«

»

ফেব্রু. ২৭

অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডে দুঃখিত এবং মর্মাহত

টিএসসিতে অনেকটা প্রকাশ্যে খুন হলেন মুক্তমনা ব্লগের সম্পাদক অভিজিৎ রায়। সাথে উনার স্ত্রী আহত হয়েছেন। মাথায় কোন একটা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ফলে যে ক্ষত তৈরী হয়েছে তার থেকেই উনার মৃত্যু। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক এবং ভয়াবহ।

শুধুমাত্র ভিন্নমত প্রচার করার জন্যে তাকে খুন করে ফেললেই যদি নিজের মত শ্রেষ্ঠ হয়ে যেতো – তবে বিশ্বে অনেক আগেই ইসলাম থাকতো না। চেংগিস খাঁ থেকে শুরু করে আধুনা ওয়ার অন টেরর সবই চলছে ভিন্নমত দমনের নামে যুদ্ধ। এই খুনাখুনী কোন সমাধান নয়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো – সমাজের খুনাখুনির বিস্তার সবাইকে সন্ত্রস্ত করে তুলবে। সমাজে বিশৃংখলা তৈরী হবে। কয়েক মাস আগে নুরুল ইসলাম ফারুকী নিহত হলেন – দুই বছর আগে হত্যা করা হয় ব্লগার রাজীব (থাবা বাবা)কে। কিন্তু তাতে কি ভিন্নমত থেমে যাবে।

অভিজিৎ রায়ের সাথে শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যু ছাড়া আর কোন বিষয়ে একমত হতে পারিনি। বিশেষ করে ইসলাম সম্পর্কে উনার অজ্ঞতাপ্রসুত মতাদর্শের প্রতিবাদ করেছি দীর্ঘকাল। কিন্তু কখনও ভাবিনি তাকে হত্যা করা হবে। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানচর্চার পথ রুদ্ধ হবে। কথায় কথায় ভিন্নমতের মানুষকে হত্যা করে তাদের মুখবন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতে কে সঠিক আর কে ভুল তা মানুষ জানার আগেই বিভ্রান্ত হবে। হত্যার বদলে হত্যার অধিকারই প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশে ক্রমাগত একটার পর একটা খুন হবে কিন্তু তার বিচার হবে না – এইটাও মেনে নেওয়া যায় না। এই বিচারহীনতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো – প্রতিটি ঘটনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। কেউই জানবে না আসলে কেন এই হত্যাকান্ড হলো। এতে পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার বাড়বে। সমাজে ভিন্নমতের সহবাস্থান নষ্ট হবে।

জানি না কারা এই হত্যাকান্ড ঘটালো। সবাই তাদের সুবিধামতো হত্যার দায়দায়িত্ব ভিন্ন মহলের উপর চাপাবে এবং এতে আসল সত্যটা চাপা পড়ে যাবে। এই ধরণের বিচারহীনতার সংস্কতি কোন ভাবেই সভ্য সমাজের জন্যে বাঞ্ছনীয় নয়। অবশ্যই অপরাধীদের প্রচলিত আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করানো জরুরী। আশা করি প্রশাসন এই বিষয়ে আন্তরিক হবে।

১০ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. নির্ভীক আস্তিক

    ব্যাপারটা আমাকেও অনেক কষ্ট দিয়েছে। অভিজিৎ রায়ের ব্যক্তিত্ব সবসমই অনেক ভয়ংকর ঠেকত। উনি নাস্ততিকতা প্রসারের লক্ষ্যে Militant এর ভূমিকা নিলে আমার আপত্তি ছিল না কিন্তু উনার প্রতি পোষ্টে পোষ্টে ইসলাম বিদ্বেষের ছাপ ছিল। আমার মনে হয়নি উনি অজ্ঞতা থেকে সেটি করতেন। অন্য কোন কারনে মুসলমানদের উপর তার এই বিদ্বেষ থেকে থাকতে পারে।  কিন্তু তাই বলে উনিতো আর কাউকে কোপাতে যাননি।

