«

»

এপ্রিল ০৪

ধর্ম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জামায়াতের আরেকটা ক্লাসিক ভন্ডামী

জামায়াতকে একটা রাজনৈতিক দল হিসাবে যতটা সফল হিসাবে দেখছি – তার চেয়ে তাদের সফল মনে করি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসাবে। ড. ইউনুসের সামাজিক ব্যবসা আর ইহুদীদের সুদের ব্যবসার একটা অপূর্ব সমন্বয় করে জামায়াত ব্যবসার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সফল একটা প্রতিষ্ঠান। এরা দীর্ঘ মেয়াদি ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে কর্মচারী-কর্মকর্তা তৈরী প্রকল্প হিসাবে দরিদ্র-মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে – ইসলামের নামে তাদের উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করে – আর্থিক সহায়তা শুধু নয় – ক্ষেত্র বিশেষে দূর্নীতির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে অবশেষে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়। এতে তাদের আনুগত্য আর দায়বদ্ধতা থাকে অনেক বেশী – ফলাফল আজকের ইসলামী ব্যাংক – যারা অকাতরে অর্থ বিলিয়ে টিভির প্রাইমটাইমে বিজ্ঞাপন দেয় – ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞাপনের মাঝে নাচ-গান-নাটক চলে। হু কেয়ার্স এবাউট ইসলাম – বাণিজ্যে বসতি লক্ষী। এই নীতিতে এরা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও একটা যোগাযোগ রেখে বানিজ্যে সফলতাকে ধরে রাখছে। এই হলো জামায়াতের গত চল্লিশ বছরে বাংলাদেশের সাফল্য। 

আসলে এই বিষয়টা বলার জন্যে এই পোস্ট না – জামায়াত মুখে ইসলামের কথা বললেও সুদকে হালাল করা মাধ্যমে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ফ্যাতনা তৈরী করেছে – তেমনি নিজেদের দলীয় অবস্থান ধরে রাখার জন্যে কালে কালে নিজেদের অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এই পরষ্পর বিরোধী অবস্থানগুলোকে সব সময়ই এরা ইসলাম দিয়ে যৌক্তিক করেছে। 

তার প্রথম উদাহরন হলো – পাকিস্তান জন্মের সময় ভারত ভাগের সবচেয়ে বড় বিরোধীতাকারী ছিলো জামায়াতের গুরু মাওলানা মওদুদী – দেখুন তার ভাষ্য – 

” Who are the Muslims you are claiming to be a separate nation? Here, the crowd called Muslims is full of all sorts of rabble. There are as many types of characters in this as in any (other) heathen people”. (Vol. III, P.166)  “Muslims and the Present Political Turmoil” (Vol.III)

তারপর কি হলো – ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে বাঙালীদের হত্যা _ ধর্ষণ শুরু করলো – তখন জামায়াত হয়ে গেলো পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রক্ষক – নিজামীর ভাষ্য আমারা সবাই জানি – 

তাতে নিজামী বলেন, ‘পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। আল্লাহ একে বারবার রক্ষা করেছেন। ভবিষ্যতেও রক্ষা করবেন। দুনিয়ার কোনো শক্তি পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না।’ একাত্তরের ৫ আগস্ট দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় নিজামীর একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

Nizami_17Nov_1971
 

 জামায়াতের আরেক নেতা গোলাম আজমতো পাকিস্তান না থাকলে বেঁচে থাকার অর্থই খুঁজে পাননি ১৯৭১ সালে – যদিও উনি তারপরও ৪৪ বছর বেঁচে ছিলেন – সামরিক সরকারের করুনায় নিয়ে বাংলাদেশে এসে নাগরিকত্বও নিয়েছিলেন। 

Golam Azam 26 SEP 1971

এইতো গেলো তাদের ক্লাসিক পল্টিবাজীর ইতিহাস। 

এখন দেখি শিবিবের লোকজন মিছিল করে স্বাধীনতা দিবসে – স্বাধীনতা এনেছি – স্বাধীনতা রাখবো। ওরা গোলাম আযম নিজামীকে স্বাধীনতার অতন্ত্র প্রহরী হিসাবে লেখা ব্যানার বহন করে। কোরন রাজনৈতিক দল এতো নিল্লর্জ হতে পারে – জামায়াতকে না দেখলে হয়তো বুঝা হতো না – যারা রাজাকার আল-বদর বাহিনী বানিয়ে পাকি-্আর্মির সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্ম ঠেকানোর জন্যে মরনপণ লড়াই করেছে – তারা এখন দাবী করে তাও প্রকাশ্যে – তারা স্বাধীনতা এনেছে এবং তার রক্ষক। 

 

এইটাও সেই একই ফর্মূলার মাঝে পরে – যখন যা তখন তা – রাজনৈতিক সুবিধাবাদ আর ভন্ডামী করে যে কোন ভাবেই টিকে থাকা। 

সর্বশেষ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে জামায়াতের অতি বিপ্লবঅ ভূমিকা দেখলাম সবাই। ২৮ বছরে আগে রীট করা হয়েছিলো এই সংশোধনী নিয়ে – এর মাঝে ৫ বছর জামায়াত ক্ষমতার অংশীধার হিসাবে সরকারে ছিলো –  তখন তারা উট পাখি হয়ে বালিতে মুখ গুঁজে রেখেছিলো – রীটের বিষয়ে টু শব্দও নেই। অবশেষে এই সরকার – বিশেষ করে আওয়ামীলীগ যে রাজনীতিতে চ্যাম্পিয়ান তা আবার প্রমান করলো – সবাইকে মুলা দেখিয়ে অবশেষে কৌশলে বিতর্ককে ধামাচাপা দিলো। এতে সাপও মরলো – লাঠিও বাঁচলো। এই সময় হেফাযত ইসলাম রক্ষায় কোর্টের বিচারকেও হুমকী দিয়ে যখন তাওয়া গরম করছিলো -হঠাৎ জামায়াত সেই তাওয়ায় রুটি সেকার মতো করে হরতাল ঢেকে বসলো। 

