«

»

নভে. ১২

আমেরিকান নির্বাচন এবং প্রাসংগিক কিছু কথা

আমেরিকান নির্বাচন হয়ে গেলো – মিডিয়া আর সুশীল সমাজ আগেই হিলারী ক্লিন্টনকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে রেখেছিলো – এখন তাদের মাথায় আকাশ ভেংগে পড়েছে বলেই হৈ চৈ হচ্ছে। কথা হলো খেলা হলো নিয়মতোই – কিন্তু ফলাফল নিয়ে বিতর্ক করার কতটা যৌক্তিক! যাই হোক – আমেরিকান নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলার জন্যেই এই লেখা – বরঞ্চ সেই দিকেই যাই। 

আমরা যারা বাইরের থেকে নির্বাচন এবং ঘটনাবলী পর্যবেক্ষন করেছি তারা মুলত মিডিয়ার ভার্সানটাই দেখেছি। আর বলাই বাহুল্য বিশ্ব মিডিয়ার অধিকাংশ চালায় তথাকথিত লিবারেল লোকজনই। তাদের কাছে যারা পছন্দের তাদের সাতখুন মাফ আর অপছন্দের হলে সেইটাই ইস্যু হয়ে যায়। নির্বাচনের আগের কয়দিন টরন্টো স্টার দেখলাম – ক্রমাগত ট্রাম্প বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে – তেমনি বাংলাদেশের প্রথম আলো হিলারীকে প্রেসিডেন্টই বানিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু এরা প্রকৃত ভোটারদের ধারে কাছেও নেই। মুলত যারা নর্থ আমেরিকায় থাকেন তারা উপলদ্ধি করতে পারছেন – এখানকার সাধারন মানুষের জীবন ক্রমাগত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আগে আসা সাদা মানুষগুলোর জন্যে জীবন যাপন দিনদিন কঠিন থেক কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে – শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেনীর মানুষ ছাড়া।  আমেরিকার কর্মসংস্থানের মুল জায়গা ম্যানু্ফ্যাকচারিং মুলত তলানীতে ঠেকেছে। প্রথমত নাফটা চুক্তির বদৌলতে মেক্সিকোতে চলে গেলে অধিকাংশ শিল্প কারখানা – আর ডব্লিউটিওর ফলে জাপান আর চীন আমেরিকান বাজার দখল করে ফেলেছে। ফলে শুধুমাত্র আইটি আর সেবামুলক প্রতিষ্টানগুলোই আমেরিকায় চালু আছে। সমস্যা হলো আইটিতে সাদাদের সরিয়ে ইমিগ্রেন্টরা জায়গা নিয়ে গিয়েছে – আর সেবামুলক প্রতিষ্টানের অধিকাংশ শ্রমিক আসে অভিবাসীদের মাধ্য থেকে। ফলাফল সাদারা কঠিন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে এবং ভয়ার্ত হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প শুরুতেই নাফটা এবং ডব্লিউটিও থেকে সরে আসার কথা বলে সেই ভোটারদের কাছে টেনেছে। 

অন্যদিকে হোটাইট সুপ্রিমিস্টরাও কোনঠাসা ছিলো – তাদের কাছে টেনেছে আমেরিকার স্বপ্ন দেখিয়ে। তার উপরের সতিনের ছেলের মতোই ইসলামতো আছেই। প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করা যায় – তাই করা হয়েছে।

ফলাফল ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছে।

(২)

এইগুলোতে গেলো বস্তুগত দৃশ্যমান ঘটনা – কিন্তু যা হবার তাতো নির্ধারিত হয়েই আছে। মানুষ কথনই জানবে না কাল কি হবে – তাই আজকের কাজটাই সঠিক ভাবে করা উচিত। আর ভয় শুধু আল্লাহকেই পাওয়ার কথা।