    সমাজে যেকোন অন্যায় অপর আরেকটি অধিকতর খারাপ অন্যায়ের জন্ম দেয়। অনেক অনলাইন নিউস মিডিয়া তাকে রীতিমত উপস্থাপন করেছে "সাম্প্রাদায়িকতার বিরুদ্ধে যোদ্ধা হিসেবে।"- একজন মৌলবাদী নাস্তিক হয়ে নাস্তিকতা ব্যতীত উনি সকল ধর্মকে নিয়ে সমালোচনা করলেতো আর অসাম্প্রদায়িক হয়ে যান না আর সেটি যদি কেবল ইসলামের বিরুদ্ধেই হয় সেক্ষেত্রেতো তাকে বিদ্বেষী আমি ডাকতেই পারি। অনার আদর্শ কে আমি অপছন্দ করতেই পরে। অনাকে হত্যা করলেই তো অনার করা অন্যায়গুলো সমীচিন হয়ে যায় না। এক অন্যায় দিয়ে আরেক অন্যায়কে justify করা নির্বুদ্ধিতার লক্ষন। মজার ব্যাপার হচ্ছে "শফিঊর রহমান ফারাবী" এর ওয়ালে গেলেও দেখা যাবে সে যে কি জঘন্য পরিমান হিন্দু বিদ্বেষী। অবাক হয়েছি তার যে কত সমর্থক তার সংখ্যা দেখে। ধারনা করা হচ্ছে এই হত্যাকান্ডের আগপিছ সে কিছু জানত। আমাদের সদালাপে এই ধরনের ব্যক্তিত্বদের কখনো প্রশ্রয় যেন না দেয়া হয় সেজন্য সজাগ থাকা দরকার।    

     

  2. এস. এম. রায়হান

    এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ঘটনা তো সত্য এবং একেবারেই মর্মান্তিক। এই ধরণের কাপুরোষোচিত হত্যাকান্ডকে কঠোরভাবে কনডেম করছি, এবং সেই সাথে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। এভাবে কথায় কথায় হত্যাকান্ডকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

    অভিজিৎ রায়কে ঠিক কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে অনুমান করছি ইসলাম ও ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ লেখালেখির জন্যই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু আমরা তো সদালাপে বছরের পর বছর ধরে তার লেখালেখির জবাব লেখালেখির মাধ্যমেই দিয়ে আসছি। তাকে স্বপ্নেও কখনো হত্যা তো দূরে থাক এমনকি শারীরিক আঘাতের কথাও মাথায় আসেনি। তাকে যারাই এবং যে কারণেই হত্যা করুক না কেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

  3. truth seeker

    stop YOUR HYPROCRACY IDIOT.wE KNOW PEOPLE LIKE U HAVE KILLED HIM

  4. আব্দুর রহমান আবিদ

    গতকাল বিকেল নাগাদ কয়েকটা ওয়েবসাইটে খবরটা দেখে প্রথমে বিশ্বাসই হতে চায়নি। এরপর যখন বুঝেছি ঘটনা আসলে সত্যি, তখন খুবই বিচলিত হয়েছি।

    সেই ২০০২ সালে ভিন্নমত ওয়েবসাইটে অভিজিৎ রায়ের লেখা "বিজ্ঞানময় কিতাব" প্রবন্ধের রিবাটাল লিখতে গিয়ে তার সাথে আমার ইসলাম নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়- 'কলমী বিতর্ক', যা এরপর বহুবছর পর্যন্ত চলেছিল।

    ইসলাম বিরোধীতাই হোক, কিম্বা আরও একধাপ এগিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষই হোক, কলমের জবাব দিতে হবে কলম দিয়ে; কাপুরুষের মত কুপিয়ে হত্যা করে নয়। এ ধরনের কাপুরুষতা ও ন্যাক্কারজনক পথ অবলম্বন করা যদি ইসলাম বিরোধীতার প্রতিবাদের ভাষা হয়, তবে তা উত্তরোত্তর ইসলামের সন্মান হানী করা ছাড়া বৃদ্ধি করবে না।

    যারা এ সন্ত্রাসী হামলা করে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে- তাদের পরিচয় কেবল একটাই- তারা সন্ত্রাসী এবং সভ্য সমাজে তাদের কোনো স্থান নেই। সরকারের উচিত এসমস্ত সন্ত্রাসীকে খুঁজে বের করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।

