ও রাসূল(সাঃ) এর প্রশ্ন যখন আসবে তখন একজন ঈমানদারের সামনে আর কোন চেতনার অস্তিত্বই থাকতে পারে না, যদি সে খাঁটি ঈমানদার হয়। নিজের ক্বাওম, নিজের মাতৃভূমি, নিজের মাতাপিতা, নিজের স্ত্রীপুত্র, নিজের মালসম্পদ এমনকি নিজের প্রাণ অপেক্ষা অধিক প্রিয় হতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ)। এটাই ঈমানদার বা মু'মিন হওয়ার শর্ত।

        মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার নিজের জায়গাতেই থাকবে, ইসলাম নিয়ে ধর্মব্যবসায়ীরা যেমন আসলে নিজেরাই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় একসময় কিন্তু প্রকৃত ইসলামের চেতনাকে ম্লান করতে পারে না _ তেমনি নিজেদের অপকর্মের কারণে দলবিশেষ যদি মুক্তিযুদ্ধের অভিভাবকত্ব হারায়ও, তাতে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার কোন ক্ষতি হবে না বরং সেটি বাঙ্গালির মানসজগতের গগনে গগনে স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকবে।

        অন্য যেকোন আন্দোলনের মতোই হেফাজত আন্দোলনেরও ভুলত্রুটিগুলো থেকে হেফাজতকর্মীরা, ইসলামপন্ঠিরা অবশ্যই শিক্ষাগ্রহণ করবে, ভুল সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ইসলামপন্থিরা নিজেরা এবং ইসলামের মূল আন্দোলনের সূচনা হল মাত্র বাংলাদেশে। এটি পরিণত হয়ে উঠতে সময় অবশ্যই নেবে, বিকশিত হবে দিনে দিনে।

         

        আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল্লাহর দ্বীনের জন্য কবুল করুন। আমিন।

  13. 16
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ১১

    সাদাত

    জুন ২৯, ২০১৩ at ৫:০৮ অপরাহ্ন (UTC 6) | Delete | Spam | (Edit commentLink to this comment

    Reply

    ১. জিয়া সাহেব তার পোস্টে ধারণাপ্রসূতভাবে আমাকে হেফাজতের “কর্মী” বলেছেন। অথচ হেফাজতের নেতা-কর্মীরা হচ্ছেন কওমি মাদারাসার শিক্ষক-ছাত্রগণ। আমি অবশ্যই হেফাজতের “সমর্থক”, তবে কর্মী নই। আমি যেহেতু জিয়া সাহেবের পোস্টে কমেন্ট করা হতে বিরত রয়েছি, তাই এই পোস্টে সেটা পরিষ্কার করলাম।
    ২. BAL এর নেতারা এতদিনে বুঝতে শুরু করেছে হেফাজত কী, BAL এর অন্ধ সমর্থকরা সেটা আরেকটু পরে বুঝতে পারবে।
    ৩. শাপলা চত্বরে শহিদ ২০০ জনের নাম এসেছে, এখন বলা হচ্ছে ২৫০০ জনের নাম কই? বিশ্বাস করেন ২৫০০ কেন ২৫০০০ এর নাম এলেও BAL এর আন্ধা সাপোর্টারদের তোশামুদি যুক্তির অভাব হবে না, মনোভাবেরও কোন পরিবর্তন হবে না।

     

     

    ——-

     

    সাদাত কেন আমার পোস্টে কমেন্ট করা থেকে বিরত রয়েছেন তার কারন জানি না। তবে এইটুকু বুঝি একটা চরমপন্থী চিন্তুা উনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। যদি আমার উনার আগে অবস্থান দেখি বিশেষ করে রসুল(সঃ) এর সন্মান রক্ষার জন্যে যে পদ্ধতি উনি ভাবতেন এখন তা থেকে সরে গিয়ে আ্‌ইন করে মৃত্যুদন্ডের জন্যে রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে সক্রিয় সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। বলাই বাহুল্য উনার অবস্থানের অসহিঞ্চতার বিরাট একটা ছাপ পাওয়া যাচ্ছে। 

     

    বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নামটি উচ্চারনের উনার এখন অনীহা এবং উনি বিষয়টা অশ্লীলতার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে BAL  বলে যাতে নিজের ঘৃনা প্রকাশটা আরো জোড়ালো হয়। যাই হোক একজন সহযোদ্ধা হিসাবে উনাকে ধৈর্য্যের বিষয়গুলো আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই। 

     

    ইসলাম সকল কাজের জন্যে যথাযথ বিধান দিয়েছে -- যেমন প্রতিশোধ নেবারও বিধান আছে -- কিন্তু সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ধৈর্য্য ধারন আর ক্ষমার বিষয়ে। তবে মজলুমের অধিকার হিসাবে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। 

     

    উনি নিজেকে হেফাযতের সমর্থক হিসাবে দাবী করছেন -- কিন্তু যিনি কর্ম করেন উনিওতো কর্মী -- হেফাযতের সমাবেশের স্বশরীরে অংশ নেওয়া হিসাবে উনাকে কর্মী হিসাবেই চিন্তা করেছি। 

    সাদাতের কাছে প্রশ্ন -- আওয়ামীলীগের কবর দেন ঠিকাছে -- তবে আপনারা ঈমান রক্ষার আন্দোলনের মাঝে আমাকে বিচারে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জণ্যে যেভাবে দাবা গুটি হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছেন -- তার দায় মুক্তির কি হবে? 

  14. 15
    আহমেদ শরীফ

    ধর্মনিরপেক্ষ মূলধারা ও আওয়ামী রাজনীতি-বাম ঘরানার নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা-সংষ্কৃতির শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণীনির্ভর যে অচলায়তন, সেটিকে প্রথাগত আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দূর্বল করা অনেক সময়সাপেক্ষ ও কঠিন ছিল। ৫ ই মের শহীদদের প্রবাহিত শোণিতধারা সেই মূলধারার মর্মমূলে মর্মান্তিকভাবে কুঠারাঘাত করেছে এবং পথটি অনেক সহজ-সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছে। কাজেই এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না এবং আমি বলাই পছন্দ করি যে ৫ ই মের রাতে আসলে আওয়ামী লীগ ও সমমনা চেতনা আত্মহত্যা করেছে, রক্তসিঞ্চনে নবজীবন পেয়ে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে আসলে ইসলামপন্থি ধারা।

     

    কোন যুক্তিতে বা কোন উপায়ে এই অবিশ্বাস্য গণহত্যাকান্ড যদি 'জাস্টিফাই' করা যেত _ আজ আওয়ামী লীগারদের চেয়ে খুশি কেউ হত না। কিন্তু তার কোন উপায় নেই। 'ঘটনা' লুকানোরও কোন উপায় নেই আর এই ভয়াবহ দায় এড়ানোরও কোন উপায় নেই। এটা তো এক কালান্তক অভিশাপ এখন, অমোঘ নিয়তির মত।

     

    অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা প্রচুর ছবি অনেকের কাছেই আছে। মোবাইলের এই যুগে ছবি/ভিডিও প্রমাণ অবশ্যই আছে, থাকবে। সেগুলো আমার মনে হয় ধীরে ধীরে একসময় ঠিকই প্রকাশ্যে আসবে এবং জাতি শিউরে উঠবে এই ভেবে যে এরকম অবিশ্বাস্য গণহত্যা স্বাধীন বাংলাদেশে সত্যি ঘটেছে। ৫ ই মের পর থেকে সিচুয়েশন এত ভয়ংকর হার্ডলাইনে চলে গিয়েছিল যে ঘটনার আকস্মিকতায় সরকার/পাবলিক উভয়েই ছিল চরম দিশেহারা। কি করা উচিত, কি করলে প্রতিক্রিয়া হবে এইসব সুস্থ মাথায় হিসেব করার অবস্থাই কারো ছিল না। একদিকে সরকার প্রাণপণে ব্যস্ত গণহত্যার 'সংখ্যা' লুকাতে, অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী জীবিত আহত/প্রত্যাবর্তিত ভিকটিমরা সর্বত্র পুলিশি অত্যাচার/রেইড/গ্রেপ্তার সামলাতে ব্যস্ত। যেখানে গণমাধ্যম থেকে আদালত সর্বত্র সরকারের ভয়াবহ নির্বিচার হিংস্র বজ্রকঠোর নিয়ন্ত্রণে এক অভূতপূর্ব রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি, সেখানে কোন আদালতে বা 'পুলিশ' এর কাছে অভিযোগ জানালে আদৌ কোন সুরাহা হবে _ এ বিশ্বাস স্বভাবতঃই পাবলিকের ছিল না। ১ লাখ লোককে আসামি করে দেয়া হয়েছে মামলা।

     

    যাই হোক। কাজ ভেতরে ভেতরে চলছে এবং আমি বিশ্বাস করি যে সত্যিকার প্রমাণগুলো এখনো অপ্রকাশ্য। পট পরিবর্তনের সাথে সাথে সেগুলো প্রকাশিত হওয়া শুরু করবে। হেফাজতে ইসলাম ও আরো কিছু কিছু সংস্থা কিছুদিন ধরে অনুসন্ধান করে প্রায় ২০২ জনের নামঠিকানাসহ জোগাড় করেছে যারা ৫ ই মে, ২০১৩ মতিঝিল শাপলা চত্বরে নিহত হয়েছিলেন। 'অধিকার' নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা কাজ করছে। উল্লেখ্য, অনেক এতিম শিশু যারা অভিভাবকহীন, গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সাধারণ ধর্মভীরু মানুষ যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের লাশ পাওয়া গেছে 'ধর্মীয় উত্তেজনা' সৃষ্টির আশংকায় বড় কোন জায়গা তাদের জানাজাও করতে দেয়নি পুলিশ, অনেককে মাদ্রাসাতেই দাফন করা হয়েছে গ্রামের বাড়িতে লাশ নিতে দেয়া হয় নি তাও ঐ একই অজুহাতে। শুধু বাংলাদেশের একজন মানুষ হিসেবে যদি দেখেন, নজিরবিহীন গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ আপনি দেখতে পাবেন, আর যদি 'ধর্মনিরপেক্ষ'/আওয়ামী/শাহবাগি চশমার ঠুলি এঁটে দেখেন _ নিহতদেরকে বাংলার সাধারণ মানুষ নয়, 'ধর্মান্ধ' 'জঙ্গি' বলে মনে হবে।