 “কোন প্রাণীই জানে না যে, আগামী কাল সে কি উপার্জন করবে, না কেউ জানে তার মৃত্যু হবে কোন জমিনে।,,(সূরা লোকমান-৩৪) 

 

কিন্তু লজ্জাজনক ভাবে দেখলাম আমেরিকার মুসলিম সমাজের মাঝে প্রবল অস্থিরতা – তারা আল্লাহ উপর ভরসা করার চেয়ে হিলারীর উপরই মনে হয় বেশী ভরসা করতে চাইছিলো। শুনেছি অনেকে ভোটের দিন মানত রোজা রেখেছে। বিষয়টা খুবই চিন্তার কথা। এই ভাবে না ভেবে মুসলমানদের ধৈর্য্যর সাথে আল্লাহ কাছে নিজেকে সমর্পন করা জরুরী। এর আগেও মুসলিম ভোটাররা দলে দলে জর্জ বুশ জুনিয়ারকে ভোট দিয়েছে লিবারম্যানকে পরাজিত দেখতে – দিনশেষে বুশই হয়ে উঠে মুসলিমদের বড় সমস্যা। তাই বলে বলছি না – ট্রাম্প মুসলিমদের বন্ধু হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিনের একটা প্রক্রিয়ায় মুসলিম এবং ইসলাম এখন পশ্চিমাদের রাজনৈতিক দাবার গুটি হয়ে উঠেছে। হিলারীর সাথে আইসিসের যোগাযোগ এখন আর গোপন কিছু না। তাই বিশ্বের সমস্যার নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে আমাদের নিজেদের দিকেই নজর দেওয়া জরুরী। বিশেষ করে এই সকল ফ্যাতনার কারনে যে আমরা ধৈর্য্য হারা হয়ে ঈমানের রাস্তা থেকে সরে না যাই। 

(৩)

একটা বিষয় না বলে পারছি না। এই নির্বাচনের সাথে বাংলাদেশের মানুষও জড়িত হয়ে পড়েছিলো। বিশেষ করে ড. ইউনুসের হিলারী সংশ্লিষ্টতা আর হিলারীর নির্বাচনী তহবিলে অর্থ প্রদানের ফলে বাংলাদেশের মানুষও এর মাঝে রাজনীতি করা সুযোগ পেয়ে গেলো। বিএনপির কিছু অত্যুৎসাহী লোকজন হিলারী তাদের বন্ধু প্রচারের সচেষ্ট হয়ে উঠলো আর আওয়ামীলীগের লোকজন হিলারীর পরাজয়ে আনন্দ প্রকাশ করলো দেখে ভালই মজা পেয়েছি। কিন্তু এই বাইরেও একটা গুরুত্পূর্ন ঘটনা না বলে পারছি না। ব্রাক্ষনবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর আক্রমনের লজ্জাজনক ঘটনার সাথে আওয়ামীলীগের দলীয়কোন্দল মুল কারন হলেও বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করা কাজটা সবাই মিলে করছে। নাস্তিকরা ইসলামের দোষ বের করছে – বিএনপি আওয়ামীলীগের আর আওয়ামীলীগ বিএনপি জামাতের – মাঝে হেফাযতে ইসলামের নেতারা বলেছে মজার কথা – তারা বলেছেন – সরকারকে বিব্রত করতেই এই হামলা। 

লক্ষনীয় এই হামলার সাথে হিন্দু নেতাদের জড়িত থাকারও অভিযোগ উঠেছে। (লিংক)

খুবই খারাপ লাগলো আবারো আলেম সমাজের নেতৃত্বের দাবীদার হেফাযতে ইসলাম রাজনৈতিক কুটচালে পা দিয়ে ব্যবহূত হলো। হামলার শুরুতে তাদের দিয়ে সমাবেশ করানো হলো – পরে সরকারের পক্ষে তাদের দিয়ে বিবৃত দেওয়ানো হলো। আগে বলেছিলাম – ১৬ কোটির দেশে ৩২ কোটি আওয়ামীলীগ – এখন দেখছি তার চেয়েও বেশী। 