কিন্তু ১৯৮৮ সালে ৭ই জুন পতিত লস্পট স্বৈরশাসক এরশাদ যখন ক্ষমতায় টিকে থাকার শেষ অস্ত্র হিসাবে অষ্টম সংশোধনী পাশ করে ইসলামের নামে একটা প্রতারনা করলো – যাতে সাধারন মানুষের একটা সমর্থন পায় – তখন আর সব রাজনৈতিক দলেও মতোই এই সংশোধনীর বিরোধীতা করেছিলো। এরা এই রিবোধীতায় আরো সুষ্পষ্ট শব্দ উচ্চারন করেছিলো। "সরকার তাদরে গনবিরোধী কার্যকলাপ ঢাকা দেওয়ার জন্যে ইসলামের নাম ব্যবহার করিতেছে। এই কথাতো আমরাও বলছি। এরশাদ ইসলামকে নিয়ে একটা প্রতারনা করেছে। সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়েছে। 
Jamat2কিন্তু সময় বদলায় – জামায়াতও বদলায়্ – এবার তারা কি বলে – "কতিপয় রাষ্ট্র ও ধর্মবিদ্বেষীদের খুশী করার জন্যে"। বুঝাই যাচ্ছে জামায়াত ব্যাক টু দ্যা নর্মাল – সব কিছুতে অন্যের দিকে আংগুল তোলা – বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের প্রতি দোষারোপ করে নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠার একটা চেষ্টা সব সময়ই জামায়াতের মুল রাজনীতি।

 

jamat1

 

এইটা হলো – ভয়ের রাজনীতি – ত্রাসের রাজনীতি। সবাই ইসলামের শত্রু – তাইলে বাকী থাকে জামায়াত – যাদের নামের শেষ ইসলাম আছে – সুতরাং তারাই ইসলামের একমাত্র রক্ষক। কিন্তু মজার বিষয় হলো ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা – ইসলামের নামে সবচেয়ে বড় অপরাধ এই উপমহাদেশে করেছে জামায়াত – লাহোরের কাদিয়ানীদের উপর দাঙ্গা চাপানোর দায়ে মওদুদীর যে ফাঁসীর আদেশ হয়েছিলো – তাও যেমন ইতিহাসের অংশ – ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে জামায়াতের তৈরী রাজাকার আর আলবদররা গনহত্যা আর নিজেদের বোনদের উপর অত্যাচারের কারনে আজ বিচারে সন্মুখীন তাও ইতিহাসে অংশ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লজ্জাহীন এই সংগঠনটা তাদের কোন ভুলই ভুল মনে করে না – কোন অন্যায়কে অন্যায় মনে করে না। সুদকে ব্যবসার পরিনত করা যেমন তাদের জন্যে স্বাভাবিক – তেমনি ইসলামের নামে তাদের সকল কর্মকান্ড জায়েজ করার চেষ্টাও তাদের কাছে স্বাভাবিক। 

এই ক্লাসিক পল্টিবাজ ইসলামের নামে ব্যবসা প্রতিষ্টান আসলে বাংলাদেশের ইমানদারদের জন্যে একটা ফেতনা বিশেষ – আল্লাহ বাংলাদেশের ইমানদারদের এই ফেতনা থেকে রক্ষা করুন। 

নীচে আরো কিছু পেপার কাটিং দেওয়া হলো যাতে সেই সময়ের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের বর্নণা আছে। বিএনপি ্‌আর আওয়ামীলীগের বিষয়ে কোন মন্তব্য নেই – কারন ওরা জনগনের পিছনে হাঁটে – জনগনের মনোভাব বুঝে তাদের অবস্থান বদলায়। এইটাই হলো বর্তমান যুগের রাজনীতি – এ আর্ট অব কম্প্রোমাইজ।  তবে সমস্যা হলো তারাও নিজেদের দিকে ভোটের স্রোত রাড়াতে ধর্মকে ব্যবহার করছে – যা একটা দুঃখজনক ঘটনা। মানুষকে বিভ্রান্ত করা  ছাড়া এতে কোন লাভ নেই – ইসলামের ক্ষতিতো হয়নি – তবে যারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসাবে পরিচয় দিয়ে এই ধরনের পল্টিবাজী করে – তারা ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে বলাই বাহুল্য। তাই ফোকাসটা তাদের দিকেই বেশী দিতে হয়। 

DX3nGIb6zgd4Cs
gsLPWOW

0IoN15l

২২ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. মজলুম

    সদালাপের যে কারনে জন্ম তার থেকে কি আপনারা দূরে সরে যাচ্ছেন না?  একজন জামাতির সাথে আপনার আওয়ামিলীগকে ডিফেন্ড করার জন্যে যে সময় ব্যয় করেন তার চেয়ে ইসলামের পক্ষে বা মুসলিমদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে  কিভাবে অবস্হান ভালো করা যায়। ইউরোপ আমেরিকা জুড়ে মুসলিম বিরোধী ফেসিস্ট গ্রুপ গুলোর ভয়ংকর রকম উত্থান নিয়ে লেখুন। ইসলাম বিদ্বেষী গ্রুপ গুলো নিয়ে লিখুন। ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখলাম ভালো রকম টাকা পয়সা দিচ্ছে ইউরোপের মুসলিম বিরোধী ফেসিস্ট গ্রুপ গুলোকে।  সৌদি নেত্তৃত্তে ৩৪ টি মুসলিমদেশের সামরিক জোটের মুসলিমদের জন্যে কি নতুন মেরুকরন? মুসলিম দেশগুলোয় শিক্ষার হার গত ৫০ বছরে কত পরিবর্তন হয়েছে, কতটুকু হয়েছে অর্থনিতীতে, এইসব।   একটু ভেবে দেখবেন।   জামাত বা আওয়ামিলীগকে নিয়ে পড়ে থাকা আপনাকে মানায় না।  

