«

»

ডিসে. ২২

সমস্যা শুধু বিয়েতেই!

বাংলাদেশের একদল মানুষ কোর্ট-টাই পড়ে নিজেদের উদারমনা পশ্চিমা সভ্য হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করে – সেইটা সমস্যা না – সমস্যা হলো ওরা সমাজের উচুঁস্তরে বিচরনের কারনে সমাজের সকল নীতি-নৈতিকতার নিয়ন্ত্রন নিতে চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়। এরা সাধারনত রাজনীতি থেকে দুরে থাকে কিন্তু নিজেদের শক্ত অবস্থানের কারনে রাজনীতিবিদদে প্রভাবিত করে নিজেদের মতো করে দেশের ্আইন কানুনগুলো তৈরী করে নেয়। অনেক সময় সাধারন মানুষ সেই আইনগুলো বুঝে না বা গুরুত্ব দেয়না। যেমন বাংলাদেশের মাদক আইন। প্রচলিত ভাষায় সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজ নিজেদের মদ্যপানের সুবিধার জন্যে ইসলামী শরিয়াকে পাশ কাটিয়ে একটা আইন তৈরী করে রেখেছে। তেমনি সম্পত্তি বন্টন আইন করার জন্যে ফখরুদ্দীন সরকারের সময় সুশীল সমাজ দারুন ভাবে তৎপর ছিলো। কিন্তু রাজনীতিবিদরা সেই দিকে যায়নি – বিশেষ করে আওয়ামীলীগের নেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া "কোরান সুন্নাহ বিরোধী" আইন করা হবে না"র কারনে আজও ওরা সফল হতে পারেনি। 

যাই হোক – আসল প্রসংগে আসি। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সংসদ বাল্য বিবাহ বিরোধী আইন পাশ করেছে। বলা দরকার যে বাল্যবিবাহ বা পাত্র-পাত্রীর প্রাপ্ত বয়ষ্ক না হওয়া পর্যন্ত কোন বিয়েই ইসলাম সমর্থন করে না। এই ক্ষেত্রে ইসলামবিদ্বেষীরা কিছু উদাহরন দিয়ে ইসলামকে বাল্য বিবাহের কারন হিসাবে দাঁড় করিয়ে ফেলে এবং তাকে প্রতিহত করা একটা বিপ্লবী মনোভাব নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে বিদেশী অর্থে চালিত কিছু এনজিও তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এই বিল যেন পাশ না হয়। বাইরে থেকে নানান সংস্থা দিয়ে বিবৃত দেওয়ার মতো ঘটনাও দেখেছি। 

আসলে কি আছে সেই বিলে?

আগে যা ছিলো তাই – বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ মেয়েদের ক্ষেত্রে। ছেলেদের বিয়ের বষয় নিয়ে কোন সমস্য নেই। এইটা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। এই ক্ষেত্রে মেয়েদের কম বয়সের বিয়ের কারনে সন্তান জন্ম দেওয়া আর তার থেকে জটিলতা নিয়ে এনজিও গুলো মাঠে নেমেছে দেখলাম। যত ভাবে সম্ভব এই বিয়ে নিয়ে ওরা নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। টিভিতে ব্যয়বহুল এড প্রচার থেকে শুরু করে টকশো আর কলাম লেখে জনতম তৈরী চেষ্টা করছে। তাদের আরেকটা পয়েন্ট হলো – কম বয়সে বিয়ে হলে গর্ভধারনে জটিলতা তৈরী হয় এবং তাতে মায়ের মৃত্যু আশংকা থাকে। 