     

    সারাদিন যদি তান্ডব হয়ে থাকে সেটির ১০০% না, ১০০০% দায় যুবলীগ/ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী পান্ডাদের। যারা উস্কানি দিয়ে, হামলা করে মানুষ মেরে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে জড়ো হওয়া নিরীহ মানুষগুলোকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিল। সাথে ছিল অনবরত গুলি করতে থাকা পুলিশ লীগ। সেগুলোর ফুটেজ তো গণমাধ্যমেই এসেছে, সেগুলোর বিচারও হবে একদিন। বুকে হাত দিয়ে বলেন যদি নিজের চোখে ফুটেজ টিভিতে দেখে থাকেন _ এঁকেবেঁকে নানান স্টাইলে অজস্র গুলি প্রকাশ্যে পুলিশে পাশে দাঁড়িয়ে যুবলীগ/ছাত্রলীগ করে নাই ? গরুর মত পিটিয়ে পিটিয়ে আলেমওলামাদের দিনের বেলাতেই হত্যা করে নাই ? না দেখে থাকলে বলেন লিংক আপনার ইনবক্সে দিয়ে দেব। ৬ ই এপ্রিল বাংলাদেশের স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে করে যাওয়া অরাজনৈতিক হেফাজত যে নতুন নজির দেশের ইতিহাসে সৃষ্টি করেছে _ তারা 'তান্ডব' চালিয়েছে, কোরআন পুড়িয়েছে এইসব ডজনখানেক গাঁজার ছিলিম টেনে প্রায় বেহুঁশ না হলে কারো পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব না।

     

    'অধিকার' এর তত্বাবধানে অনুসন্ধিৎসু প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ যাতে কিছু তথ্যপ্রমাণ আছে সেটির পিডিএফ লিংক দিচ্ছি _ নামিয়ে দেখুন।

    http://www.odhikar.org/documents/2013/FF_Report_2013/Hefazat_e_islam/Fact%20finding_Hefazate%20Islam_Bangla.pdf

     

    প্রতিবেদনটির আংশিক এখানে দিলাম। এখনো প্রকাশ পায়নি যখন পাবে, '৭১ এর গণহত্যার জন্য কাঁদতে থাকা এই আপনাদেরও আরো বেশি কাঁদতে হবে ৫ ই মের নিহতদের জন্য অচিরেই একদিন, অবশ্য মানবতাবোধ যদি হারিয়ে গিয়ে না থাকে।

    অনন্যা সুলতানা নিহত সাইদুল বারীর খালাতো বোন : ৭ ই মে ২০১৩ বিকাল আনুমানিক ৩ টায় মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খালাত ভাইয়ের লাশ খুঁজে পান। তিনি দেখেন লাশের মাথার পেছনের অংশ শক্ত ও ভারী অস্ত্রের আঘাতে থেঁতলে গেছে। মাথার সামনের অংশে চাইনিজ কুড়ালের ২ ইঞ্চি লম্বা কোপের দাগ ছিল এবং থুতনির নীচে আরেকটি কোপের দাগ ছিল, যাতে থুতনির নীচে চিবুকসহ সামান্য অংশ কেটে যায়। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, ৫ ই মে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় কয়েকজন হেফাজত কর্মী মৃত অবস্থায় সাইদুলের লাশ নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে সাইদুলের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার গালতা থানার ইউসুফদিয়া গ্রামে নিয়ে সেখানকার পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।

     

     

     

  15. 14
    আহমেদ শরীফ

    আমি আপনাকে অনুরোধ করব কিছুক্ষণের জন্যে হলেও হেফাজতের আন্দোলনকে 'ধর্মতাত্বিক' দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য, রাজনীতি-লীগ-বিএনপি-জামাত এসব হিসেব একদম বাদ দিয়ে। তাহলে হয়তো আশা করা যায় হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের আধ্যাত্মিক পরিপ্রেক্ষিতটা 'অনুধাবন' করতে উপলব্ধিতে সহজেই ধরা দিতে পারে। এখন লীগের কি অবস্থা হয়েছে, বিএনপি কি সুবিধা নিল এসব বাদ দিয়ে চিন্তা করেন।  

    হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ বা লংমার্চে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ কর্তৃক স্মরণকালের বৃহত্তম স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কিসের দাবিতে কিসের ভিত্তিতে হয়েছিল ? মূলতঃ কিছু ব্লগারের লেখালিখিতে বীভৎস ইসলাম ও রাসূল(সাঃ) এর অবমাননার জন্য। এসব অপতৎপরতা শুধু নিরীহ লেখালিখির সাথেই নয়, মুসলিম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাংষ্কৃতিকভাবে ঢুকিয়ে দিয়ে সর্বনাশ করা হচ্ছিল, বাবু সংষ্কৃতির এজেন্ট রাম-বামেদের মিশন অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। আমরা ইসলামপন্থি ব্লগাররা, আপনি নিজে বাংলাব্লগে এত বছর ধরে শত কাঁটার আঘাত সয়ে রক্তাক্ত হয়ে কিসের জন্য লড়াই করলাম ?

  16. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    হেফাজতের সমাবেশে যোগদানকারীদের এক বিরাট অংশ কিন্তু তাবলীগ জামাতের লোক, যদিও 'আনওফিশিয়ালি'। এছাড়া 'চরমোনাই' ও অন্যান্য সমমনা কিছু দলও আসতে পারে। আমার ধারণা মূল নেতৃত্ব যথাসময়ে তাবলীগ জামাতের ভেতর থেকেই উদ্ভূত হবার সম্ভাবনা। যেহেতু সেটা এখনো কোন আকার নেয় নি বা কোন নামও নেই, সেটা যথাসময়ে সময়ই বলে দেবে ঠিক কোন নামে কখন তারা আসবে। তবে আজ হোক কাল হোক, আসবে যে তাতে সন্দেহ নেই। তারা যখন আসবে তখন অবস্থা হবে জাস্ট 'ভিনি-ভিডি-ভিসি'। তাদের মোকাবেলা করে কেউই কুলিয়ে উঠতে পারবে না, বলা ভাল 'দাঁড়াতে' পর্যন্ত পারবে না।

     

    আপনার কথা সত্য। তবে বর্তমানে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেনর মাঝে রাজনীতিবিদ বিশেষ করে জামাতের প্রতি সহানূভুতিশীল লোকজন যথেষ্ঠ প্রভাবশালী -- আর মাওলানা শাফির শাররীক সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে এরা হেফাযতকে সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়ে বিএনপি-জামাত জোটের প্রতি সাময়িক ভাবে টেনে দিয়েছে। সেইটার প্রতিক্রিয়া কতটুকু যাবে সেইটাই দেখার বিষয়। 

    আগেও বলেছি -- হেফাযতের উচিত ছিলো একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা -- তা না করে বিশাল শক্তিকে এরা অন্যের ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করে রেখেছে। শুধু মাত্র কৌশলে যার বিজয়ী হবে তারাই হেফাযতের সমর্থণ পাবে -- এখানে আর কোন নৈতিক বিষয় নেই। 

  17. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আহমেদ শরীফ 

     

    হয়তো আপনার কথাই ঠিক। আমি হয়তো ভুল করছি। কিন্তু হেফাযতের প্রতি কোন ভাবেই আবেগ আপ্লুত হতে পারছি না। কারন তারা আজই নিজের পায়ে দাড়ানোর মতো মেধা-বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারেনি। এখন আপনি আনন্দে আত্নহারা হচ্ছেন আওয়ামীলীগ ডুবে যাচ্ছে -- কিন্তু তাদে ইসলামের কতটুকু হেফাযত হচ্ছে তা বুঝতে অপরাগ। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে হেফাযতকে ব্যবহার করার একটা সুযোগ পেয়েছে -- অন্য সময় আওয়ামীলীগ তাদের ব্যবহার করতো -- এই কথাগুলো কোন ভাবেই সন্মানজনক নয়। 

     

    আমি শুরু থেকেই এই আশংকা করে আসছি -- হেফাযতের আন্দোলনের কারনে রাজনীতিকে নতুন মেরুকরন হবে -- হেফাযত ইসলাম রক্ষার কথা ভুলে গিয়ে এখন ক্ষমতার বদলের হাতিয়ার হিসাবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে -- আপনার ভাষায় আওয়ামীলীগ পায়ে ধরবে হেফাযতের -- তাতে কি আওয়ামীলীগ ভাল হয়ে যাবে। 

    বাংলাদেশের ইতিহাস মেরামতের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো যুদ্ধাপরাধের বিচারে মাধ্যমে হেফাযতের ঈমান রক্ষার আন্দোলনের আড়ালে তা ভেস্তে যাবে -- বিচার প্রার্থীদের বিচার বঞ্চিত করার প্রক্রিয়ার হেফাযত যে ভুমিকা রাখলো তার জন্যেও তাদের জবাবদীহি করতে হবে। 

    শেষ কথা হলো -- কে ক্ষমতায় যাবে -- কে ক্ষমতাশালী হবে তার নিশ্চয়ই আল্লাহ থেকে নির্ধারিত হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শুধু আমরা আমাদের কার্যকলাপের মাধ্যেম আমাদের ঈমানের পরীক্ষাই দিয়ে যাচ্ছি। 

  18. 11
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আল্লাহ আমাকে সকল অহংকার থেকে মুক্ত রাখুন। 

    আমি যে পরিপূর্নভাবে সঠিক অবস্থানে আছি সেই রকম দাবী আমি করছি না। তবে শুরু থেকেই হেফাযতের কর্মসূচী এবং তাদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহারের যে সম্ভাবনার কথাটা ভেবেছি তাই সত্য হতে যাচ্ছে -- তার জন্যে দুঃখিত। 

     