     

    জামাত, আওয়ামিলীগ  এইসব নিয়ে কোন পোষ্ট সদালাপে না আসাই ভালো। আর জামাতিদের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই। এরা একটা পোষ্ট দিবে কোরানের আয়াত দিয়ে, পরের পোষ্ট দিবে রাজনিতির নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে, পরের পোষ্ট দিবে একটা হাদিস দিয়ে, তারপর পোষ্ট দিবে গুজব দিয়ে। সো এদের কথা বাদ।

    1. ১.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার সাথে একমত যে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং মুসলিম বিষয়গুলো আরো বেশী আসা উচিত সদালাপে। কিন্তু বাংলাদেশের চলমান বিতর্কগুলো নিয়ে সদালাপে একপক্ষীয় লেখাগুলোর বিপরীতে প্রকৃত সত্যগুলো তুলে ধরা যৌক্তিক বিবেচনা করি। 

      আর বলি কি – দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের শত্রুদের নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি – কিন্তু নিজেদের দিকে নজর দেওয়ার সময় পাইনি। আমার বিশ্বাস – নিজেদের দিকেই আগে নজর দেওয়া উচিত। আমরা যেমন মুসলমানদের সংকট এবং কষ্ট দেখছি – অন্যদিকে মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলোতে মুসলিমদের কোরান এবং সুন্নাহ বিরোধী জী্‌বন ব্যবস্থা দেখছি। সূদ আর শিরক এখন জীবনের অংশ হয়ে গেছেন। এখন যদি প্রশ্ন করি মুসলিমদের এই কষ্টকর অবস্থার কথা কি কোরান-হাদিসে কোন ইংগিত দেওয়া হয়নি – অবশ্যই আছে। যতক্ষন না নিজেদের আমরা সঠিক পথে নিতে পারছি ততক্ষন আমাদের উপর এই দূর্যোগ চলবেই। 

      তাই মাঝে মধ্যে নিজেদের দিকে নজর দেই। সময় পেলে অবশ্যই বৈশ্বিক প্রসংগ আসবে। তবে আমি আশাবাদী মানুষ – কারন পশ্চিমা দেশগুলোর ইসলাম চর্চার গুনগত দিকগুলো দেখছি – দেখছি মুসলিম পরিবারগুলোর ইসলামী শিক্ষার বিষয়ে গভীর আগ্রহ – আশাবাদী না হওয়ার কোন কারন নেই। শুধুমাত্র ভয় পাই – ইসলামের নামে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর অনাচারদের দায় না সবাইকে বহন করতে হয়। 

      ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্যে। 

    2. ১.২
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আর জামাতের কথা বাদ দিতে পারলে ভালই লাগতো – কিন্তু জামাতের এতো কুকর্ম জানার পরও যখন দেখি শিক্ষিত মুসলিমরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের ইসলাম রক্ষার জন্যে জামায়াতের দরকার আছে – তখন কিছু কথা না বলে থাকা কঠিন।এই ক্ষেত্রে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলাকে অনেকে আওয়ামীলিগের পক্ষে কথা বলা বা ভারতকে সমর্থন করা হিসাবে ট্রান্সলেশান করতে পারে – সেইটা তাদের সমস্যা। তবে জামায়াত যে বাংলাদেশের জন্যে একটা বড় ফেতনা – তা অস্বীকার করা যাবে না – তাই প্রাসংগিক ভাবেই জামায়াত আসে। 

  2. মজলুম

    কিন্তু জামাতের এতো কুকর্ম জানার পরও যখন দেখি শিক্ষিত মুসলিমরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের ইসলাম রক্ষার জন্যে জামায়াতের দরকার আছে

    এদের সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষিত হওয়ার পর যদি শিক্ষার আলোকে নিজের বিবেক দিয়ে বিচার করতে এবং দেখতে না পারে তাহলে তা নিজের শিক্ষার অপচয়।  আর থার্ড ক্লাসলোকদের সাথে আলোচনা/তর্ক না করাই ভালো। ওদেরকে ওদের উপর ছেড়ে দিন।

  3. মজলুম

    তবে জামায়াত যে বাংলাদেশের জন্যে একটা বড় ফেতনা

    জামাতের চেয়েও বড় ফেতনা দেশে আছে। তাহলো দেশের  ৯০% লোক মুসলিম হলেও প্রায় সবই দূর্নিতীবাজ। শুধু চুরি করার চান্স না পাইলেই সে সৎ, চুরির চান্স পাইলেই দূর্নিতীবাজ। একেবারে বটম লাইন হতে টপ লাইন, সবাই দূর্নিতী  করার চান্সে থাকে। তাই দূর্নিতী, মাজারপূজা/শিরকি, সুদ, ঘুষ, অন্যায়, অবিচার, নৈতিকতার অধঃপতন  এইসবই বাংলাদেশের বড় ফেতনা, জামাতী ফেতনা অনেক পরে।

    1. ৩.১
      shahriar

      Agreed with you.

       

      Jajak-allah.

  4. শামিম

    ভারতের দালালদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু অাশাকরা যায় না !

  5. সুজন সালেহীন

    জামায়াতের আরেকটা সফলতা হচ্ছে বাংলাদেশের আস্তিক, নাস্তিক, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, মিথ্যাবাদী, কাদিয়ানি,  মুক্তমনা, দেওবন্দী, নদভী, বেরেলবী, লা-মাযহাবী ইত্যাদি সবার আগ্রহ সমভাবে আকর্ষণ করতে পেরেছে!