বাংলাদেশের সুশীল সমাজ "বিয়ের বয়স" নিয়ে যা করছে পশ্চিমা দেশগুলো তাকে আসলে বলে "Ages of Consent" এই এইজ লিমিটটা আসলে দেওয়া হয় যাতে অল্প বয়সের মেয়েদের পর্ণগ্রাফী আর দেহব্যবসার থেকে রক্ষা করা যায়। পশ্চিমে বিয়ে করা একটা ব্যয়বহুল বিষয় বলে সহজে বিয়ে করার বিষয়টা আসে না। প্রকৃতপক্ষে সমাজের মৌলিক কাঠামো পরিবার – এই ধারনা থেকে সরে পশ্চিমা সমাজ হয়ে গেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজ। যা সাথে বাংলাদেশের সমাজের কোন মিল নেই। সুশীল সমাজের চাপ আর ভোগবাদের বিস্তারের কারনে বাংলাদেশও এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজের দিকে এগুচ্ছে – যা ফলে শিশু, বয়োবৃদ্ধ আর ডিজএবলরা সবচয়ে কঠিন সময়ের মাঝে পড়ে যাবে। পরিবার ভিত্তিক সমাজে টিকিয়ে রাখার জন্যে বিবাহ নামক সামজিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্টানটি জরুরী।

এবার দেখা যাক সুশীল সমাজের নারীর স্বাস্থ্য বিষয় মিথের পিছনে কি আছে। 

বাংলাদেশে বিয়ের বয়স ১৮ হওয়ার কারনে কি গর্ভধারন বা গর্ভধারন সংক্রান্ত জটিলতা বা মৃত্যুর উপর কোন প্রভাব পড়ছে? দেখা যাক নীচের পরিসংখ্যাগুলো: 

"বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৭ লক্ষ এরশান হয় – যাতে ১৮ বছরে নীচের মেয়েদের হার অনেক বেশী"। 

যারা একটু চোখকান খোলা রাখেন – তারা জানেন যে ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গঁজিয়ে উঠা "এমআর ক্লিনিকগুলো" আসলে কি করে। গ্রাম-গঞ্জ থেকে অবৈধ এবরশান করার জন্যে দলে দলে অবিবাহিত মেয়েরা আসে – যার পরিসংখ্যান আমরা জানি না। অন্যদিকে গ্রামে হাঁতুরে পদ্ধতিতে এবরশান করানো প্রচলন বহু পুরোনো। কিন্তু সুশীল সমাজের কাছে ভ্রুণহত্যা আর অবৈধ সম্পর্ক বিষয়টা কোন সমস্যা না। 

সাম্প্রতিক পাশ হওয়া বিলটি এই এবরশানগুলো বন্ধ করার একটা সুযোগ তৈরী হয়েছে – কিন্তু কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য আর পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অর্থ নিয়ে এনজিও চালানোর বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হবে – এমন আ্‌ইন মানবে কেন ওরা!

আর যারা বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমানোর বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানে আছন তাদের জন্যে জানা দরকার যে – বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন দেশ তাদের সামাজিজ অবস্থানের বিবেচনায় এই বষয় ১২ থেকে ২১ এ নির্ধারন করে রেখেছে। যেমন নাইজেরিয়া এই বষয় ১২ আর বাহরাইনে ২১; অন্যদিকে কানাডা ১৬ করার চিন্তা করছে। 

শেষ কথা হলো – বিয়ের বয়সের সীমারেখা দিয়ে যুবক-যুবতীতের অবৈধ সম্পর্ক তৈরী এবং তা থেকে গর্ভধারন করা – ফলাফল হিসাবে বছরে লক্ষ লক্ষ ভ্রুণ হত্যার অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে সাম্প্রতিক পাশ হওয়া বিলটিতে একটা সুবিধা দেওয়া আছে। বর্তমান সরকার – বিশেষ করে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে এই জন্যে সাধুবাদ জানানো দরকার যে – উনি সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে একটা কঠোর অবস্থান নিয়ে বিলে এই সুযোগটা রেখেছেন। আশা করা যায় এতে বাংলাদেশে কিছু হলেও নিশ্পাপ শিশু হত্যা বন্ধ হবে। 