    ৫ই মের ঘটনার বিষয়ে আমি আগেই বলেছি -- এই ধরনের ঘটনা না ঘটাটাই ছিলো সবচেয়ে ভাল। দুই দল যখন মুখোমুখি হয়ে যায় -- তারা পরষ্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় -- তখন সেখানে নীতি নৈতিকতার কতটুকুই বাকী থাকে। যুদ্ধের ফলাফল জয় অথবা পরাজয়। একজন সেনাপতি যে বিজয়ের জন্যে পরিকল্পনা করে -- তেমনি পরাজিত হলে কি করতে হবে তারও পরিকল্পনা থাকে। হেফাযতের নেতারা কি ভাবেনি যে তাদের কঠোর অবস্থানের সম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে -- বিশেষ করে মতিঝিলের মতো জায়গায় -যা পুঁজির মুল কেন্ত্র -- যেখানে প্রতিটি কর্মঘন্টা ব্যয় হয় লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার সন্ধানে -- যার সাথে জড়িয়ে আছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। শুধুমাত্র একদল কুটিল রাজনীতিবিদদের কারসাজিতে হেফাযত যে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলো রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে তার পরিনতি নিয়ে অভিযোগ করার মাঝে কোন সুবিবেচনা প্রসুত পরিকল্পনার ছাপ দেখছি না। হেফাযতের কর্মীদের পরিনতিতে দুঃখ পেয়েছি কিন্তু তাদের পাশে দাড়ানোটাকে সুবিচনার অংশ মনে করছি না।  

     

    উপরে যে কোরানের আয়াত দিয়েছি তার মধ্যে একটা অতিগুরুত্বপূর্ন কথা আছে। মুলত সুরার নামটাও এই কথা থেকেই এসেছে। এই কথাটা গুরুত্বপূর্ন এই কারনে যে আমাদের মাঝের পারষ্পারিক মতপার্থক্য এবং ভিন্নমুখী অবস্থান থেকে যে বিবাদ বিসংবাদ তৈরী হয় তার থেকে মুক্তি একটা সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা আছে এই আয়াতে -- যা ব্যক্তি জীবন -- পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য -- 

    And those who have responded to their lord and established prayer and whose affair is [determined by] consultation among themselves, and from what We have provided them, they spend.(৪২:৩৮) 

     

    এখানে দেখতে পাচ্ছে শো'রা বা পরামর্শ করা হলো মুমিনতের বৈশিষ্ট্য। যে দেশের ৯০% মানুষ মুসলিম হিসাবে দাবীদার তারা কেন পরষ্পরের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করবে -- কেন তারা আলোচনার মাধ্যমে তাদের মাঝের মতপার্থক্যগুলো কমিয়ে আনতে পারে না। নিশ্চয়ই কোথাও গলদ আছে আমাদের বুঝের মাঝে। 

     

  19. 10
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সেক্ষেত্রে সবিনয়ে পাল্টা প্রশ্ন _ চোরের জায়গায় আরেক চোর বা 'ডাকাত' আসতে পারে সেজন্যে ধরা পড়া প্রমাণিত চোরকে কি সসম্মানে আবার 'অধিষ্ঠিত' করে চুরির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়াই সমাধান ?

    যদিও এবারের টার্মের ক্ষমতাসীনদের 'চুরি-ডাকাতিকৃত অর্থের পরিমাণ' স্মরণকালের ইতিহাসে সর্বাধিক বলে বিভিন্ন পরিংসখ্যানে প্রকাশিত। সেক্ষেত্রে অভিধাটি রিভার্স হয়ে যাবে। ডাকাতের জায়গায় 'চোর' হবে চোরের জায়গায় 'ডাকাত'।

     

    আহমেদ শরীফ 

     

    এইটা আপনার অত্যন্ত দামী প্রশ্ন। তাবে তার উত্তর অনেকভাবে দেওয়া যায়। আওয়ামীলীগ সংগত কারনেই হেফাযতের নেতাকর্মীদের বিরাগভাজন হয়েছে। সেই রাগের প্রতিফলন যদি বিএনপি-জামাত জোটকে ভোটে জিতিয়ে এনে হেফাযত প্রতিশোধ নিতে চায় তবে তাদের কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরী -- 

     

    বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে হেফাজতের ১৩ দফার কি হবে? 

    বিএনপি -- জামায়াতের ৫ বছরের এজেন্ডা কি -- এরা কি হাওয়া ভবন বা ২১ এ আগষ্টের  মতো ঘটনাগুলোর জন্যে লজ্জিত কি না? 

    আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো বিচার -- যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যুতে জামায়াতের অবস্থানের প্রতি আলটিমেটলী হেফাযত সমর্থণ দিয়ে দিচ্ছে কি না? 

    আগামী দিনে হেফাযতের ভুমিকা কি হবে -- বিশেষ করে বিএনবি জামাতের সরকারে -- সেখানে কি হেফাযতের ভিতরে থাকা কিছু জামাতের এজেন্টরা মন্ত্রী বা এমপি পদ নিয়ে পাঁচবছর সরকারে সকল কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়ে যাবে -- আর ১৩ দফাকে ভবিষ্যতের জন্যে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসাবে আবারো ব্যবহার করা হবে। 

     

    আমি কোন ভাবেই বলিনি আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় থাকার জন্যে হেফাযতকে ভোট দিতে হবে -- বিষয়টা কেন ভিন্ন ভাবে ভাবছি না -- কেন হেফাযত নিজেই একটা রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না -- সংসদের যদি হেফাযতের ১জন এমপিও নির্বাচিত হয়ে যেতে পারে তার কন্ঠস্বর কয়েকডজন বিএনপি-জামাতের দয়ায় এমপি হওয়ার চেয়েও শক্তিশালী হবে। 

     

    ভাল ভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন হেফাযতের এপ্রিলে বিরাট জনসমাবেশ করে একটা বার্গেনিং ক্ষমতা অর্জণ করেছিলো -- সেই বার্গেনিং পাওয়ারকে ব্যবহার করে সরকার এবং বিরোধীদলের উপর চাপ সৃষ্টি করে -- বিশেষ করে ভোটের রাজনীতিতে বিরাট প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দাবীগুলোর প্রতি সমর্থণ নিতে পারতো। যেমনটা দেখেছি আওয়ামীলীগের সাথে ইসলামী দলের একটা অংশের চুক্তি হয়েছিলো -- যার সুবাদে আওয়ামীলীগ কোরান সুন্নাহ বিরোধী আইন না করার বিষয়ে অংগীকার থেকে এখনও সরে যায়নি।

     

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে নিঃশর্ত আত্নসমর্পন করে কি হেফাযত তাদের বার্গেনিং পাওয়ারটা নষ্ট করে দিলো কিনা? তারা নিজস্ব অবস্থানে থেকে কি তাদের দাবী আদায় করতে পারতো কি না?

     

    আপনার আবেগটা বুঝি -- কিন্তু আবেগ দিয়ে বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রন করা যায় না। অতি আবেগের ক্ষতিকর দিক হলো তারা অন্যের দ্বারা ব্যবহূত হয়ে যেতে পারে সহজেই। হেফাযতের অতি আবেগের ফলাফল তুলবে কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে -- তারা প্রথম কাজটাই করবে ২১ এ আগস্টের বিচার বন্ধ করে -- খালেদার দুই ছেলের সকল চুরি চামারির মামলা বাতিল করবে -- অন্যদিকে জামাত যুদ্ধাপরাধের বিচারকে নষ্ট করবে -- যার দায় কিন্তু হেফাযতের উপর আলটিমেটলী গিয়ে পড়বে। এতে আওয়ামীলীগ আবারও লাভবান হবে -- কারন একটা বিশৃংখল দল হিসাবে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে আবারো অরাজক পরিবেশ তৈরী করবে -- আর জামাতের অতি তৎপড়তায় মানুষ বিরক্ত হবে -- তাতে মানুষ আবার আওয়ামীলীগকে ভোট দেবে -- কিন্তু আগামী ১০ বছরের জন্যে হেফাযতের এজেন্ডার বিষয়ে কোন অগ্রগতি তো দুরের কথা তা নিয়ে কেউই কথা বলবে না। তারপর আবার হেফাযতের মতো আরেকটা সংগঠন হয়তো অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসাবে ব্যবহূত হবে। 

    সাময়িক আবেগের কারনে হেফাযতের যে অবস্থান আজ দেখছি -- তার সুদূর প্রসারী ফলাফল নিয়ে যদি চিন্তা করতে ব্যর্থ হয় হেফাযতের নেতারা তবে তাদের আজকের অবস্থানের জন্যে যে ঘটনাবলী ঘটবে তার দায় থেকে কিন্তু উনারা মুক্তি পাবেন না। 

     

    1. 10.1
      আহমেদ শরীফ

      আপনার এই এ্যানালাইসিসের সাথে আদিল মাহমুদের এ্যানালাইসিসের অদ্ভূত মিল দেখা যাচ্ছে ! আমুতে একটি পোস্টে আদিল মাহমুদ এরকম ব্যাখ্যা-ভবিষ্যদ্বাণীই করেছিলেন। কিন্তু তার জবাবও সেখানে দেয়া হয়েছে। এটি হচ্ছে প্রথাগত হিসাব। এটি অবশ্যম্ভাবী কিছু নয়। আদিল মাহমুদ অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন যে বাংলাদেশে 'সাধারণভাবে' ইসলামপন্থিদের সমর্থন অনেক বেড়েছে এবং আগামী দিনে এই ধারা আরো শক্তিশালী হবে। এ বিষয়ে আপনিও আলোকপাত করায় আরো বিস্তারিত পর্যালোচনার দিগন্ত উম্মোচিত হল।