  6. সুজন সালেহীন

    ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞাপনকে কি আযানের চাইতেও বেশী পবিত্র জ্ঞান করছেন! এখন বিটিভিতে চলে দুই আযানের মাঝখানে নাচ-গান-নাটক-গীবতচর্চা ও মিথ্যায়পরিপূর্ণ শেখ মুজিব বন্দনা। হু কেয়ার্স এবাউট ইসলাম – প্রতারণা বসতি লক্ষী।

  7. Muhammad Belal Hossain

    Brother, I have no problem when you talk about political Jamat. But when you say that their economic institutions are making haram as halal you mean they are considering haram interest as their income.. Brother, you are accusing someone which is very serious sin if you are wrong. In addition you are making absolutely foolish claims without any proof. I don’t know how many books you have read about islamic banking systems. I am an MBA student and I have studied a few books on this subject. You are not only questioning the jamat e institutions, I think you are questioning the whole islamic system of banking because islamic institutions are regulated by the shariah board of International standard. You better give a very specific reference of the holy Quran and authentic Hadith that goes against their policy of banking systems. Also, It would be more nice, when you accuse someone with proof not as a so called criticizer.

    May Allah guide us all.

    1. ৭.১
      Shahriar

      very well said, 

      jajak-allah

    2. ৭.২
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      আপনার মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। 

      আপনার মন্তব্য যদি বুঝতে পারি তবে তার সারমর্ম হবে – 

      ১) আপনি প্রথমত আমাকে পাপের ভয় দেখিয়েছেন – কারন এই ভাবেই কথা বলা বন্ধ করা যায়। 

      ২) আপনি এমবিএ তে বই পড়েছেন – কিন্তু কি পড়েছেন বলেননি।

      ৩) আপনি আমাকে বললেন আমি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছি কোন প্রমান ছাড়া্‌ই। 

      ৪) ইসলামিক ব্যাংকিং আন্তর্জাতিক মানের শরিয়াহ বোড দিয়ে নিয়ন্ত্রত হয়। 

      ৫) সর্বশেষ আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন – হাদিস-কোরান থেকে প্রমান হাজির করতে – যা ইসলামিক ব্যাংক আসলে সুদকে ব্যবসা বানিয়েছে। 

       

      – প্রথমত আপনাকে একটা প্রশ্ন করি – এই পর্যন্ত কোন আলেম বা মুফতি পেয়েছেন যিনি ইসলামিক ব্যাংকিং কে দ্ব্যার্থহীন ভাবে "হালাল" বলেছেন? মোটেও তা বলেননি। কারন – ইসলামিক ব্যাংক যেমন নামের আগে ইসলাম লাগিয়েছে – ঠিক তেমনি তাদের প্রডাক্টগুলোকে ইসলামীকিকরন করছে – অনেকটা হাত ঘুরিয়ে ভাত খাওয়ার মতোই। 

      লক্ষ্য করুন – ইসলামি ব্যাংক আসলেই একটা ব্যাংক – পুঁজিবাদের সুদনির্ভর অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি হলো ব্যাংক – ইসলামী ব্যাংক কি আলাদা কিছু করেন যা প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেমের থেকে আলাদা। শুধু তাদের প্রডাক্টের নাম ভিন্ন। 

      আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন – সুদকে হারাম করেছেন – লক্ষ্য করুন ইসলামী ব্যাংক কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান না – এরা কোন উৎপাদনের সাথেও জড়িত না। শুধু একজনের থেকে অর্থ নিয়ে আরেকজনকে দেয় – অর্থ প্রদানকারীকে কোন সময় লাভ দেয় অথবা দেয় না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক কোন অর্থগ্রহীতার ক্ষতির শেয়ার করে কি?

      যাই হোক – ইসলামী ব্যাংকের স্পন্সরে টিভিগুলোতে যে ইসলামী প্রশ্নত্তোর অনুষ্টান হয় – সেখানেও দেখি উত্তরদাতা সব সময়ই বলেন – শরীয়াহ বোর্ডের কথা। কেউ সরাসরি বলে না যে ইসলামী ব্যাংক সুদমুক্ত ব্যাংক। ঠিক তেমনি আপনি আন্তর্জাতিক মানের শরীয়া বোর্ডের কথা বললেন – আসলে সেইটা হলো ইসলামী ব্যাংকগুলো সমন্বয় এবং একটা স্টান্ডার্ড তৈরীর প্রতিষ্ঠান – সেখানে ব্যাংকগুলো শরীয়াবোর্ডই প্রকৃতপক্ষে মুল ভুমিকা রাখে – সেই প্রতিষ্ঠান শরীয়া বোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতার একটা স্টান্ডার্ড তৈরী করেছে – যা কোন ভাবেই লিগাল বান্ডিং এর মাঝে পড়ে না। 

      যাই হোক – আমিতো আর আলেম না – আমি বাস্তবতা দেখি – আর আলমদের বয়ান শুনি – তার ভিত্তিতেই কথা বলি। সাদাকে সাদা – কালোকে কালোই বলি। নাম দেখেই উল্লসিত হই না। 

      শেষ কথাটা বলি – যার যা কেনার যোগ্যতা নেই – আল্লাহ যাকে একটা টিভি কেনার যোগ্যতা দেননি – তাকে পাঁচ বছরের জন্যে পরিশোধের লক্ষ্যে একটা অতিরিক্ত দাম ধরে ইসলামী ব্যাংক যে টিভিটা কিনে দেয় – তার যে অতিরিক্ত অর্থ তা কি সুদ নয়? 