৫ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. ফাতমী

    বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

  2. মাহফুজ

    সময়োপযোগী লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
    সেই ২০১১ ইং থেকেই এ বিষয়ে মতামত প্রকাশের প্রয়াশ চালিয়ে যাচ্ছি- 21) No more child marriage / বাল্যবিয়ে আর নয়; উপযুক্ত সময়েই বিয়ে হোক
    লিংক- https://sites.google.com/site/everlastingheavenlylight/middle-way-is-the-best-madhyapantha-i-uttama/21-no-more-child-marriage-balyabiye-ara-naya-upayukta-samaye-i-biye-hoka

    আপনি বলেছেন- //প্রচলিত ভাষায় সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজ নিজেদের মদ্যপানের সুবিধার জন্যে ইসলামী শরিয়াকে পাশ কাটিয়ে একটা আইন তৈরী করে রেখেছে।//
    ইসলামী শরিয়াকে পাশ কাটিয়ে আইন তৈরী করার দায়টাি শুধু সুশীল বাবুদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েই কি পার পাওয়া যাবে?

    আপনি বলেছেন- //বাংলাদেশের একদল মানুষ কোর্ট-টাই পড়ে নিজেদের উদারমনা পশ্চিমা সভ্য হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করে – সেইটা সমস্যা না – সমস্যা হলো ওরা সমাজের উচুঁস্তরে বিচরনের কারনে সমাজের সকল নীতি-নৈতিকতার নিয়ন্ত্রন নিতে চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়। এরা সাধারনত রাজনীতি থেকে দুরে থাকে কিন্তু নিজেদের শক্ত অবস্থানের কারনে রাজনীতিবিদদে প্রভাবিত করে নিজেদের মতো করে দেশের ্আইন কানুনগুলো তৈরী করে নেয়।//
    তারমানে আপনার মতে এ দেশের রাজনীতিবিদরা কোট-টাই পরা বাবুদের দ্বারা প্রভাবিত এমনকি পরিচালিতও হচ্ছেন- যা খুবই দুঃখজনক! এই রাজনীতিবিদরা কারা? দেশে আইনমন্ত্রণালয়ও কি কোট-টাই পরা বাবুদের প্রভাব বলয় থেকে মুক্ত নয়?

    আপনি বলেছেন- //বর্তমান সরকার – বিশেষ করে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে এই জন্যে সাধুবাদ জানানো দরকার যে – উনি সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে একটা কঠোর অবস্থান নিয়ে বিলে এই সুযোগটা রেখেছেন। আশা করা যায় এতে বাংলাদেশে কিছু হলেও নিশ্পাপ শিশু হত্যা বন্ধ হবে।//
    এই বিলটির মাধ্যমে যদি নিশ্পাপ শিশু হত্যা কিছুটা হলেও বন্ধ হয়, তা নিশ্চয় মন্দ নয়। এই ভাল কাজটির জন্য অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু তারপরও কি এবরশনের মাধ্যমে নিশ্পাপ শিশু হত্যা বন্ধ হবে? ক্ষেত্র বিশেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এবরশন করানোর প্রয়োজন হতেই পারে। কিন্তু যেভাবে যত্রতত্র এবরশন চলছে তা কি নিষিদ্ধ করার মত কোন আইন আছে/ হয়েছে? নিষ্পাপ শিশু হত্য যদি পাপ হয়, তাহলে তো বিবাহিতদের বেলাতেও তা পাপ। সুতরাং সত্যিই যদি নিশ্পাপ শিশু হত্যা বন্ধ করতে চান, তাহলে তো এ ব্যাপারে স্পষ্ট নীতিমালা ও আইন থাকা দরকার।
    ধন্যবাদ-

  3. এস. এম. রায়হান

    ইসলামে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের নির্দিষ্ট কোনো বয়স-সীমা উল্লেখ নেই। কাজেই এ বিষয়ে মুসলিমদের অবস্থান ওপেন থাকা উচিত। মাত্র কয়েক দশক আগ পর্যন্তও যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের কোনো বয়স-সীমা নির্ধারণ করা ছিল না। ভারতীয় উপমহাদেশের মতো সেখানেও অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হতো। আজ যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে ১৮ বছরকে বেদবাক্য হিসেবে মানা হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে শিথিলতা আছে। আজ থেকে কয়েক দশক পর তারা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে নাকি বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ২৫-শে উন্নীত করবে, কে জানে!