    2. 10.2
      আহমেদ শরীফ

      এইসব পুরনো এনালাইসিস। এখন নতুন যুগের নতুন এনালাইসিস আসবে। 'ধর্মনিরপেক্ষতা' 'চেতনাব্যবসা' র দিন আসলেই শেষ এটা মেনে নিতে অনেকর কষ্ট হবে, কষ্ট হলেও পরিস্থিতির চাপে বাস্তবতা একসময় মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে। হাফেজ্জি হুজুর বা আমিনির জামানা এখন আর নেই, এখন এই ২০১৩ তে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিশাল সংখ্যক সাধারণ-শিক্ষিত-আধুনিক মুসলিম সমাজ যাদের উল্লেখযোগ্য অংশই তরুণ _ তাদের প্রেক্ষিতে চিন্তা করতে হবে। যাদের সাথে যোগ আছে শেকড়ের, সাধারণ মানুষের, যার প্রমাণ ইতিমধ্যেই আসা শুরু হয়েছে, তারা অতি অবশ্যই 'ফ্যাক্টর'। এই বিশাল সংখ্যক জনগণ ইসলাম চায়, ইসলামের স্বপ্ন দেখে, তাদের আদর্শ বিএনপি নয়। তারা যা চায় তা দেয়ার ব্যাপারে বিএনপি-আওয়ামী লীগ যে অক্ষম তা তারা জানে। তারা সংগঠিত নয় ঠিকই, তবে ৬ ই এপ্রিল থেকে তাদের উপলব্ধিতে আসা শুরু হয়েছে যে 'যদি তারা উত্তমরুপে সংগঠিত হতে পারে _ বাংলাদেশে তাদের চেয়ে বড় শক্তি আর নেই'। এটি তারা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে। এই মূহুর্তে হয়তো তারা দৃশ্যপটে আসতে পারবে না, তবে আসবে, হয়তো আরো বেশ কিছু সময় নেবে। ধাক্কা খেয়ে পোড় খেয়ে শিখবে, আরো আছে নীরব তাবলীগ জামাতের কোটি কোটি নিস্তব্ধ ত্যাগী কর্মী, যারা আদর্শিকভাবে একই গোত্রের, তারাও মিশে যাবে যথাসময়ে কাফেলায়। এটা ঘটবেই, আওয়ামী-বিএনপি-জামাতের দিন আর খুব বেশিদিন নেই।

       

      আগেকার পরিস্থিতি অনুযায়ী হাফেজ্জি হুজুর-আমিনি সাহেবের সময়কার আদ্যিকালের হিসাবনিকাশ এখন প্রযোজ্য হবে না, এখন সর্বশ্রেণীর বিশেষতঃ ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণীর একটি বিরাট অংশ তাদের মাঝে বিদ্যমান যেটি ক্রমবর্ধমানও। একদিকে হেফাজতের বিশাল সমর্থকশ্রেণী অন্যদিকে আপাতঃ নীরব নিস্তব্ধ আরো বিশাল সংখ্যক কর্মীসমৃদ্ধ তাবলীগ জামাত, বিএনপি-আওয়ামী লীগের ইসলামপন্থি অংশ, জামাতের একাংশ সব মিলিয়েই মনে হয় হবে একসময়, এখন ফর্ম হচ্ছে ধীরে ধীরে অস্পষ্টভাবে। তারা ধীরে ধীরে আরো গ্রহণযোগ্য কোন সম্মিলিত অতিকায় সর্বদলীয় প্ল্যাটফর্মে যূথবদ্ধ হতে পারে। এরা কিন্তু সংগঠিত-প্রতিষ্ঠিত হতে অত সময় নেবে না যতটা প্রথাগত রাজনৈতিক দল নিয়ে থাকে। হেফাজতের সমাবেশে যোগদানকারীদের এক বিরাট অংশ কিন্তু তাবলীগ জামাতের লোক, যদিও 'আনওফিশিয়ালি'। এছাড়া 'চরমোনাই' ও অন্যান্য সমমনা কিছু দলও আসতে পারে। আমার ধারণা মূল নেতৃত্ব যথাসময়ে তাবলীগ জামাতের ভেতর থেকেই উদ্ভূত হবার সম্ভাবনা। যেহেতু সেটা এখনো কোন আকার নেয় নি বা কোন নামও নেই, সেটা যথাসময়ে সময়ই বলে দেবে ঠিক কোন নামে কখন তারা আসবে। তবে আজ হোক কাল হোক, আসবে যে তাতে সন্দেহ নেই। তারা যখন আসবে তখন অবস্থা হবে জাস্ট 'ভিনি-ভিডি-ভিসি'। তাদের মোকাবেলা করে কেউই কুলিয়ে উঠতে পারবে না, বলা ভাল 'দাঁড়াতে' পর্যন্ত পারবে না।

       

      আপনি ভুলে যাচ্ছেন হেফাজত সমর্থিত কওমি ওলামাসমাজ মূলতঃ আওয়ামী লীগের স্নেহধন্য এবং বান্ধব ছিল। বিএনপি-জামাতের কোনদিন ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ এনাদের ভোটব্যাংক ব্যবহার করে আসছে। যেমন জোটের একজন নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ হাটহাজারিতে কওমিদের সমর্থন ছাড়া জিতে আসতে পারতেন না। চট্টগ্রামের বিশাল কওমি ওলামাসমাজ আওয়ামী লীগ ঘেঁষাই ছিলেন এতকাল বিভিন্ন কারণে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইস্যুতে অন্যদের মত কওমিদের আগের মত নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইলেও এই বিশেষ ইস্যুটি অতিমাত্রায় মৌলিকভাবে স্পর্শকাতর হওয়ায় কওমিরা আপোষ করতে রাজি হন নি। সেজন্যে আওয়ামী লীগও তাদের অনেক বোঝানোর পরও ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি সহানুভূতি দেখিয়েছে, সুযোগ নিয়েছে। সেটার জন্য আওয়ামী লীগের অবিচক্ষণ নেতৃত্বই দায়ী। কারণ বিশেষতঃ মহানবী রাসূল(সাঃ) এর ইস্যুতে কিছুতেই কওমি তথা বৃহত্তর মুসলিমসমাজের পক্ষে আপোষ করা সম্ভব নয় এই সহজবোধ্য ব্যাপারটি আগেই বোঝা উচিত ছিল। আর বামদের কথা বলছেন না কেন ? এটিই তো সর্বনাশের মূল কারণ। যারা সারাজীবন আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে গিয়েছেন সেই মতিয়া-ইনু-মেননরা আর অনভিজ্ঞ রবাহুত আশরাফ-হানিফ-মখা আলমগীর-আবুলদের মত লোক যদি আজ কর্ণধার হন, পুরনো অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগারদের পেছনে ঠেলে এদেরকে যদি সামনে আসার ও সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়, বিশেষতঃ সঙ্গীন পরিস্থিতিতে _ সে দায় কার ? আওয়ামী লীগের কোর ভ্যালুজ তথা সেকুলার ধারাকে শেকড়সুদ্ধু কেটে দেবার জন্য জন্য এদের অনভিজ্ঞ-অযোগ্য নেতৃত্বকে যদি দায়ী করা হয় তাহলে কি খুব বেশি ভুল হবে বলে মনে হয় আপনার ?

       

       

    3. 10.3
      নীরব সাক্ষী

      বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে হেফাজতের ১৩ দফার কি হবে? 

      ১৩ দফার সবগুলো দফা কখনো বাস্তবায়ন হবে না, রাজনৈতিকভাবে। তবে ইসলাম বিদ্বেষীদের অন্তর আত্না শুকিয়ে যাবে, যদি হেফাজতের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় যায়।

      আর যদি লীগ আবার পরের টার্মে ক্ষমতায় থাকে, তবে  লীগ দেশের আলেম ওলামে নিঃশেষ করার মিশনে নামবে। ধর্ম পালন করা রাশিয়ার কমিউনিষ্ট শাসন আমলের মত কঠিন হবে। তাই এবারের নিররাচন আস্তিক-নাস্তিকদের জয়-প্রাজয় ইস্যু।

      1. 10.3.1
        আহমেদ শরীফ

        ১৩ দফার সবগুলো দফা কখনো বাস্তবায়ন হবে না, রাজনৈতিকভাবে। তবে ইসলাম বিদ্বেষীদের অন্তর আত্না শুকিয়ে যাবে, যদি হেফাজতের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় যায়।

        আর যদি লীগ আবার পরের টার্মে ক্ষমতায় থাকে, তবে  লীগ দেশের আলেম ওলামে নিঃশেষ করার মিশনে নামবে। ধর্ম পালন করা রাশিয়ার কমিউনিষ্ট শাসন আমলের মত কঠিন হবে।

         

        খুব সংক্ষেপে আসল কথাটা বলে দিয়েছেন।

        ধন্যবাদ।

  20. 9
    Showkot kobir

    মওদুদী দর্শন সম্পর্কে এনাদের যেমন পরিস্কার ধারণা নেই, তেমনি আমার নেই সে বিষয়ে এখন আর কেউ মাথাও ঘামায় না ।  দেশে মাথা ঘামানোর বিষয়গুলো এনারা অন্য খাতে প্রবাহ স্বার্থে এনাদের এমন চর্চা । এক এক করে যদি বাংলার সংস্কৃতি গুলো তুলে আনা যায় তবে দেখা যাবে, এনারা বাংলাদেশ কে সবথেকে ঘেন্না করেন ……..যেমন ………..
    হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস থেকে শুরু করে বাংলা সংস্কৃতির যে কোনো গ্রন্থ মূলত কানার হাটের সংস্কৃতির ইতিহাস । পক্ষপাত দোষে দুষ্ট ।

    আপনি যদি এসব গ্রন্থ পাঠ করেন তবে লক্ষ করবেন সেখানে সনাতনধর্মবাহিত তাবথ সংস্কৃতির ইতিহাস লিপি বদ্ধ… যেমন,চর্যাপদ, মঙ্গল কাব্য, শ্যামা গীতি, ব্রহ্ম সভা, হরিবাসর,… এবং আরেকটু নজর বোলালে লক্ষ করবেন সেখানে একে একে এমন অনেক কিছু উঠে এসেছে যার বেশির চর্চা হয়ত ঝিমিয়ে পরেছে…অথবা সে সংস্কৃতি ইতিহাসের পর্যায় পৌছে গেছে ।

