«

»

এপ্রিল ১১

মুদ্রার দুই পিঠ! (বাংলাদেশের উগ্রবাদী আচরনের দুই দিক)

কয়দিন ধরে কাজের চাপ কম – তাই সুযোগটা কাজে লাগালাম। একটা বই পড়লাম – সাথে সাথে একজনের পাঠানো বাংলায় জেহাদের একটা ওয়েব সাইটের লেখাগুলো পড়লাম আর পড়লাম বাংলাদেশী এথিষ্টদের লেখাগুলোর কিছু অংশ। বইটা চমৎকার – আমেরিকায় মুসলিমদের বসতিস্থাপন থেকে দৈনন্দিন জীবন যাপনের সাথে মুক্ত সমাজের নর্মগুলোর মিথষ্ক্রীয়ার একটা ভাল বর্ননা আছে বইটাতে। বই এর বিষয়বস্তু নিয়ে পরে কোন একসময় আলোচনা করার ইচ্ছা আছে – আজ শুধু নাস্তিকতা এবং জেহাদীদের বিষয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো। 

(১)

আর জেহাদের নামে নাস্তিক-মুরতাদ হত্যার পক্ষের যুক্তগুলোও পড়লাম। বেশ সাবলীল ভাষায় লেখা এবং উদ্দীপকও বটে। যে কোন যুবকের জন্যে যথেষ্ঠ উদ্দীপনার মালমসলা আছে সেই লেখাগুলোতে। বিশেষ করে – জেহাদের ডাক দেওয়ার সাথে সাথে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানের বিষয়টা দেখে সত্যই চমৎকৃত হয়েছি। পুরোটাই জেহাদী ভাষা আর সূত্রগুলো সিলেকটিভ সন্দেহ নেই – যথেষ্ট গবেষনা এবং সতকর্তার সাথে আর্টিকেলগুলো লেখা – তাতে কোরানের সিলেকটিভ আয়াত এবং হাদিসের প্রয়োজনীয় সূত্র দেওয়া আছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে তারা যষেষ্ঠ গভীরতা নিয়েই কথা বলে। অনেক বিষয়ে দ্বিমত করা সুযোগ নেই – যেমন রাষ্ট্রক্ষমতা বা খেলাফতের জন্যে মুসলিমদের করনীয় বিষয়ে তাদের ভাষ্য – পশ্চিমা গনতান্ত্রিক পদ্ধতি ইসলামবিরোধী – ইসলাম কোন ভাবেই ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা (মানে ভোটে দাড়ানো সমর্থণ করে না) – ক্ষমতা আসে আল্লাহ ইচ্ছায় এবং আল্লাহ সুষ্পষ্ট ভাষায় বলেছেন –

 

"তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।" (সুরা আন-নুর আয়াত ৫৫) 

পরিষ্কার যে – শাসন কর্তৃত্ব পাওয়ার একটা পথ – ঈমান এবং আমলুস সালিহার বিষয়টা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য রাখা – আর মুসলিমরা শাসন কর্তৃত্ব থেকে দুরে – যার অর্থ তাঁরা ঈমান এবং আমলের ঘাটতিতে আছে। 

তাদের মতে ইসলামের পাঁচটি রোকনের সাথে সাথে জেহাদও একটা গুরুত্বপূর্ন রোকন। তাই তারা জেহাদকে অস্বীকার না করে কমপক্ষে জেহাদের প্রতি সমর্থন দেবার জন্যে সকল মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছে। 

অবশ্য তাদের ভাষায় জেহাদ হলো – কতল করো। বিশেষ করে মুরতাদের "পরকালের টিকেট" ধরিয়ে দাও। 

পুরো সাইটের লেখাগুলো পড়ার পর একটাই অনুভূতি হবে – তা হলো মোহাম্মদ (সঃ) যে একজন বিনয়ী এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ছিলেন – উনি যে প্রবল ধৈর্য্যের সাথে দিনের পর দিন ইসলামের দাওয়ার দিয়েছেন এবং শত লাঞ্ছনা অত্যাচারের পরও অবলীলায় শত্রুকে ক্ষমা করেছেন – এই সৌন্দর্য্যটা সেখানে পুরোপুরি অনুপন্থিত। আল্লাহ রসুল (সঃ) কে একজন বিনয়ী এবং কোমল হৃদয়ের মানুষ হিসাবে সনদ দিচ্ছেন – 

"আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।" (আলে ইমরান আয়াত ১৫৯) 

আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় – কোরানের প্রতিটি সুরার শুরুতে এবং অসংখ্যবার আল্লাহ "আর রহমান" ও "আর রাহিম" বিষয়টা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন সেই লেখাগুলোতে। সবগুলো লেখাই চরম ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছ এবং কোন ধরনের মধ্যপন্থার সুযোগ নেই। 

তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে – লেখাগুলো বাংলাদেশের প্রচলিত মা্দ্রাসা থেকে পাশ করা কারো লেখা নয় – ভাষা, বাক্যশৈলী এবং শব্দচয়নের মুন্সীয়ানা দেখে বুঝা যায় একটা পরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে – যদিও পুরো বিষয়টার ফলাফল কি – বিজয় অর্জনের সীমারেখা বা লক্ষ্য সম্পর্কে কোন ইংগিতও নেই- অথবা এরা শাসনকর্তৃত্ব  দখল করবে এমন ইংগিত বা পরিকল্পনার কথাও কোথাও উল্লেখ নেই। তাই ধারনা করা সহজ যে – বিশেষ কোন গোষ্ঠী পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশের তরুনদের টার্গেট করেছে – যার ফলাফল ইসলামের প্রতি স্বাভাবিক ভাবে আকৃষ্ট তরুনদের একটা কঠিন বিপদের দিকে টেনে নেওয়া – এবং ইসলামের পক্ষের ভবিষ্যত নেতৃত্ব ধ্বংস করার সাথে সাথে ইসলামকে একটা ধ্বংসাত্বক চেহারায় সমাজে প্রতিষ্ঠা করা যায়। মজার বিষয় হলো – বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডায় যে সকল অভিযোগ তোলা হয় – তার প্রতিটি বিষয়কে এখানে উৎসাহী করা হয়েছে – যা প্রপাগান্ডার প্রতি সমর্থন এবং প্রপাগান্ডাকে সত্য হিসাবে প্রতিষ্টার পদক্ষেপ মনে করা সহজ হয়। 

অবশ্যই ্‌আল্লাহ সর্বজ্ঞ এবং সবচেয়ে জ্ঞানী। 

(২) 

নাস্তিকদের সাথে বিতর্ক করেছি বেশ কয়েক বছর – কিন্তু এখনকার নাস্তিকতা চর্চা দেখে সত্যই হতাম। এরা সম্পূর্ন ইসলাম বিদ্বেষী আর ইসলাম সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানও রাখে না। যে কোন ভাবেই হোক ইসলাম একটা চরম খারাপ তা নিয়ে অগভীর লেখালেখি করে। তাদের লেখা পড়ার পর রাগ হওয়াতো দুরের কথা – যুগপদ হতাশ এবং দুঃখিত হয়েছি। জানি না কেন – কি উদ্দেশ্যে এরা এই কাজ করছে – কিন্তু তারাও যে একটা বৃহত্তর পরিকল্পনার এবং শক্তির অদৃশ্য হাতে বন্দী তা সহজেই অনুমেয়। মজা বিষয় হলো – তাদের লেখাগুলোর সূত্রগুলো হলো নিজেদের লেখার অংশই। কোরান বা হাদিসের কোন সম্পর্ক নেই – বড় জোর এরা দেখছি সমকালীন ঘটনালীর উপরই বেশী গুরুত্ব দেয়। তাদের অভিযোগগুলো সহজেই বাতিল করা যায় এ্ই বলে যে ইসলাম ১৪৫০ বছর কেন এতো হিংস্র হলো না – হঠাৎ বিশ্বের জন্যে ইসলাম হুমকী হলো কিভাবে। 

(৩)