      এই সহজ বিষয়টা যারা বুঝতে অপরাগ – অথবা যারা দলীয় আনুগত্য বা অন্যকোন কারনে ইসলামী ব্যাংককে ইসলামের অর্থনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচনা করেন – তাদের জন্যে নীচের দুইটা ভিডিও –

       

      Zakir Naik
      https://www.youtube.com/watch?v=fToAyVUbRFA

      Shaykh Imran Hosein
      https://www.youtube.com/watch?v=apr4Wju62XY

       

  8. Md. Belal Hossain

    আসালামু-আলাইকুম ভাই,

    আপনি কি মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীর লেখা “সুদবিহীন ব্যাংকিং” বইটা পড়েছেন? যদি পারেন বইটা একটু পড়ে দেখেন।

    আপনি হয়তোবা আমার কথাগুলো বুঝতে একটু ভুল করেছেন। আমি কিন্তু বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংক এর কথা বলিনি, আমি বলেছি ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেম এর কথা। উক্ত বইতে আপনার ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেম সম্পর্কে যে কমন অভিযোগগুলো রয়েছে তার আলোচনা রয়েছে। আশা করি বইটা পড়লে বুঝতে পারবেন।

    আপনি বলেছেন, “যার যা কেনার যোগ্যতা নেই – আল্লাহ যাকে একটা টিভি কেনার যোগ্যতা দেননি – তাকে পাঁচ বছরের জন্যে পরিশোধের লক্ষ্যে একটা অতিরিক্ত দাম ধরে ইসলামী ব্যাংক যে টিভিটা কিনে দেয় – তার যে অতিরিক্ত অর্থ তা কি সুদ নয়?”

    এখানে কথা হচ্ছে, ধারে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা যাবে এটা অনেক আলেম ই জায়েজ বলেছেন। যেমন, ইমাম আবু হানিফা (রঃ)। সেজন্যই বলছি যে, আপনি হয়তো না জেনেই বেশি সন্ধেহ করছেন যা ইসলামে অন্যায়। আর পাপের ভয় আমি কাউকে দেখাচ্ছি না। পবিত্র কোরআনে স্বয়ং আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সাবধান করেছেন যে, আমরা যাতে না জেনে কাউকে অপবাদ না দেই। সুরা মুমিনুন নিশ্চয়ই পড়েছেন।। ইসলামিক অনুষ্ঠানে আপনি হয়তো কাউকে জোরালোভাবে বলতে শুনেননি কিন্তু আমি হয়তো শুনেছি যে তারা হালাল ব্যবসায় করছে।( যেমন, মুফতি ইব্রাহীম) 

    আমি যেটা বলেছি , মুদারাবা, মুরাবাহা, মুশারাকা ইত্যাদি ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে যদি আপনার কোন সঠিক প্রমান থাকে যে, এগুলো ইসলামে হারাম তার সঠিক রেফারেন্স দিতে বলেছি কোরআন ও হাদিসের আলোকে। কোন আলেম যদি বলে থাকে তার রেফারেন্স দিয়ে লিখতে বলেছি। আপনি যেভাবে বলছেন তাতে মনে হচ্ছে ইসলামে ব্যাংকিং সিস্টেম বলেই কিছু নেই যা আছে তা সবই হারামকে হালাল দেখিয়ে বানানো।।

    ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেমটা ইসলামি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে রচিত। আপনি যেটা বলছেন সেটা আপনার বিবেক ও বুদ্ধি বিবেচনা। কিন্তু, বুদ্ধি বিবেচনার আগে ইসলামে হাদিস ও ফিকাহের গুরুত্ত বেশি বলেই আমি মনে করি।। 

    1. ৮.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ওয়ালাইকুম আসসালাম,

      ১) মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীর লেখা “সুদবিহীন ব্যাংকিং” বইটা পড়েছেন?

      – না,পড়িনি। তবে সুদবিহীন ব্যাংকিং বিষয় কিছু লেকচার শুনেছি। সেইগুলো মোটামুটি থিয়োরীটিক্যাল। বাস্তবে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপরেই ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে বলে সবাই একমত।

       

      ২) আমি কিন্তু বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংক এর কথা বলিনি, আমি বলেছি ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেম এর কথা।  

      – আমি মুলত বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকের কথাই বলেছি। যা বাস্তব এবং ভুক্তভোগীদের মুখ থেকে শুনা বর্ণনা থেকেই এই মতে এসেছি – প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থারই ইসলামী ভার্ষান হলো ইসলামী ব্যাংক – যারা শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে – নানান ধরনের বন্ড এবং শেয়ারে ইনভেষ্ট করে – আন্তব্যাংক লেনদেন করে – পণ্য ক্রয়ে লোন দেয় ( যদিও নামটা ভিন্ন) শুধুমাত্র একটা একাউন্টে কোন লাভ গ্রাহকরা পায় না – কিন্তু তাদের টাকা অন্যকে ধার দিয়ে ব্যাংক ঠিকই লাভ তুলে নেয়। 

      ৩) টিভি ক্রয় প্রসংগটা এনেছে মুলত পুঁজিবাদের ভোগবাদী বাজার সম্প্রসারনের ব্যাংকের ভূমিকা বুঝানোর জন্যে। পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ক্রেডিট সিস্টেম মুলত একটা কৃত্রিম ক্রয় ক্ষমতা তৈরী করে মানুষকে ক্রেডিট দিয়ে – ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ শুরু থেকেই ক্রেডিট বিষয়টা বাংলাদেশে চালু করেছে। লক্ষ্য রাখবেন – হাদিসের যে রেফারেন্স দিয়েছেন – তা হচ্ছে সেই পন্যের মালিক ক্রেডিটে (বাকীতে) পন্য বিক্রির সময় পারষ্পারিক বুঝাপড়ার মাধ্যমে একটা উচ্চমূল্য নির্ধারন করতে পারে। এখানে আমার উদাহরনে ইসলামী ব্যাংক না পন্যের মালিক – না ওরা পন্যের উৎপাদক – তা অন্যদিকে পন্য উৎপাদন এবং বিপননেও ঋণ দেয় – ক্রেতাকেও ঋন দেয় – মুলত একটা কৃত্রিম ক্রয়ক্ষমতা এবং বাজার তৈরী করে নিজেরা মধ্যসত্ত ভোগী হিসাবে শুধু লাভটা নেয়। সমস্যাটাএখানেই। নাম পরিবর্তন করে এরা আসলে পুঁজিবাদের মডেল অনুসরন করেই ঋণে দিয়ে বাজার তৈরী করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। 