    অথচ ইসলামী ধর্মসভা, ওয়াজ মাহফিল ঐতিহাসিকভাবে আজো পুরাদ্দমে চর্চিত হয়ে আসা সত্বেও তা ঐসকল গ্রন্থে স্থান পায়নি । তবে কি ওয়াজ মাহফিল আমাদের সংস্কৃতির পর্যায় পরে না ? নিশ্চয় পরে । এদেশের প্রতিটি এলাকায় এটা একটা উজ্জাপনের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে । একে কেন্দ্র করে মেলা বসে । বাড়ি বাড়ি জামায়-মেয়ে, নাতি-পুতি আত্বীয়-সজন, বন্ধু-বান্ধব নায়র আসে…। …শহর-বন্দর, গ্রামে-গঞ্জে, পারা-মহল্লায় তথা সমগ্র বাংলায় এই ওয়াজ মাহফিল বারংবার অবশ্যম্ভাবী উত্সবের মত পালিত হয়ে আসছে ।
    এটা যে শুধু একটি বছরেই ঘটেছে এমনটি নয় । প্রতি বছরই ঘটে চলছে এবং দিনে দিনে আরো বিস্তার লাভ করছে । এত সবের পরেও কেন যে এসব কানার হাটের ঐতিহাসিকগণ অথবা বুদ্ধিজীবিগনের নজর এড়িয়ে যায়, তা রহস্যের চাদরে ঢাকা । এরা সত্যকে অস্বিকার করতে কখনো বিন্দুমাত্র পিছুপা নয় ।

    সময় এসেছে বাঙালির মুসলমানিত্ব আদায় করে নেবার..

  21. 8
    আহমেদ শরীফ

    ইন্টারনেটে ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্বে সর্বপ্রথম যে কয়েকজন হাতে গোনা লোক কলম ধরেছে তাদের একজন এই জিয়া ভাই।

     

    এ কথা জিয়াভাইয়ের পরম শত্রুর পক্ষেও 'অস্বীকার' করা সম্ভব হবে না। পুরো বাংলাব্লগজগতে ইসলামের পক্ষে এবং ইসলামবিদ্বেষের বিপক্ষে নেতৃত্বদানকারী একদম শীর্ষ একজন সেনাপতি হিসেবে অবশ্যই জিয়াভাইয়ের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জিয়াভাই শুধু নিজেই ইসলামের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন শুধু তাই নয়, অন্যান্য ইসলামপন্থি লেখক যারা ছিলেন শত্রুর দূর্গে তাদের সন্তানের মত আগলে রেখে নিজে ঢাল হিসেবে থেকে তাদের ওপর আসা শত আক্রমণ প্রতিরোধ করে গেছেন। ইসলামপন্থিদের হৃদয়ে জিয়াভাইয়ের যে বিশেষ একটি আসন আছে সেটি কেউ কখনো কেড়ে নিতে পারবে না।

    একই সঙ্গে জিয়াভাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেরও শীর্ষ একজন লেখক। জনপ্রিয়তার বিচারে সর্বোচ্চ ২/১ জনের মধ্যে ওনার নাম আসবে, আমারব্লগে প্রায়ই ওনার নামটি সর্বোচ্চ পঠিত লেখক হিসেবে দেখা মোটামুটি দৈনন্দিন স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ছিল। ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণেই ওনাকে প্রতিষ্ঠিত অনেক আসন অনেক প্রলোভন লাথি মেরে চলে আসতে হয় একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে। না হয় কিছু জিনিস মেনে নিয়ে বা না দেখার ভান করে উনি সহজেই অনেকের চোখের মণি হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে আপোষ করা ওনার জন্য সম্ভব হয় নি এটা নিঃসন্দেহে বড় মাপের একজন ইখলাসওয়ালার পরিচয়বাহী।

    হেফাজতের ব্যাপারে এখনো কিছু ভুল বোঝাবুঝি কাজ করছে বলে মনে হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব ধাঁচে করা বিভিন্ন হিসেবে নিকেশ, তাদের ছড়ানো বেশকিছু প্রোপাগান্ডার কারণে সুশীল সমাজ তথা মুক্তিযুদ্ধপক্ষীয়দের মাঝে এখনো হেফাজত সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা বিদ্যমান। যদিও মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার পক্ষাবলম্বনে ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শ ধারণে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ নামক দলটি সফল হতে পারেনি, প্রত্যাশার পারদ স্পর্শ করা থেকে আজ অনেক দূরে সরে গিয়েছে। তবুও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগকেই এখনো সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছেন, হচ্ছেন। 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ' হিসেবে শেষ পর্যন্ত একমাত্র অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরে থাকেতে চাইছেন।

    ৫ ই মের ঘটনা এমন একটি ঘটনা যে সেটির মূল আধ্যাত্মিক চেতনাটি পুরোপুরিই ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। সেই দৃষ্টিতে রাজনৈতিক হিসেবনিকেশের কোন সুযোগ নেই। যদিও এই ঘটনার শেষ অংশে রাজনৈতিক কিছু সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে যেটি সাময়িক ও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠির সাথে জড়িত _ কিন্তু সাধারণভাবে, ব্যপকভাবে বাংলার মুসলিম তাওহীদি জনতার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। তাঁরা কোন দলের ছিলেন না, কোন দলের হয়ে সেখানে যানও নি। একমাত্র দোজাহানের বাদশাহ খায়রুল বাশার ইমামুল আম্বিয়া আহমদ মুজতাবা মহানবী হজরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জঘন্য অবমাননার বিচারের দাবি নিয়ে নিখাদ ঈমানের দাবিতে ও প্রিয়নবী(সাঃ) এর খাঁটি মুহাব্বাতেই তাঁরা গিয়েছিলেন। তাঁরা সেখানে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে অকাতরে জীবনও দিয়েছেন।

    রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী কিছু লোক সবসময়েই থাকে, সবসময়। বঙ্গবন্ধুর সময়ও ছিল, খন্দকার মোশতাকরা চিরকালই থেকে যায়। সেজন্যে স্বয়ং মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, বঙ্গবন্ধু প্রশ্নবিদ্ধ হন না, সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনার দূর্বার আকুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, হতে পারে না। সেরকম ১৮ দলের কিছু শরীক দলের নেতা যারা পরে হেফাজতেরও কিছু অংশের নেতা হয়েছিলেন, তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ, অবিমৃষ্যকারিতা _ তার জন্য বাংলার লক্ষ লক্ষ তাওহীদি মুসলমান যারা প্রাণপ্রিয় রাসূল(সাঃ) এর ভালবাসায় নিজেদের জান কুরবানি করে শাহাদাতের শপথ নিয়ে কাফন পরে  সেখানে গিয়েছিলেন এবং শাহাদাত বরণ করে ভালবাসার প্রমাণ দিয়ে গিয়েছেন _ তাঁরা প্রশ্নবিদ্ধ নন, তাঁরা কেয়ামত পর্যন্ত পরম শ্রদ্ধা-সম্মানের যোগ্য। রাজনৈতিক নেতাদের প্রকৃতি-আচরণ-সংষ্কৃতি আজ শিয়ালকুকুরের অধম হয়ে গিয়েছে, আলেমওলামাদের পাধোয়া পানি খেলে কিছু মানুষ হবার সম্ভাবনা। সেখানে শুধু 'হেফাজত' বলে সমালোচনা-নিন্দা করা মুসলমানদের আহত রক্তাক্ত হৃদয়ে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে আরো বীভৎস যন্ত্রণাদানের শামিল।

  22. 7
    মজলুম

    জিয়াউদ্দিন ভাইয়ের অবস্হা দেখে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রঃ)  এর কথা মনে পড়লো। হযরত উমরের  খিলাফতের  সময় একজন নও মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রঃ) কে বললেন তোমার নামাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে না।  একথা শুনে হযরত মাসউদ(রঃ) কাঁদতে  লাগলেন আর বললেন, আমি এমন সময় ইসলাম গ্রহন করেছি তখন মুসলিমদের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন ছিলো। মক্কায় আমাদের এক পাহাড়ের মাঝে অবরোধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের খাওয়ার জন্যে কিছুই ছিলো না। ক্ষুধার যন্ত্রনায় আমরা গাছের পাতা খেতাম আর ছাগলের বড়ির মত পায়খানা করতাম। আর এখন এরা নতুন মুসলিম হয়ে বলছে আমার নাকি নামাজ সঠিক ভাবে হচ্ছে না।  

     

    ইন্টারনেটে ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্বে সর্বপ্রথম যে কয়েকজন হাতে গোনা লোক কলম ধরেছে তাদের একজন এই জিয়া ভাই। আর এখন হেফাজতের হঠকারিতার বিরোধিতা করায় উনাকে ডাকা হয় মুনাফেক।  সত্যিই কি সেলুকাস!!!

  23. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    কথা সত্য -- সব কিছু্ সরকারের দায়িত্ব। বিরোধীরা মন্দ কাজ করবে আআর সরকার ভাল কাজ করে তাদের প্রতিহত করবে। কি মজার কথা!

    1. 6.1
      Rafi

      ভাই, এবার একটু থামেন। নিজেকে আর কত খাটো করবেন। আপনার অবস্থান কোন তলানিতে নেমেছে- এটাও বুঝতে পারছেন না। বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার, এত দিন বাইরে থাকেন- অথচ আপনার সিভিক জ্ঞান এত কম!

  24. 5
    মহিউদ্দিন

    বর্তমান অবরুদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হলে অসংখ্য তথ্যপ্রমাণ সাক্ষীসাবুদ গণমাধ্যম তথা জাতির সামনে আসা শুরু হয়ে যাবে।

    আসলে দেশে যে সত্যিই এক অবরুদ্ধ পরিবেশ  বিরাজ করছে সে বাস্তব সত্য কেন জানিনা অনেকেই অনুভব করতে পারছেনা!

    আমার প্রশ্ন : Yes or No বলেন।

    দেশে মানবতা বিরোধী অপরাধ হচ্ছে কি না?

    হাজার হাজার বিরোধী দলের কর্মীদের মামলা হামলা করে বন্ধী করা হয়েছে কি না আর এটা  গণতান্ত্রিক আচরণ কি না?