৮ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. শাহবাজ নজরুল

    ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছে, তা সে যেভাবেই হোক। আমেরিকার আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাদাদের এই ক্রম ম্রিয়মান অবস্থান এর সুযোগটা সে ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। দিনে দিনে কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাবার জন্যে সৃষ্ট মানসিক খেদ'কে সে ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। আর যেভাবে বললেন – সৎ ভাই ইসলাম তো আছেই। 

    তবে মৌলিক ট্রাম্প কিরকম, আর সে কিভাবেই বা দেশ চালাবে? আমার মতে ট্রাম্প আদতে একজন ব্যবসায়ী আর পাশাপাশি প্রচন্ড নার্সিসিস্ট। আমি বেশ কিছু সিজন ট্রাম্পের রিয়েলিটি শো এপ্রেন্টিস দেখেছি। সেখানে তাকে মাঝে মধ্যে বেশ প্রাগম্যাটিক'ই মনে হতো। তবে নার্সিসিজম এর আঁচ ওই শো তে পাওয়া যায়।  এর পাশাপাশি আছে মিস ইউনিভার্স এর স্বত্বাধিকার। এটা ভোগবাদী ট্রাম্পকে সামনে নিয়ে আসে। সে হাওয়ার্ড স্টার্নের শোতে বলেছে মেয়েদের সম্পর্কে তার অভিমত। বলেছে কিভাবে সে হঠাৎ করে  অর্ধ-নগ্ন মেয়েদের ড্রেসিং রুমে ঢুকে যেত – মূলত তাদের নগ্ন অবস্থায় দেখতে। সে সবসময় সুন্দরী মেয়েদের প্রতি ফেসিনেটেড ছিল। মেলেনিয়া ছাড়াও প্রথম স্ত্রীও ছিল মডেল। আর বিলি বুশের কাছে সে বলেছে যে সে সুন্দরী মেয়ের প্রতি সব সময়ই আকৃষ্ট। সব মিলিয়ে তাকে আমার নারীলোভী ভোগবাদী ব্যবসায়ী বলে মনে হয়েছে। তার আগাগোড়া মোড়কে ঢাকা। কিন্তু এই আপাদমস্তক নারীলোভী, ভোগবাদী, চার্চে কখনো না যাওয়া ও বাইবেল না পড়া ট্রাম্পকেই আমেরিকার সাদা খ্রিষ্টানরা তাদের দেবতা বলে মেনে নিয়েছে!!! কেমন বোকা ভেবে দেখেন!!!

    তবে মুসলিমদের নিয়ে তেমন কিছুই করতে পারবে না। আমেরিকার নিয়ম অনুসারেই পারবেনা। মুসলিমদের ব্যান করলে তা প্রথম এমেন্ডমেন্টের বিরুদ্ধে যাবে। এমনকি সে মুসলিম ব্যান করার কোনো বিষয় কংগ্রেসে পাশ ও করতে পারবে না। সম্ভব ও না। কোনো আজেবাজে বিল কোনোভাবে পাশ হয়ে গেলেও কোর্টে তা খারিজ হয়ে যাবে। তাই সে আসলে মুসলিম বিদ্বেষ ব্যবহার করেছে ভোট জেতার জন্যে। আমার মনে হয়না সে অন্তরের অন্তস্থলে এমনটা মুসলিম বিদ্বেষী। 

    সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি মুসলিমদের জন্যে ভালো হবে বলেই মনে হয়। মুসলিমের আরো সংঘবদ্ধ হবে – যা পরে কাজে লাগবে। 

    তবে বিশাল কিছু পরিবর্তন হবেনা ট্রাম্পের আগমনে। আর সে দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হতেও পারবে বলে মনে হয়না। 

      