      ৪) মুফতি ইব্রাহিম একজন সন্মানিত এবং জ্ঞানী ব্যাক্তি। এর আগে একটা অনুষ্ঠানে উনাকে শুনেছি বলতে – এই বিষয়ে উনি কিছু জানেন না – ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড আছে – তারা নিশ্চয়ই বিষয়টা ভেবে চিন্তেই হালাল বলেছে। কিন্তু গতকাল পিস টিভিতে উনার এই বিষয়ে কথা শুনলাম। শুনে কিছুটা আশাহত হয়েছি। কারন উনি মুলত যারা ইসলামী ব্যাংকের সমালোচনা করে তাদের সমালোচনা করতে না করছেন এবং এর পক্ষে কোরান-হাদিস থেকে কোন রেফারেন্স না দিয়ে একটা যুক্তি দেখিয়েছে। যতটুকু আমি বুঝেছি – উনার মতে "সিস্টেম" করলে হারামও হালাল হয়ে যায় – উদাহরন হিসাবে উনি বিবাহ বহিভূর্ত সন্তানের কথা বললেন। বললেন – বিষয়ে না করলে সেই সন্তান অবৈধ হবে – আর বিয়ে করলে একই পদ্ধতিতে সন্তান বৈধ হবে। উনাকে সুযোগ পেলে প্রশ্ন করা যেতো – শুয়রের মাংস আর মদ যা সুষ্পষ্ঠ ভাবে হারাম করা হয়েছে – তা কোন "সিস্টেম" করে হালাল বানানো যায়? সেই ভাবে সুদও সুষ্পষ্ট ভাবে হারাম – যা "সিস্টেম"করে হালাল করার চিন্তাটা কি ভুল নয়! 

      ৫) ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেমটা ইসলামি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে রচিত। আপনি যেটা বলছেন সেটা আপনার বিবেক ও বুদ্ধি বিবেচনা। 

      – দেখুন "ইসলামী ব্যাংক" বলতে কোন বিষয় নেই। ইসলাম এবং ব্যাংকিং পরষ্পর বিরোধী বিষয়। ইসলাম মুলত জনকল্যানমূল অর্থনীতি কথা বলে। এখানে সম্পদ জমানোর বা ঘরে বসে টাকা খাটিয়ে লাভ নেওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহ মানুষকে কর্মমুখী হিসাবে তৈরী করেছে। আর ব্যবসা হলো কর্মমুখী একটা প্রক্রিয়া। 

      আপনি হাদিস আর ফিকাহর কথা বলছেন – ১৪৫০ বছরেও কেউ এই হাদিস বের করতে পারলো না – একদল মানুষ প্রচলিত (ইহুদীদের তৈরী সুদের ব্যাবসার সমন্বিত এবং সংঘটিত প্রতিষ্টান হলো ব্যাংক) ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিতরে হাদিস ব্যবহার করার মতো জ্ঞানার্জণ করে ফেললো – কি চমৎকার বিষয় না। শুধু একটা কাজ যদি করতে পারতো ইসলামী ব্যাংক – তাদের নাম থেকে ব্যাংক শব্দটা বাদ দিতো পারতো – তা হলেও বুঝা যেতো। একদল মুফতি সব সময়ই পাওয়া যাবে যারা সব বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার মতো যুক্তি আর মালমশলা পেয়ে যাবেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে – ইহুদীদের সুদের বিষয়টাকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কঠিন ভাবে সুদকে নিষিদ্ধ করেছেন। আর আমরা নানান ভাবে নেই সুদের ব্যবসাকে যৌক্তিক করার জন্যে চেষ্টা করছি। 

      শেষ কথা হলো – ইসলামী ব্যাংকের সাফল্য আরো এগিয়ে যাবে। পশ্চিমা দেশগুলো এই কনসেপ্ট লুফে নিয়েছে – একদল মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবে – তাদের কোন সুদ দিতে হবে না – আর সুদ না বলে সার্ভিসচার্জ নাম দিয়ে অতিরিক্ত কিছু কামাই করে যাবে – তাই অতিশিঘ্রই কানাডার মেজর ব্যাংকগুলো শরিয়াহ সন্মত প্রডাক্ড আনছে এবং অবশ্যই মুসলিমরা হুমড়ী খেয়ে পড়বে। যেমন দেখি টরন্টোর চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও হালাল সাইন লাগানো থাকে – যদিও ভিতরে মদও বিক্রি হয়। যদি সাইন লাগিয়ে টু-পাইস অতিরিক্ত কামানো যায় – এই সুযোগ কে ছাড়বে। 

       

  9. Ziaur Rahman

    যে দেশে আওয়ামী-বামদের মত স্থূল ভন্ডরা থাকে সেদেশে জামাতের মত ক্লাসিক ভন্ডদের থাকাটাই স্বাভাবিক। পরিবেশ-প্রতিবেশের সাথে অভিযোজনের একটা ব্যাপার আছে না?