লজ্জার এবং দুঃখের বিষয় হলো – এই দুই দলই একে অপরকে উদাহরন হিসাবে ব্যবহার করে – নিজেদের পক্ষের প্রচারকে উদ্দীপক করার জন্যে এরা পরষ্পরকে বন্ধুই বানিয়ে রেখেছে। এখানেই হলো সতর্কতার বিষয়। নাস্তিক এবং তথাকথিত জেহাদীরা আসলে পরষ্পরের পরিপূরক। এরা একদল আরেকদলের কর্মকান্ডকে নিজেদের পক্ষ ব্যবহার করে। জেহাদীরা নাস্তিক "কোপানো"কে সমর্থণ করে – উৎসাহিত করে – আর নাস্তিকতা তাকে উদাহরন হিসাবে ব্যবহার করে – ইসলামকে হেয় করে – এবং নিজেদের সমর্থণ বাড়ায় – লেখালেখিতে প্রবল ভাবে ইসলাম বিরোধীতা এসে যায় – আর তথাকথিত জেহাদীরা সেই লেখাগুলোকে ব্যবহার করে নাস্তিকদের প্রতি ঘৃনা বাড়ানোর জন্যে প্রচারনা চালায়। 

(৪)

ইতিহাসে দেখা গেছে – কোন মতাদর্শকে ধ্বংস করতে হলে সরাসরি সেই মতাদর্শের বিরুদ্ধে না গিয়ে তার চেয়ে উগ্র মতাদর্শকে সমাজের প্রচার করা এবং বিশেষ করে তরুন সমাজকে সেই দিকে টেনে নিয়ে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে জেনারেশ গ্যাপ তৈরী করা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কথাই যদি ধরি – বামদের চেয়ে অধিকবাম – বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠান ধুয়া তুলে মুক্তিযুদ্ধের কারনে উদ্দীবিত তরুন সমাজকে ধ্বংস করা হয়েছে – একটা বিশাল জেনারেশন ধ্বংস হয়েছে – এর পিছনে যে বৈশ্বিক ঠান্ডা লড়াইয়ের খেলোয়ারগন বিশেষ করে আমেরিকান সিআইএ জড়িত ছিলো তা অনেক পরে জানা গেছে। তাও হয়তো বাংলাদেশের মতো একটা দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে – এই সম্ভবনার কথা মাথায় রেখেই বড় খেলোয়াড়গন কলকাঠি নাড়ছেন।  যখন সমাজতন্ত্র তাদের শত্রু ছিলো তারা ইসলামকে ব্যবহার করেছে সমাজতন্ত্র ঠোকানোর জন্যে – পাশাপাশি সমাজতন্ত্রের আন্দোলনে উগ্রতা ঢুকিয়ে তাকেও বিপথগামী করেছে – ধ্বংস করে তরুনদের একটা প্রজন্মকে। আজ ইসলাম ওদের শত্রু – দৃশ্যত ওর এ্কই খেলা খেলছে – একদিকে নাস্তিকতার চর্চাকে উৎসাহিত করছে (এসাইলেম, আর্থিক সহায়তা এবং প্রকাশ্যে মুক্তবাক চর্চার কথা বলে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে) আর অন্তরালে উগ্রতাকে উস্কে দিচ্ছে "জেহাদ" এর নামে – যাতে একটা তরুন প্রজন্মে ধ্বংস করা যায়। 

 

এখানে একটা কথা বলা জরুরী – যে সাময়িক লাভ-ক্ষতিকে উপেক্ষা করে ঘটনমান বিষয়ে কোরান হাদিসের আলোকে সুষ্পষ্ট অবস্থান গ্রহন করা জরুরী। বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের নাস্তিকতার বিস্তার এবং তাদের উগ্রতার কারনে মানুষ ক্ষুদ্ধ – এবং সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে হয়তো কোন মহল তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসাবে যে কোন কিছু ব্যবহারের কুন্ঠিত হয় না – এরাও হয়তো এই ক্ষোভকে ব্যবহার করতে পারে – এবং তা করার লক্ষনও সুষ্পষ্ট। কিন্তু এই সাময়িক ক্ষোভের প্রশমনের বা উল্লশের কারনের ইসলাম চর্চা এবং প্রচারে কতটা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে – তা সবাইকে ঠান্ডা মাথায় বিবেচনা করতে হবে এবং কোন ধরনের প্রতরনার ফাঁদে (নাস্তিকতা চর্চা বা জেহাদী আহ্বান) তরুন সমাজ যেন পা না দেয় তা সতর্ক ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

 

কারন আল্লাহ নিম্চিত করছেন – 

 

তোমরা কাফেরদেরকে পৃথিবীতে পরাক্রমশালী মনে করো না। তাদের ঠিকানা অগ্নি। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৪:৫৭) 

 Never think that the disbelievers are causing failure [to Allah] upon the earth. Their refuge will be the Fire – and how wretched the destination.