    1. ১.১
      শামস

      ট্রাম্প নিজে ধার্মিক না, কিন্তু তার ব্যাকারদের একটা শক্তিশালী অংশ ইভাঞ্জেলিক্যাল ক্রিস্টিয়ানরা। এরা সিনিয়র বুশ এবং জর্জ বুশ এর উপর ভড় করেছিল। জর্জ বুশ নিজেই ইভাঞ্জেলিক্যাল, কিন্তু সিনিয়র বুশ না। ট্রাম্প ধর্মে যাই হোক, এই ইভাঞ্জেলিক্যাল চক্রটিকে অবজ্ঞা করতে পারবে না। ফলে আমেরিকায় অবস্থানরত মুসলিম এবং আমেরিকার বাইরের মুসলিমদেশগুলোর চিন্তিত হবার কারণ আছে। অপরদিকে ট্রাম্পবিরোধীতার কারণে মুসলিমরা মিডিয়ার সমর্থন পেতে পারে, অথবা বলা যায়, মিডিয়া দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারে। সংখ্যালঘু মুসলিম, ব্ল্যাক এবং অন্যদের যেভাবে মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে হিলারির পিছনে নিয়ে এসেছে সেটা মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর, অবশ্য মুসলিমদের জন্য ট্রাম্প কোন স্পেস রাখে নাই, এমনকি কালোদের জন্যও না!

      মিডিয়ার সাথে ট্রাম্প এর দ্বন্দ্বটা এতো সহজে মিটছে না, গতকাল সে টুইটে আন্দোলনকারীদের মিডিয়ার দ্বারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। আভ্যন্তরীণভাবে যুক্তরাষ্ট্র অস্থির হয়ে থাকছে আপাতত, আর এর রেশ সারা পৃথিবীতেই দেখা যাবে। তার ন্যাশনালিস্টিক মুভগুলো বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হবার সম্ভাবনাই বেশী।

       

       

  2. এস. এম. রায়হান

    হিলারী আর ট্রাম্পের মধ্যে নীতিগতভাবে তেমন কোনো পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। আপাতদৃষ্টিতে তাদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নির্বাচনে জেতার জন্য শ্বেতাঙ্গদের ভোটকে টার্গেট করতে যেয়ে ট্রাম্প লাগামহীনভাবে অনেক কিছু বলে ফেলেছেন। তবে এই নির্বাচনের সুবাদে বেশ বিনুদুনমূলক কিছু নজরে পড়লো। যেমন:

    – বাংলা অন্তর্জালে যারা এতদিন ধরে 'অসাম্প্রদায়িক', 'নারীবাদী', 'এলজিবিটি-প্রেমী', 'মানবতাবাদী', 'বিগ্যানমনস্ক', ইত্যাদি মুখোশের আড়ালে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে, সেই সব ছুপারা আজ মুখোশ খুলে ফেলে ট্রাম্পের বিজয়ে উল্লাশ প্রকাশ করছে!

    – বর্ণমনাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে একমাত্র মুসলিমরাই হিলারীকে ভোট দিয়েছে, আর কেউ দেয়নি! তাছাড়া একমাত্র মুসলিমরাই ট্রাম্পের বিরোধীতা করেছে! আর হিলারী যেহেতু ট্রাম্পের চেয়ে বেশী ভোট পেয়েছেন সেহেতু আমেরিকাতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ! এই কথা শুনে বর্ণমনারা এবার রাগে-ক্ষোভে-হতাশায় মাথার চুল ছিঁড়বে আর নতুন কোনো ফন্দী আঁটবে!

    – নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর বর্ণমনাদের আশা ছিল যে, তাদের মোদী দেবতা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুসলিমদেরকে মেরে-কেটে সৌদী আরব পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু তাদের সেই আশায় গুড়ে বালি পড়েছে! এবার তারা মহাশক্তিধর আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ দেবতাকে নিয়ে একই আশায় বুক বাঁধছে! ভারতে তো অনেক আগেই ট্রাম্প-পূজা শুরু হয়ে গেছে। তাদের এদেশীয় দোসর-দাস'রা সঙ্গত কারণে প্রকাশ্যে ট্রাম্প-পূজা করতে না পারলেও তাদের মনের গোপন বাসনা পুরোপুরি লুকিয়েও রাখতে পারেনি – প্রকাশভঙ্গিটাই শুধু ভিন্ন।

  3. ফাতমী

    "খুবই খারাপ লাগলো আবারো আলেম সমাজের নেতৃত্বের দাবীদার হেফাযতে ইসলাম রাজনৈতিক কুটচালে পা দিয়ে ব্যবহূত হলো। হামলার শুরুতে তাদের দিয়ে সমাবেশ করানো হলো – পরে সরকারের পক্ষে তাদের দিয়ে বিবৃত দেওয়ানো হলো।"-জিয়াউদ্দিন

    অন্য আরেকটা গ্রুপকে ব্যাবহার করে হয়েছে, খুব সম্ভবত।

    1. ৩.১
      শামস

      হেফাজত সেভাবে ছিল না বলে মনে হল, তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার জন্য সহজে ব্যবহৃত হতে পারে, আর হেফাজতের বৃহৎ অংশ রাজনীতি থেকে তুলনামূলকভাবে অন্যদের থেকে দূরে। আর তাদের এই সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার জন্য দায়ী বলে মনে হয়েছে তাদের অজ্ঞতাকে (ধর্মীয় জ্ঞানের বাইরে)। যে দলটি এখানে সক্রিয় ছিল সেটি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত", যাদের মধ্যে আছে মাজারপূজারী, মাইজভান্ডারী এবং আরো কিছু মতবাদের লোক। 

      আপত্তিকর কথা বলেছি প্রমাণিত হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়ব: ছায়েদুল 

      শফীকে ৮০টি বেত্রাঘাত করা উচিত  

      ‘প্রতিবেশী যে ধর্মেরই হোক সকলের অধিকার শরিয়াতে সমান’ 

       

  4. সত্য সন্ধানী

     জিয়া ভাই সালাম। সাদাদের সরিয়ে অভিবাসীরা সব যায়গা নিয়ে নিচ্ছে এটা আগেও পড়েছিলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল কিভাবে তারা এটা করছে? নিশ্চই যোগ্যতার বলেই করছে? তা যোগ্যতা নাকি গায়ের রঙ কোনটা তাদের কাছে আইটি সেকটরে চাকুরি পাবার মাপ কাঠি? যদি অভিবাসীরা যোগ্য হিসাবেই যায়গাটা দখল করে নেয় তবে কিসের জন্য এতে সাদারা খেপে যাবে?

    সাদারা কেন আইটিতে ভাল করতে পারছে না? কি কারন এর? এরা কি এই লাইনে লেখাপড়া বেশি করছে না? না করলে কেন করছে না? বিদেশের খোজ খবর খুব বেশি রাখি না আমি, তাই ব্যাপার টা ঘোলাটে লাগছে।আশা করি বুঝিয়ে বলবেন।

    ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।

  5. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ওয়ালাইকুম আসসালাম, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে। এই বিষয়ে একটা আলাদা লেখা দেওয়ার ইচ্ছা আছে। 

    কিন্তু আমার প্রশ্ন হল কিভাবে তারা এটা করছে? নিশ্চই যোগ্যতার বলেই করছে? তা যোগ্যতা নাকি গায়ের রঙ কোনটা তাদের কাছে আইটি সেকটরে চাকুরি পাবার মাপ কাঠি? যদি অভিবাসীরা যোগ্য হিসাবেই যায়গাটা দখল করে নেয় তবে কিসের জন্য এতে সাদারা খেপে যাবে?