    মাহমুদুর রহমানকে জামিন না দিয়ে বন্ধী রাখা অন্যায় কি না?

    দেশের বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্টানগুলো দলীয়করণ করা হয়েছে কি না?

    ভোট চুরি করতে চাইনা বললেও "কেয়ার টেকার" সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল করে যে ভোট ডাকাতি করার ব্যবস্থা হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করেন কি না? ডাকাতি করতে পারলে কি চুরি করতে চাই না বলার দরকার পড়ে?

    রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোপন বাহিনীকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া কি গণতান্ত্রিক আচরণ? যে প্রতিষ্ঠানের কাজ হল দেশের জনগণের তথা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা দেয়া তাদেরকে একটি বিশেষ দলের স্বার্থে ব্যবহার করা কি ক্ষমতা অপব্যবহার নয়?

    জামাতের সাথে সরকার যে আচরণ করছে তার প্রতিবাদে তারা তাদের আন্দোলন করতেই পারে। আর সরকার তো তাদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে চার বছর ধরে। সরকারের বাড়াবাড়ির সমর্পকে কেউ কিছু বললেই তাকে জামাতি হতে হবে কেন? জামাতের জুজুর ভয় আর শুনতে চাইনা।

    "ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। (৪১:৩৩-৩৫)"

    এই আয়াত অনুসরন করলে সরকারের উচিত বিরুধী দলের মন্দ কাজ উত্তম কাজ দিয়ে প্রতিহত করা।

     

  25. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    "এটা ঈমানের প্রশ্ন। এটা নবীর মর্যদার ইস্যু। এখানে রাজনীতির স্থান নেই। "

     

    গাজীপুরের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা লিফলেট বিতরণ করেন ছবি: প্রথম আলো  

     

    >> হেফাযত নবীর সন্মান রক্ষায় এবং ঈমানের ইস্যুতে গাজীপুর নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে সক্রিয় ভাবে। এখানে কোন রাজনীতির স্থান নেই।   

     

     

    1. 4.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      -সরকারি দাম্ভিকতার কারণে হয়ত এদের সামনে আর কোন পথ খোলা রাখা হয় নাই। আর এদের ভোট না-থাকলেই কি মেরে ফেলবেন? তাছাড়া, যে অন্যায় করা হয়েছে সেটা নজির বিহীন।

    2. 4.2
      নীরব সাক্ষী

      বাহ! আপনার দলীয় লেজুর বৃত্তি দেখে করুণা হচ্ছে!  রাতের আধাঁরে অবলীলায় তাঁদেরকে হত্যা করবেন আবার ওদের ভোটও কামনা করবেন!  ভোট দেয়া কি অপরাধ? হেফাজতিদের ভোট ছাড়া আর কি  শান্তিপূর্ণ পথ খোলা রেখেছেন? অত্যন্ত জেনে-বুঝে কখনোই ভোট দেয়নি। তবে এবার ঈমানী দায়িত্ব  হিসেবে ভোট দেয়ার জন্য বিবেচনা করছি। কুরআন হাদিস তেমন জানি না, তবে আমার কাছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে হয়। আমি গাছবাদে বিশ্বাসী নই, মানবতাবাদে  বিশ্বাসী।  

       

      লীগের দাম্ভিকতা ও ইসলাম বিদ্বেষীদের পক্ষালম্বন করার কারণে একটি জেনারেশন গড়ে উঠছে, যারা তাদেরকে শান্তিপূর্নভাবে প্রতিহত করে  ইসলাম বিদ্বেষী লীগকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে।

      1. 4.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনার করুনার জন্যে ধন্যবাদ। আমি লেজুরবুত্তি করি এই ধরেন কি পেলেন এই লেখায়। কৃতার্থ হতাম যদি হেফাযতের বিষয়গুলো ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করতেন। আপনি তো শুরু থেকেই পুরো বিষয়টাকে একটা রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিনত করছেন। বলাই বাহুল্য আওয়ামী বিদ্বেষের কারনে সত্য মিথ্যার তফাতও ধরতে পারছেন না। জামাত আর বিএনপির প্রপাগান্ডাকেই আপনার কাছে ঈমানী পথ হিসাবে মনে হচ্ছে। সেইটাতো মজার। শুরু থেকেইতো বলছি -- হেফাযত রাজনীতির দাবার খেলার গুটি হিসাবে ব্যবহূত হবে এবং হচ্ছেও। 

         

        নিজেরা ইমানী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চোরের জায়গা ডাকাতকে ক্ষমতায় আনার জন্যে সক্রিয় হয়ে উঠা হেফাযতের কর্মীদের কাছে প্রশ্ন -- তাদের এই কর্মের প্রতিফল অর্থাৎ চোরের দলের জায়গায় ডাকাতের দলকে ক্ষমতায় এনে যে অপকর্ম হবে তার দায় কি হেফাযত নেবে না? 

      2. আহমেদ শরীফ

        সেক্ষেত্রে সবিনয়ে পাল্টা প্রশ্ন _ চোরের জায়গায় আরেক চোর বা 'ডাকাত' আসতে পারে সেজন্যে ধরা পড়া প্রমাণিত চোরকে কি সসম্মানে আবার 'অধিষ্ঠিত' করে চুরির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়াই সমাধান ?

        যদিও এবারের টার্মের ক্ষমতাসীনদের 'চুরি-ডাকাতিকৃত অর্থের পরিমাণ' স্মরণকালের ইতিহাসে সর্বাধিক বলে বিভিন্ন পরিংসখ্যানে প্রকাশিত। সেক্ষেত্রে অভিধাটি রিভার্স হয়ে যাবে। ডাকাতের জায়গায় 'চোর' হবে চোরের জায়গায় 'ডাকাত'।

    3. 4.3
      আহমেদ শরীফ

      গাজীপুরের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা লিফলেট বিতরণ করেন ছবি: প্রথম আলো

       

      মানুষ আসলে যে 'বিএনপির পক্ষে' ভোট দিচ্ছে তা নয়, মানুষ আসলে 'আওয়ামী লীগের বিপক্ষে’ ভোট দিচ্ছে। সেরকম হেফাজতকর্মীরা আসলে যে বিএনপির পক্ষে কাজ করছে তা নয়, আসলে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কাজ করছে।

      জিসিসি নির্বাচনী প্রচারণায় মহাজোট প্রার্থী আজমতউল্লাহ জোরেশোরে বলছেন যে ‘হেফাজতের একটি অংশ তাদের সঙ্গেও আছে’ ! পাবলিক এতে খুবই বিনোদন পাচ্ছে কারণ ‘জঙ্গি’ ‘তালেবান’ ‘মৌলবাদী’ ‘তান্ডবকারি’ ‘হেফাজতে জামাতের’ একাংশের সাপোর্ট এখন লাগছে কেন ?

      আজকে শুনলাম অনেকেই যারা নাকি সাধারণতঃ ভোট দিতেই যায় না তারাও এবার ভোট দিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও হেফাজত ইস্যু ও অন্যান্য কারণে এবার নিজের দলের বিপক্ষেই ভোট দেবে বলে মনে হয়। গাজীপুরে অবশ্য হেফাজত ছাড়াও আরো ইস্যু আছে। যেমন এক জাহাঙ্গীর ইস্যুই পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট। ওদিকে জাতীয় পার্টির ভোটগুলোও মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে যাবে না বলাই বাহুল্য। ইতিমধ্যে যে আভ্যন্তরীণ মেরুকরণ হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় পার্টির কর্মীসমর্থকরাও বিএনপির পক্ষে প্রচারণাই করে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা যাচ্ছে। এর মাঝে আবার এই পরিস্থিতিতে আসিফ মহিউদ্দিনের মুক্তি, জিএসপি বাতিল। এইসব ইস্যু অবশ্যই ভোটারদের মাঝে প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

      বস্তুতঃ সরকারি দলের যদিও লড়াই করার বিকল্প আর অবশিষ্ট নেই, তবু মনে হয় লড়াই করা না করা এক অর্থে সমান কথা, কারণ এই টার্মে অন্ততঃ মনে হয় না তাদের আর কোন আশা আছে। সমঝোতা-টমঝোতা বা ৫৭ বা ১৫৭ এমপি এনে প্রচারণা ইত্যাদি যত যাই করুক _ সবই সমান।

  26. 3
    জুবায়ের

    হেফাজতের "২৫০০" মারা যাবার লিস্ট না হলেও ২০০ এর লিস্ট হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের কি লিস্ট আছে? লিস্ট নাই কাজেই হেফাজতীরা মারা যাইনি এটা আপনি নিশ্চিত হলেন কিভাবে? এখন পযন্ত লিস্ট হওয়া যে ২০০ হেফাজতীকে সরকার মেরেছে- তা কেন মারা হলো? আপনি দলীও প্রেমে এমন বিভোর যে সরকারের কোনই খারাপ দেখেন না।এখনও আমার চোখে পড়েনি আপনি সরকারের সমালোচনা করেছেন। আপনার চিন্তাঢারা শুধু বিএনপি/জামাত/শিবিরের মধ্যে ঘুরপাক খায়। দেশে এত কিছু হচ্ছে অথচ আপনি কিছুই দেখেন না। সদালাপকে "শঠালাপ" বানানোর জন্য আপনিই সবচাইতে বেশি বিদ্বেষমুলক লিখা লিখেছেন। আপনি রাজনীতি নিয়ে যত লিখা লিখেছেন-সেগুলো পড়লে সদালাপকে মনে হবে "আওয়ামীলাপ"/ আওয়ামী ঘোর থেকে বেরিয়ে আসতে আপনি কখনই পারেন না।আপনার আওয়ামী প্রপাগান্ডা পাব্লিক খাবে এমন ভাবার কোন কারণ নাই। সবাই ঘাস খাই না।