    1. ৪.১
      শাহবাজ নজরুল

      অসাধারণ কমেন্ট। শতভাগ 'সহমত' জানিয়ে গেলাম। 

  5. Hariz Kudrat

    দুঃখিত বা মর্মাহত হওয়ার মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি (!!!) আমাদের দেশ এখন স্বাধীন এবং আমরা বিশ্বের মাঝে স্বাধীন ও সার্ভভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অনেক আগে থেকেই স্বীকৃতি পেয়েছি। আজ বিশ্বের অনেক দেশ সেই অতীত থেকেই আমাদের দেশকে তাদের আয়  উন্নতির ক্ষেত্র হিসেবে ভাবে। এখনো আমেরিকার মতো দেশও ভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে নিঃসন্দেহে তারা লাভবান হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশই তাই ভাবে। ভারতের কোন পন্য যদি বাংলাদেশে একদিন না আসে তবে এদেশের উৎপাদিত পন্যের দাম কয়েকগুন বেড়ে যাবে বা যাচ্ছে। তাই অভিজিৎ রায়ের  মৃত্যুর পিছনে এমন বিনিয়োগকারীদের বা কোন দেশের হাত নেইতো? বাংলাদেশের শান্তশিষ্ট পরিবেশটাকে একটু গরম করার জন্য এটা নতুন করে তেলে জল ঢালার কোন ঘটনা নয়তো ???

  6. হাবিব হাসান শাকিল

    সমালোচনার জবার কলমে দেওয়া যায়। তবে বিদ্বেষের জবাব কখনো কখনো তরবারিতেও দিতে হয়

    1. ৬.১
      নির্ভীক আস্তিক

      তা, মোদের সগোত্রীয় লোকেরা যারা নিজেরাও বিদ্বেষ একটু আকটু ছড়ান, তাদের ক'জন কুপিয়েছেন? শুনুন অসব সন্ত্রাসী কথাবার্তা ছারুন। কুকুরকে মুগুর মারতে হয় তা সত্য কিন্তু তাই বলেতো তাকে নিজের দাঁত দিয়ে কামরাতে যাবেন না, তাই না ?

  7. সাফিউল ইসলাম

    মানুষ হত্যা মহা পাপ। সকল ধর্মেই বিচার বহির্ভুত মানুষ হত্যাকে জঘন্য পাপ বলে আখ্যয়িত করা হয়েছে। তাই ভাই আমরা বিনা দোষে ও শয়তানের ধোকায় পরে কোন মানুষকে হত্যা না বা এ কাজে কাউকে সহযোগিতা না করি।

     

  8. মাহফুজ

    আল-কোরআন মানবজাতির শান্তির জন্য প্রেরিত সার্বজনীন জীবন বিধান। আল্লাহতায়ালা মানুষকে ইচ্ছানুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানব মনের ফায়সালা যেমনই হোক না কেন, সেই ইচ্ছা বা ফায়সালা নেবার স্বাধীনতায় ততক্ষণ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করা চলবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না এর কারনে ইসলামি সমাজের পরিবেশ কলুষিত হয়, শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় কিংবা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়। আপন স্বাধীন ইচ্ছানুযায়ী গোপনে সৎকর্ম  করলে যেমন পরকালে তার যোগ্য প্রতিদান মিলবে। তেমনি কেউ তার স্বাধীন ইচ্ছানুযায়ী গোপনে শরীয়ত বিরোধী অসৎ কর্মে লিপ্ত থাকার পরও তা প্রকাশ না হওয়ায় একালে পার্থিব সাজা থেকে বাঁচা সম্ভব হলেও পরকালে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তবে কোন ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় কারো লাগামহীন শরীয়ত বিরোধী অসৎ কর্ম একালেই প্রকাশিত হয়ে পড়লে তাকে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে এবং আল-কোরআনের বিধান এবং তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সহী হাদিছের ফয়সালা অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে।

     

    মানব সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিশেষ বিশেষ অপরাধের জন্য শাস্তির মাত্রা কিরূপ হবে তা ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ণ, বিজ্ঞ ও যোগ্য বিচারকের অধীনে স্রষ্টা প্রেরিত (০৫:৪৯) সর্বশেষ কিতাব আল-কোরআনের বিধান অনুসারে নিরুপণ কোরে সুবিচার (০৫:০৮) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুবিচারের প্রশ্নে কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ জনিত সীমালঙ্ঘন কিংবা খেয়াল খুশির অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

     

    এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। কোন মুসলিম নিজ ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়ে গেলে বা ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করলে তাকে 'মুরতাদ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শরীয়তের দোহাই দিয়ে অনেকেই ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত এ ধরনের মানুষকে হত্যা করা যায়েয হিসেবে প্রচার করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- শুধুমাত্র 'মুরতাদ' হওয়ার কারনে কাউকে হত্যার পারমিশন কি আলকোরআন দেয়?

    বিস্তারিত এখানে দেখুন- মুরতাদ কিংবা নাস্তিকের শাস্তি কি মৃত্যুদণ্ড বা শিরচ্ছেদ?

     

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।