  10. ১০
    সত্য সন্ধানী

     লাহোরের কাদিয়ানীদের উপর দাঙ্গা চাপানোর দায়ে মওদুদীর যে ফাঁসীর আদেশ হয়েছিলো – তাও যেমন ইতিহাসের অংশ

    জিয়া ভাই সালাম। আপনার আরেক পোষ্টেও আপনি বর্তমান জামাতের সাথে এক করে ফেলে সাথে মওদূদী সাহেবের দিকে একই তীর ছুড়েছিলেন। কিসের ইতিহাস ভাই? কে লিখেছে ইতিহাস? পাকিস্তান সরকার কিন্তু শেষে মওদুদী সাহেব কে সসম্মানে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

    আমরা বাঙালী বড়ই আজব জাত। একই সাথে জামাতের পাকিস্তানের গুষ্টি উদ্ধার করি করি ৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের জন্য। আবার সেই পাকিস্তান রাষ্ট্র মৌদুদী সাহেবের কি করেছিল সেটাকে স্টান্ডার্ড হিসাবে বার বার দেখাই শুধুই মওদুদী সাহেব জামাতের ল্রতিষ্ঠাতা বলে।

    পাকিস্তান সরকার যদি এতই সহীহ হবে তাহলে কি ৭১ সালে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে বাঙালী  নিধনটাও সহীহ ছিল? নিশ্চই না। তাহলে সেই একই পাকিস্তান তার আগে মওদুদী সাহেবের উপরে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে ফাসির সাজা দিয়েছিল এটা নিয়ে এত আগ্রহের কি আছে? 

    আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে বর্তমনা জামাতের সাথে দয়া করে পৃথীবির অন্যতম সেরা ইসলামি স্কলার মৌদুদী সাহেব কে এক করে উনার উদাহরন টেনে উনাকে ছোট করবেন না।

    আমি জামাতের চরম বিরোধী, কিন্তু যদি সত্যি জামাত=মওদুদী সাহেব হন শুধু মাত্র তিনি জামাতের ফাউন্ডার বলে তবে আমি সহ অনেকেই প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে জামাত করবে।

    কিন্তু আসলেই বর্যমান জামাত আর মৌদুদী সাহেব সম্পুর্ন আলাদা।

     

    1. ১০.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      জানি না কোন হিসাবে এই কথা বললেন – মৌদুদী আর বর্তমান জামাত আলাদা। এই বিষয়ে যদি বিস্তারিত বলেন জানতে সুবিধা হয়। তবে মৌদুদীর দর্শণ সম্পর্কে কিছুটা জানি এবং জানি যে উনার দর্শন বিশুদ্ধ ইসলামের কথাই বলে – যেমন মৌদুদী ছিলেন "জাতীয়তাবাদ" বিরোধী – আবার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার বিষয়ে উনার দর্শন এখন বিশ্বে অচল এবং ব্যর্থ। যে যাই হোক – মৌদুদীর দর্শন থেকে জামাতের বিচ্যুতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। ধন্যবাদ। 

      1. ১০.১.১
        সত্য সন্ধানী

        জিয়া ভাই, আমার জ্ঞান সীমিত।  তবে আমি মওদুদী সাহের কিছু বই পড়েছি আমার আব্বুর কাছ থেকে নিয়ে। যেমন ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ, খেলাফত ও রাজতন্ত্র। আরো বই পড়ার ইচ্ছা আছে। উনার জীবনীও পড়েছি আব্বাস আলী খানের লেখা থেকে।

        আমি এর বেশি আপাতত জানি না। জানার চেষ্টা করছি। আপনি নিজেই না সেই লেখায় আমার প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে তিনি বেঁচে থাকলে আজ জামায়াত কে সংশোধন করার চেষ্টা করতেন। নাকি ভুল পড়েছি? উনার ছেলেও বর্তমান জামায়াত কে দোষারোপ করে গেছেন। উনার ছেলে মানেই উনার সবচেয়ে কাছের লোক।

        কাদিয়ানী হত্যায় তার হাত ছিল এটার কোন প্রমান কি পাকিস্তান সরকার করতে পেরেছে?

        যে উদ্দ্যশ্য নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় সেই উদ্যশ্য পুরন হয়নি,জামায়ায়ের ক্ষেত্রে ও ব্যাপারটা সেরকম।

        ৭১ সালে জামায়াতের ভুমিকা এবং সাম্পততিক সময়ের ভুমিকা যেটা,সেটা আর যাই হোক ইসলামিক হতে পারে না। মওদুদী সাহবের দর্শন কোনকালেই খুনের বা অত্যাচারের দর্শন ছিল না।

        যেমন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার উদ্যশ্য ছিল মুসলিম দের জন্য আলাদস দেশ; এক এলাকার মুসলিম হয়ে অন্য এলাকার মুসলিম দের শোষন করা নয়। বাস্তবে সেটাই হয়েছে।

        জামায়তের ব্যাপারেও একই জিনিস হয়েছে। কাজেই জামায়াতের দোষ যদি মওদুদী সাহেবের উপর বর্তায় তাহলে পাকিস্তান আন্দোলনের দোষ বাঙালীর উপর বর্তায়। মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল ঢাকাহ এটা জানেন আপনি, আর বংগবন্ধুও পাকিস্তান আন্দোলনের একজন নিবেদিত প্রান কর্মী ছিলেন। তাহলে এখন কি মুক্তি যুদ্ধের যুদ্ধাপরাদের দায় বংগবন্ধু শেখ মুজিব বা শেরে বাংলা দের উপর চাপাতে হবে?