    – কেন খেপবে না বলুন। অভিবাসন শুরু হয়েছিলো মুলত সাদাদের আরাম আয়েশ নিশ্চিত করার জন্যে বিপুল পরিমান শ্রমশক্তি আমদানীর মাধ্যমে – যদি ৬০ দশকের কথা ধরি তখন অভিবাসীরা আসতো – ছোট কাজগুলো করতে – যা মুলত কঠিন শাররীক কাজগুলো। অন্যদিকে কিছু আসতো উ্চ্চশিক্ষার জন্যে – তারা অনেকে থেকে যেতো এবং তারা সাদাদের মতোই জীবনযাপন করতো। 

    আশির দশক থেকে মধ্যবিত্তরা আশা শুরু করেছে – তারা এখন টেকনোলজির জায়গাগুলোতে দখল নিচ্ছে। তারা আসে কঠোর পরিশ্রম করে – বাচ্চাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গড়ে তোলে এবং সফল হয়। অন্যধিকে সাদাদের জীবন ভোগের কারনে বাচ্চাদের সময় দেয় না – ফলে প্রতিযোগিতায় ওরা পিছিয়ে যাচ্ছে। 

    যেমন কানাডার কথাই ধরুন। টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে ককেশিয়ান ছাত্র খুবই কম – মুলত ইমিগ্রেন্টদের ছেলে মেয়ে হাইস্কুলে ভাল রেজাল্‌ট করে ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে সাদাদের উচ্চবিত্ত-ধনিকশ্রেনী তাদের সন্তানদের একটু নিরাপদ দুরত্বে রাখে – প্রাইভেট স্কুলে পড়িয়ে উচ্চখরচের এমবিএ বা বিজনেস স্কুলে পড়ায় এবং নিজেদের ব্যবসার উত্তারাধিকার বানায়। সাদাদের ছেলে মেয়েরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যায় আর কোন টেকনিক্যাল স্কুল থেকে পাশ করে একটা মোটামুটি ট্রেডে ঢুকে পড়ে। 

    দৃশ্যত সাদাদের আধিপত্য কমে যাচ্ছে – যদিও এরা সংখ্যাগুরু। 

    অন্যধিকে চাকুরীর বাজার সংকুচিত হচ্ছে – কারন কল-কারখানা চলে যাচ্ছে এশিয়া বা ল্যাটিন আমেরিকায় সস্তা শ্রমের ব্যবহারের জন্যে। সাদাদের জীবন যাত্রার মানও কমে যাচ্ছে – তাই তারা হতাশ। 

    রাজনীতিবিদরা এখানে অসহায় ব্যবসায়ীদের কাছে্ – পুঁজির মালিকর সবই নিয়ন্ত্রন করে। 

    এবারাই প্রথম ট্রাম্প সাদাদের মনে কথাগুলো প্রকাশ্যে বলেছে – ফলে ভোট পেয়েছে। 

    1. ৫.১
      সত্য সন্ধানী

       জিয়া ভাই সালাম, বুঝিয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ। আসলে শেতাংগরা হয়ত ভবিষ্যতে বুঝবে যে পরিবার প্রথা ধবংস করে, এবং সীমাহীন ভোগ বিলাসে ডুবে থাকার পরিনতি আরো অনেক বেশি খারাপ হতে পারে।

      পরিবারই হল প্রাথমিক শিক্ষাগার, সেটাই যেহেত আমেরিমায় বিলুপ্ত প্রায় ( এমনটাই জানি আমি),বা পরিবার থাকলে বাবা মায়ের ভোগ বাদী স্বার্থপর দর্শন দেখে সন্তানরাও সেটাই শিখবে। এভাবেই চলতে থাকবে পতন, যতদিন না তারা আবার মানুষ হচ্ছে।

      ট্রাম্প কিছু করতে পারবে কিনা এদের জন্য সেটা সময়েই বলে দেবে।

      এই বিষয় আপনার লেখাটা শিজ্ঞির পাব আশা রাখি।

Comments have been disabled.