    1. 3.1
      আহমেদ শরীফ

      হেফাজতের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশই হচ্ছেন বাংলাদেশের কওমি হক্বানি আলেমওলামাসমাজ। যাঁদের এক এক জনের এক এক ফোঁটা রক্তের দাম ক্ষমতাসীন বুদ্ধিবেশ্যা আপাদমস্তক ভন্ড রাজনীতিবিদদের একত্রে ৭০ বার বিক্রি করলেও হবে না। ধর্মযুদ্ধে 'শহীদের রক্তের' চেয়ে যদি ধর্মজ্ঞানী আলেমের 'কলমের কালি' বেশি পবিত্র হয় _ তাহলে ধর্মজ্ঞানী আলেমের এক এক ফোঁটা 'রক্তের' দাম কত ! আল্লাহর কাছে তো বটেই, বাংলার তাওহীদি জনতার কাছে, এমনকি মোটামুটি আত্মবিস্মৃত আপামর সাধারণ মুসলিম জনগণের কাছেও আলেমওলামাদের রক্তের মূল্য অনেক বেশি, তাঁদের সম্মানের স্থান সবার হৃদয়ের আসনে চিরকালই বিরাজ করবে। সংখ্যা ২৫০ না ২৫০০ সেটি সময়ই বলে দেবে, তথ্যপ্রমাণ যখন আসা শুরু করবে। ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সমর্থনকারীদের অস্বীকার করায় কিছু যায় আসে না, কারণ হত্যাকারী নিজের মুখে নিজের অপরাধ বা দায় স্বীকার করে না এটা সবাই জানে।

      1. 3.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এইটা হলো আপনার আবেগের ওভার ফ্লো। অনেক আলেম আছেন যারা ভুল করেন এবং অন্যায় করেন। আল্লাহ হিসাবে সবার রক্তের দামই এক -- সবাইকেই এই ভাবে তাদের কর্মের জন্যে দায়বন্ধ হতে হবে। 

         

        তবে হেফাযতের নেতাকর্মীদের যেভাবে অপমানিত হতে হয়েছে তার দায় কি হেফাযতের নেই? একসময় ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন -- হেফাযতে তাদের নবীর সন্মান রক্ষার চুড়ান্ত আন্দোলনের জন্যে যে সময় এবং কর্মপদ্ধতি বেছে নিয়েছিলো তা কতটা সুচিন্তিত ছিলো। আর মুমীনদের জন্যে আল্লাহ সাহায্যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে সেই সাহায্য হেফাযতের পক্ষে যায়নি -- কারন কি হতে পারে তাও কি ভাবা উচিত নয়। 

      2. আহমেদ শরীফ

        হেফাজত বা আলেমওলামা সম্পর্কে আবেগ অবশ্যই একজন ঈমানদার মুসলমান হিসেবে থাকবে, কিন্তু তার সামান্য কিয়দংশই আমি আমার লেখনিতে প্রকাশ করেছি। বুদ্ধি ও জ্ঞানপ্রসূত সচেতনতা আমাকে আবেগে অন্ধ হতে দেয় নি আল্লাহর মেহেরবানিতে। আমার আবেগের সবটুকু যদি আমি প্রকাশ করতাম সদালাপ ভেসে ওভারফ্লো হয়ে যেত। আমি তা করিনি এবং যে কমেন্টের আপনি প্রত্ত্যুত্তর দিলেন সেখানেও রেফারেন্স রয়েছে, নিছক আবেগ নয় সেটি তথ্যপ্রমাণ।

        আল্লাহর কাছে সব রক্তই এক সেটি কোরআন সুন্নাহভিত্তিকভাবে সমর্থিত নয়। যেমন ধরেন আলী(রাঃ) এর হত্যাকারী ছিল ইবনে মুলজাম। ইবনে মুলজাম সম্পর্কে স্বয়ং রাসূল(সাঃ) বলেছেন যে সে উম্মতের সর্বনিকৃষ্ট লোক। কেন সর্বনিকৃষ্ট ? কারণ আলী(রাঃ) এর রক্তে তার হাত রঞ্জিত হয়েছে। আরেক হাদিসে এসেছে একজন ধর্মজ্ঞানী আলেমের মৃত্যু একটি বিশাল জনপদের সমস্ত মানুষের মৃত্যুর থেকেও আল্লাহর কাছে গুরুতর। আরেক সুবিদিত প্রসিদ্ধ হাদিসে ৩ ব্যক্তির কথা এসেছে যাদের মধ্যে 'আলেম' এক ধরণের, আলেমকে তাজিম অর্থাৎ ভক্তিশ্রদ্ধা না করলে রাসূল(সাঃ) স্বীয় উম্মতভুক্ত নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে গুলি করে আলেমওলামাকে হত্যা-সদলবলে লাঠি দিয়ে পশুর মত পিটিয়ে হত্যা করার পরিণতি কি হতে পারে অনুমান করাও কঠিন !

        মু'মিনদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বা সাহায্যের প্রকৃতি বহু ধরণের হত পারে। রাসূল(সাঃ) এর যুগে অনেক যুদ্ধে মুসলমানরা শাহাদাত বরণ করেছেন, আহত-নিহত হয়েছেন সেটা কি আল্লাহর সাহায্যের অনুপস্থিতির কারণে হয়েছে ? স্বয়ং রাসূল(সাঃ) হুনাঈনের যুদ্ধে, ওহুদের যুদ্ধে, খন্দকের যুদ্ধে ভয়ংকরভাবে আহত-রক্তাক্ত হয়েছেন _ ওনার চেয়ে আল্লাহর সাহায্য কার সাথে বেশি হওয়ার কথা ! হামজাহ(রাঃ) নির্মমভাবে শহীদ হওয়ার পর পিতৃব্যশোকে রাসূল(সাঃ) ৭০ বার ওনার জানাজা পড়ান, শেষে জীব্রাঈল(আঃ) এসে বলেন আল্লাহ আরশের গায়ে লিখে দিয়েছেন "আল হামজাতু আসাদুল্লাহ ওয়া আসাদু রাসূলিহি" অর্থাৎ হামজাহ(রাঃ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর সিংহ। এটা শুনে রাসূল(সাঃ) শান্ত হন। ইসলামের ইতিহাসে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি, সুদূরপ্রসারী অনেক ধরণের সাহায্য আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে সব একরকম নয়। ইসলাম রক্তদান ছাড়া প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আল্লাহর সাহায্য আসে নি সেটা কিভাবে বুঝলেন আজ যে আওয়ামী লীগ- আওয়ামী বামপন্থি/ইসলামবিদ্বেষীরা প্রচন্ডভাবে চাপের মুখে, ধ্বংসের মুখে টলটলায়মান সেটি কি হেফাজতের আন্দোলনের অবদান ছাড়া আর কিছু ?

        আপনি বিএনপি-জামাতের কথা যদি বলেন সেটি লীগের নেতাদেরই অপরিণামদর্শিতা-অবিমৃষ্যকারিতার ফসল। লীগ নেতারা নিজেরাই হাতে ধরে তাদের সেই সুবিধাজনক অবস্থানে তাদের পৌঁছে দিয়েছে। সেটির জন্য হেফাজত নয়, লীগের অযোগ্য আত্মম্ভরী কান্ডজ্ঞানহীন নেতৃবৃন্দই দায়ী। লীগ নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আলেমওলামার নেই, কখনো ছিল না। ওনারা ইসলামবিদ্বেষীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যে আন্দোলন করেননি। ইসলামবিদ্বেষীদের লালন-তোষণ করার জন্য সুস্পষ্টভাবে লীগের ওপর যে কালো বীভৎস দাগ লেগে গেছে, মনেও করবেন না যে মাত্র এক টার্মে ভোটাভুটিতেই এটা শেষ হয়ে যাবে। এটা তাদের বাংলার মাটিতে মোটামুটি পঙ্গু করে দেবে দীর্ঘকালের জন্য, আদর্শিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, এটি তাদের অস্তিত্বের মূলে কুঠারাঘাত করেছে, যার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী, অন্য কেউ নয়।

        মোদ্দা কথা লীগের টাইটানিক ডুবছে অতি দ্রুতবেগে, পক্ষান্তরের হেফাজত তথা ইসলামের প্রতি মানুষের সহানুভূতি জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। লীগ বা বিএনপি উভয়ের জন্যই 'হেফাজত' অবশ্যই ফ্যাক্টর। হেফাজত লীগকে প্রত্যাখ্যান করা মানে এখন জনগণ প্রত্যাখ্যান করা। এখনো 'সমঝোতা'র চেষ্টা করছে, একসময় দেখবেন পায়ে ধরবে, হেফাজতের পায়ে ধরে মুখ ঘষতে থাকবে লীগ নেতারা, কিন্তু বাঁচতে পারবে না। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দীর্ঘতম ট্রাইবুনালে লীগ নেতাদের ঘষটাতে ঘষটাতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় থাকেন। অবশ্য খুব বেশিদিন মনে হয় না অপেক্ষা করতে হবে।

  27. 2
    আহমেদ শরীফ

    এখন জুমার নামাজের আজান হচ্ছে তাই এই মুহূর্তে বেশি কথা বলার সুযোগ নেই। পরে সময় পেলে কিছু বলার চেষ্টা করব।

    আপাততঃ এটুকু বলব যে ৫ ই মে শাপলা চত্বরে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে অবশ্যই ব্যপক গণহত্যা চালানো হয়েছে। সংখ্যার হিসেব নিয়ে কিছু কমবেশি হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় গণহত্যা এর আগে কখনো ঘটেনি। এটির ব্যপকতা এতই বেশি যে চট করে বিশ্বাস হতে না চাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এটি ঘটেছে বাংলাদেশের মাটিতে এবং বর্তমান অবরুদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হলে অসংখ্য তথ্যপ্রমাণ সাক্ষীসাবুদ গণমাধ্যম তথা জাতির সামনে আসা শুরু হয়ে যাবে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্ববৃহৎ ঘটনাগুলোর একটি হবে এইটি আজকের দিনতারিখসহ লিখে রাখতে পারেন।