    অথচ বঙ্গাল মূর্তিমনারা ‘১৮ বছর’কে ‘বেদবাক্য’ ধরে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে এই বলে যে, প্রধানমন্ত্রী শিশু ধর্ষণকে উৎসাহিত করেছেন! চিন্তা করে দেখুন- প্রধানমন্ত্রী শিশু ধর্ষণকে উৎসাহিত করছেন, আর মূর্তিমনারা শিশুদের ‘রক্ষাকর্তা’ সেজেছে!

    মূর্তিমনাদের ‘বৈগ্যানিক যুক্তি’ অনুযায়ী ১৮ বছরের একদিন কম হওয়া মানেই শিশু! কাজেই ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে করা মানে ‘শিশু-ধর্ষণ’! কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ২২ বছর বয়সে ১০-১১ বছর বয়সের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, এজন্য তারা রবীন্দ্রনাথকে ভুলেও কখনো ধর্ষক বলে না। বরঞ্চ তারা রবীন্দ্রনাথকে এক প্রকার পূজা করে। মহাত্মা গান্ধীও ১৩ বছর বয়সে ১৪ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন – মানে দু’জনেই শিশু! এই বিয়ে নিয়েও মূর্তিমনারা কিছু বলে না। এমনকি মনুসংহিতা অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স ৬ বা ৮ থেকে শুরু। অথচ মূর্তিমনারা ভুলেও কখনো মনুর বিরুদ্ধে শিশু-ধর্ষণকে উৎসাহিত করার জন্য অভিযোগ করেনি। মূর্তিমনাদের কাছে রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধী ধর্ষক কি-না, সেটা তারা আগে ঠিক করুক। তারপর তাদের বাপ-দাদা কিংবা কোনো পূর্ব-পুরুষ ধর্ষক ছিল কি-না, সেটাও প্রমাণ-সহ বলুক। তারপর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণকে উৎসাহিত করার অভিযোগ করুক। কিন্তু সেই সৎ-সাহস মূর্তিমনাদের কোনো কালে ছিল না, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও হবে না।

    1. ৩.১
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @ রায়হান – যেখানে ইসলাম – সেখানেই তারা বিরোধিতা করবে – এ্টাইতো স্বাভাবিক।

  4. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @মাহফুজ:

    কিন্তু তারপরও কি এবরশনের মাধ্যমে নিশ্পাপ শিশু হত্যা বন্ধ হবে?

    >> না, হবে না। তবে এই আইনের সুবাদে যদি কেউ চায় এবরশান না করে সন্তান রেখে দিতে (বিশেষ করে ১৮ বছরের নীচে) তবে তা সম্ভব হবে।

    কিন্তু যেভাবে যত্রতত্র এবরশন চলছে তা কি নিষিদ্ধ করার মত কোন আইন আছে/ হয়েছে?

    >> বাংলাদেশ পেনাল কোডে এবরশান নিষিদ্ধ করে দেওয়া আছে – যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। আবার ১৯৭৮ সালে আরেকটা আইন করে আর্লি এবরশান (যা এমআর নামে প্রচলিত) তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশে বিদেশী এনজিও (বিশেষ করে খ্রীষ্টান মিশনারীদের এনজিও গুলো) এবরশান করার ক্লিনিকগুলো চালায় – অন্যদিকে অবৈধ ক্লিনিকের সংখ্যাই বেশী।

    ধন্যবাদ।

Comments have been disabled.