 

 

  সুতরাং হালের নাস্তিকদের কর্মকান্ড দেখে কোন ভাবেই যে আমরা হতাশ না হই – ভয় না পাই এই ভেবে যে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে – আমাদের উৎকন্ঠা আর ভয় থেকে একদল সুযোগ গ্রহন করবে সন্দেহ নেই। আল্লাহ বাংলাদেশের তরুন সমাজকে সব ধরনের ফেতনা থেকে রক্ষা করুন। 

 

৬ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. Abu Saif

    আসসালামু আলাইকুম………… 

    জাযাকাল্লাহ…

    তরুণ সমাজ তো বসে থাকার নয়, তাদের সামনে চলার পথ করে দিতে হবে তো! রাহবারের দয়িত্ব  যাঁদের তাঁরা যদি সমস্যাকে উপেক্ষা করতে থাকেন তবে তরুন সমাজের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশংকাই অধিক!

  2. শামিম

    ভাল বলছেন

  3. গাছের ঝরা পাতা

    খুব সুন্দর লিখেছেন। এই লেখারটি যদি আমাদের হুজুররা বুঝত তাহলে হয়ত তরুন সমাজ কিছুটা বাচত। হুজুররা ওয়াজ করে হাজার টাকা কামাই করেন। কিন্তু ইসলামিক ফেতনাগুলার দিকে খেয়াল নেই। তাদের জন্য এখন ইমান আর আমলের ওয়াজ থেকে ফেতনা গুলার একটু গুরুত দিয়ে ওয়াজ-নসিহত করা।

    1. ৩.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ পড়ার জন্যে এবং মন্তব্যের জন্যে। অবশ্যই হুজুরদের কিছুটা দায় আছে – কিন্তু দায়িত্ব সবার। কারন আমার কর্মের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। 

       

      আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আল্লাহ বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না। (7:38)

      – সুতরাং – দায়িত্ব অন্যের উপর দিয়ে বাঁচার উপায় নেই। 

       

       

  4. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    (33:66)
    যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম।

    (33:67)
    তারা আরও বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।

    (33:68)
    হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।

  5. মাহফুজ

    জী ভাই, ঠিক বলেছেন- উগ্রবাদীতা কিংবা উদাসিনতা, কোনটাই ভাল নয়।

    আস্তিক এবং নাস্তিক, উভয় পক্ষই বিশ্বাসী। তবে আস্তিকরা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন আর নাস্তিকরা বিশ্বাস করেন স্রষ্টার অনস্তিত্বে। একজন প্রকৃত আস্তিক প্রকাশ্যে নিজেকে আস্তিক হিসেবে এবং একজন প্রকৃত নাস্তিক প্রকাশ্যে নিজেকে নাস্তিক হিসেব পরিচয় দিতে লজ্জা বা কুন্ঠাবোধ করেন না। আর কেউ তাকে আস্তিক/ নাস্তিক হিসেবে স্বম্বোধন করলে তিনি বিব্রতও হন না। বরং যাদের বিশ্বাসে ঘাটতি থাকে তারাই হাফ আস্তিক নয়ত হাফ নাস্তিকের ন্যায় আচরণ করে থাকেন এবং বিভ্রান্ত হয়ে উদাসিন ভাবে জীবন কাটান। আর যাদের জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হয়না, সেই সব একচোখা আস্তিক এবং একরোখা নাস্তিকরাই বিবেকহীন, পথভ্রান্ত ও উগ্রবাদী হয়ে ওঠেন। অপরদিকে কোন মানুষ যখন নিরপেক্ষ ও নিরহঙ্কার অন্তরে স্রষ্টাকে চেনার চেষ্টা করেন, তখন তিনি সত্য ও সুন্দরের ঠিকানা খুঁজে পান এবং স্রষ্টার অস্তিত্বে অকুন্ঠ বিশ্বাসী হয়ে ওঠার সাথে সাথে প্রকৃত মানুষ হওয়ার মত যোগ্য হয়ে ওঠেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।