    সরকারি প্রবল নিষ্ঠুরতম দমননীতির কারণে উম্মুক্ত গণমাধ্যমে প্রথম ধাক্কায় আসার সুযোগ না পেলেও ধীরে ধীরে ঠিকই ঘটনা প্রকাশ হওয়া শুরু হয়েছে। সত্যকে চিরদিন অবরুদ্ধ করে রাখা যায় না। প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরে আসা অসংখ্য মানুষ যারা সারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তাদের মুখে মুখেই ঘটনা পরদিন থেকে ছড়িয়ে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে, পথে প্রান্তরে। আমি নিজে আলাদা আলাদাভাবে বেশ কয়েকজন ফিরে আসা মানুষের সাথে কথা বলেছি সবার বক্তব্য মোটামুটি অভিন্ন। ইন্টারনেটে প্রকাশিত আসল ভিডিও ফুটেজ/ছবিগুলোর পাশাপাশি কিছু কিছু বিশ্বের অন্যান্য গণহত্যার ছবিও চলে এসেছে এটাও ঠিক। কিন্তু কোনটা বাংলাদেশের হেফাজতের আর কোনটা বিদেশী এটা দেখামাত্রই যে কেউ বুঝতে পারেন বলেই প্রত্যক্ষ করেছি। এই একটি ইস্যুই সমস্ত অর্জন ম্লান করে দিতে যথেষ্ট, এছাড়াও অন্যান্য ইস্যু তো আছেই যা বিরোধীদল ব্যবহার করছে, করারই কথা।

    আর একটা ব্যাপার হল সরকার সমর্থিত মহল থেকে প্রথম থেকেই হেফাজত ও তাদের দাবিসমূহকে চুড়ান্ত তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হয়ে এসেছে। তীব্র জামাতবিরোধী হওয়া সত্বেও বাংলার আপামর আলেমওলামাদের সমন্বয়ে গঠিত হেফাজতকে 'হেফাজতে জামাত' বলা হয়েছে, আল্লামা শফীকে রাজাকার বলা হয়েছে। ইন্টারনেটে ফেসবুক-ব্লগে হেফাজত সম্পর্কে চুড়ান্ত অশ্রাব্য কটুক্তি-গালাগালি চেতনাধারীরা করেছে। ৫ ই মে নিহত শহীদদের লাশের ছবি দিয়ে আরেক পাশে কসাইখানার মৃত ছাগলের ছবি দিয়ে সাযূজ্যপূর্ণ দেখিয়ে নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ কটাক্ষ করা হয়েছে। হেফাজতের ওপর ব্যপক গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে রক্তাক্ত-আহত করে আবার তাদেরই ১ লাখের ওপর লোককে আসামী করে মামলা দেয়া হয়েছে। দিনের সমাবেশে এম্বুলেন্স যাতে মারাত্মক আহত-রক্তাক্ত হেফাজতকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে না পারে সেজন্যে এম্বুলেন্সের চাকার হাওয়া পুলিশ নিজের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে দেখা গেছে। লীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে হেফাজতকর্মীদের হত্যা করেছে। লীগের কর্মীরা রাজপথের ওপর আলেমওলামাদের গরুর মত পিটিয়ে দিনের আলোতেই হত্যা করেছে। আরো আছে বলতে গেলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে এখন জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিতে হবে তাই সেদিকে গেলাম না।

    পরে সময়মত এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      নীরব সাক্ষী

      কে কাকে সমর্থন করবে তা ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু জিয়া সাহেব শুরু থেকে হেফাজতিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে এসেছেন। শাপলা চত্ত্বরের গণহত্যা ইস্যুর চেয়ে গাছবাদী ইস্যুই উনার কাছে বেশ বড়। 

      প্রধানমন্রীর বিরুদ্ধে 'হায়েনা' শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে বুয়েটের প্রভাষক স্ট্যাটাস দেয়ার কারনে সাত বছরের জেল দেয়া হয়েছে! অন্যদিকে আমাদের নবীকে কুরুচীপূর্ন ভাষায় মিথ্যাচার করা ব্লগাদেরকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। আসিফকেও মুক্তি দেয়া হয়েছে। যারা নবীর সন্মানের জন্য প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে অন্ধকারে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের গ্রামেরও দুজনের খবর কেউ জানে না। তিনি একনিষ্ঠ তাবলীগের কর্মী ছিলেন। ৫ তারিখে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাবা শাপলা চত্তরে গিয়েছিলনে। 

      আল্লাহ এসব অবিচার কখনোই সহ্য করবে না। আর যারা সরকারের এসব হীনকর্মকান্ডকে ঢাকার জন্য তাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা না চাইলে, তাদেরকেও আল্লাহর কাছে জবাবদিহীতা করতে হবে। এটা ঈমানের প্রশ্ন। এটা নবীর মর্যদার ইস্যু। এখানে রাজনীতির স্থান নেই। 

      সরকারের ইসলাম বিরোধীতা চরম পর্যায়ে পৌছেছে। কয়েক মাসে আমাকেই পাঁচবার রাস্তায় থামিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এটি চরম অবমাননাকর। বিদেশের মাটিতেই এরকম অপমান করা হয় না। নিরুপায় হিসেবে আল্লাহর কাছে শুধু বিচার দিয়ে যাচ্ছি। 

       

       

      1. 2.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        -যাদের খোজ পাওয়া যাচ্ছে না, সে রকম চেনাদের নিয়ে লিখা দিন। তাহলে একটু হলেও ইতিহাসে তাদের নাম লিখা থাকবে। 

      2. 2.1.2
        আহমেদ শরীফ

        আমাদের গ্রামেরও দুজনের খবর কেউ জানে না। তিনি একনিষ্ঠ তাবলীগের কর্মী ছিলেন। ৫ তারিখে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বাবা শাপলা চত্তরে গিয়েছিলনে। 

         

        পিতাপুত্র শাপলা চত্বরে ঈমানের দাবিতে সেদিন গিয়ে একসাথে উভয়ে শহীদ হয়েছেন এরকম ঘটনা আরো আছে। আমি নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত যা জেনেছি সেগুলোর সংখ্যা ও ভয়াবহতা রীতিমত অবিশ্বাস্য ! শুধু আজকের কথা বলি, আজ বিকেলে যা জানলাম।

        # চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনি মাদ্রাসার কাফেলা থেকে ৯০ জন আজ পর্যন্ত নিখোঁজ। ৫ ই মের শাপলা চত্বরে এনারা যাওয়ার পর থেকে আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। এটি চট্টগ্রামে কোন মাদ্রাসায় সর্বাধিক নিখোঁজ সংখ্যা।

        # হাতিয়া থেকে বহু সাধারণ লোক-মাদ্রাসাছাত্র-শিক্ষক ৫ ই মের অবরোধের উদ্দেশ্যে গিয়ে পরে আর হাতিয়ায় ফিরে আসে নি, এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ। সঠিক সংখ্যা এখনো পর্যন্ত শুমারি হয় নি। শুমারির কাজ চলছে।

        আমার মনে হয় এটাও তথ্যপ্রমাণ হিসেবে আসবে, যে বা যারা নিখোঁজ তাদের আত্মীয়স্বজনের মোবাইলের কল রেকর্ড ও নিখোঁজদের কল রেকর্ড কত তারিখ থেকে কোন সময়ে বন্ধ হল, বন্ধ হবার অব্যবহিত পূর্বে তাদের ভৌগোলিক শারীরিক অবস্থান কোথায় কোথায় ছিল _ ইত্যাদিও এভিডেন্স হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে মামলাগুলোতে দাখিল করা হতে পারে।

  28. 1
    ফুয়াদ দীনহীন

    -- ব্লগে লেখা লেখির সময় এ ধরনের কাদা ছুরাছুরি অনেক হয়। মতবিরোধ হলেই একপক্ষ আরেক পক্ষকে মুনাফেক জাতিয় শব্দ দ্বারা বিশেষণ করা অত্যান্ত অন্যায়। 

    1. 1.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      কাউকে মুনাফিক বলার জন্যে যথেষ্ঠ প্রমানাদি থাকা দরকার -- তবে চরমপন্থী এবং অসহিষ্ঞু জামাত কর্মীদের কাছে জামাত ছাড়া সবাই মুনাফেক। এইটা কোন সমস্যা না ।

      1. 1.1.1
        Tareq

        হয়ত পরক্ষভাবে আপনাকে উদ্দেশ্য করে মুনাফিক বলা হয়েছে। আপনিও একই কাজটি করেছিলেন একজনকে পরক্ষভাবে রাজাকার বলে এই সদলাপেই।

         

        আপনার কথার শুরেই যদি বলা যায়- কাউকে রাজাকার বলার জন্যে যথেষ্ঠ প্রমানাদি থাকা দরকার – তবে চরমপন্থী এবং অসহিষ্ঞু আওয়ামীলীগ কর্মীদের কাছে আওয়ামী ছাড়া সবাই রাজাকার- তবে কি ভুল হবে?

      2. ফুয়াদ দীনহীন

        @Tareq,

        কাউকে রাজাকার বলা আর মুনাফিক বলা এক কথা নয়। রাজাকার একটা দুনিয়াবী গালি, যার ব্যাপ্তি বাংলাদেশী পর্যন্তই আবার কাউরো অপছন্দনিয় কথা হলেও এটাও সত্য কিছু কিছু অতী অল্প সংখ্যাক ভাল রাজাকারও ছিল যারা মানুষ মারেনি সহায়তাও করেনি বরং বাচাতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু মুনাফিক শব্দটার ব্যাপ্তি দুনিয়া আখিরাত ও পৃথিবী ব্যাপী এবং বিশাল, এর সাথে ধর্ম জরিত তাই ধর্মিয় ন্যায় নিতি আরোপ করে প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। যদিও কাউকে গালি দেওয়া পছন্দ করার বিষয় নয়। তাই রাজাকার বলে গালি দেওয়াও অন্যায়।

        চরমপন্থা ও অসহিষ্ঞুতাই মূল সমস্যা, এবং কোন দলের প্রতি ন্যায়নিতির উর্ধ্বে উঠে আনগত্য প্রকাশ করাও বড় সমস্যা যা আস্তে আস্তে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। যেটা আমরা নাজি জার্মানিতে দেখেছি, ১৯৭১ সালে দেখেছি।  

Leave a Reply