         

      2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        ধন্যবাদ। আপনার কমেন্ট পড়ার পর ভিন্নভাবে চিন্তা করেছি। কারন রাজনীতি আর ইসলাম চর্চাকে আলাদা করে ভাবলে বিষয়টা অন্যভাবে দেখা যায়। মাওলানা মৌদুদীর লাহোর রায়টের বিষয়টা রাজনৈতিক প্রসংগ – সেই দিকে না যাই। ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে মৌদুদী ছিলেন অবশ্যই একজন উল্লেখযোগ্য মানুষ – বিশ্বব্যাপী ব্রাদারহুট আন্দোলনের যে কয়জন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব – তাদের মধ্যে মৌদুদী ছিলেন একজন। যা কারনে উনাকে তৎকালীন সৌদি-মার্কিন অক্ষশক্তির পছন্দ ছিলো। কালের আবর্তে সৌদি আরব ব্রাদারহুট মতাদর্শ থেকে সরে গেছে – অবশ্যই রাজনৈতিক কারনেই। তারপর আমি একটা বিষয় বলবো – পাকভারত উপমহাদেশে যে সকল সংগঠন ইসলামী আন্দোলন করছে আকিদার দিক দিয়ে মৌদুদী প্রতিষ্ঠিত জামায়াত সবচেয়ে সহী-শুদ্ধ অবস্থানে আছে – বলা দরকার – এই কথাটা প্রযোজ্য কাগজে কলমে। কিন্তু রাজনৈতিক কারনে বর্তমান জামাত তাদের নিজেদের দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নীতিআদর্শ থেকে অনেক দুরে সরে গেছে। বিশেষ করে ৭১ এর অবস্থান এবং পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দের সুবিধাবাধী এবং ্‌আপোষকামীতার কারনে তারা নিজেদের গঠনতন্ত্র ্‌এবং দলীয় আদর্শকে বিসর্জন দিয়েছে। যেমন একটা উদাহরন দেখুন – তাদের গঠনতন্ত্র লেখা আছে "যে কোন পদের জন্যে প্রার্থী হওয়াই হলো অযোগ্যতা" – এইটা হাদিসের অনুসারে সত্য কথা -কিন্তু জামায়াত  নিয়মিত বিভিন্ন নির্বাচনের পদপ্রার্থী হচ্ছে। এই বিষয়ে হয়তো তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে – এই্টাই তাদের বিচ্যুতি – মানে এরা যা বলে করে তার উল্টোটা। তেমনি ৭১ এ মৌদুদী নিজে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষাবলম্বের দ্বিধান্বিত ছিলেন – কিন্তু গোলাম আযমের জিদের কাছে পরাজিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার তাদের উপর ছেড়ে দেন – এই খানে ৭১ এর কুকর্মের দায় কতটা মৌদুদির উপর বর্তায় তা একমাত্র আল্লা্হই বিচার করতে পারেন। উনি হয়তো জামায়াতের এই অপকর্ম বন্ধ করতে পারতেন – হয়তো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে যথেষ্ট তথ্য উনার কাছে ছিলো না। তাই উনাকে বেনিফিট অব ডাউট দেওয়া যায়। 

        প্রকৃতপক্ষে আমি আপনার কথায় কনভিন্স – কয়েকদিন ধরে কিছু কিছু বিষয় পড়ার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি মাওলানা মৌদুদীর উপর আরো জানার চেষ্টা করবো এবং খোলা মনেই তা করবো। ধন্যবাদ। 

      3. সত্য সন্ধানী

         সালাম জিয়া ভাই। আপনার উপলব্ধির জন্য অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন সেই দোয়া করি, আমীন।

    2. ১০.২
      সুজন সালেহীন

      @সত্য সন্ধানী

      আপনি দেখি ভিন্নজাতের জামায়াত-বিরোধী ইসলামপন্হী! আপনার এই আজবগোত্রের দাবী দেখে আবু সাঈদ জিয়াউদ্দীন সাহেবের মত ক্ল্যাসিকেল জামায়াত-বিরোধীরাও হা হয়ে গেছে। এতদিন শুনতাম মওলানা মওদুদীর গোমরাহী ও ভ্রান্ত আকিদার জন্য জামায়াত-বিরোধী ইসলামপন্হী বিশেষ করে কওমী চিন্তা-ধারার উলামারা জামায়াতের বিরোধীতা করেন। দেওবন্দী আলেম শোয়ালাকিয়ার ইমাম মওলানা ফরিদউদ্দীন মাসুদ সাহেবতো বলে দিয়েছেন জামায়াত মওদূদীবাদ ছেড়ে দিলে তার সাথে জামায়াতের কোন বিরোধীতা নেই।

      1. ১০.২.১
        সত্য সন্ধানী

        *** এতদিন শুনতাম মওলানা মওদুদীর গোমরাহী ও ভ্রান্ত আকিদার জন্য জামায়াত-বিরোধী ইসলামপন্হী বিশেষ করে কওমী চিন্তা-ধারার উলামারা জামায়াতের বিরোধীতা করেন।***

        কওমীদের যারা মাথায় করে নিয়ে নাচেন উনাদের কাছে দয়া করে সেই রেফারেন্স দিয়েন ভাইজান,আমি সেই দলে পড়ি না।

        কি শুনেছেন সেটা বড় না।আমাদের জানা উচিত আল্লাহ আর রসুল কি বলেছেন সেটা। কোরান এবং সহীহ হাদিস ছাড়া আমি কোন মওলানা মুনশি যারা ধর্ম বেচে খায় তাদের কথা শুনতে বাধ্য না। আমি প্রকৃত আলেম ওলামাদের কাছ থেকেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে বেশি পছন্দ করব।

        যাক এখানে এই বিতর্ক করার ইভভহা নাই। এতে লেখার আলোচনা অপ্রাসংগিক ভাবে দেওবন্দী মাঝহাবী সালাফী এইদিকে চলে যাবে,যেটা কারোরি কাম্য নয় বলেই মনে করি। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।