«

»

এপ্রিল ১২

আবারো “হেফাযতে ইসলাম” – তবে ভিন্ন মঞ্চে!

(সূত্র – বিডিনিউজ২৪. কম) 

একটা পুরোনো পোষ্টের মন্তব্য দিয়ে শুরু করতে চাই। কারন হেফাযত এর বিষয়ে আমার অবস্থানের কারনে সদলাপের অরেক পাঠক-লেখকের বিরাগ ভাজন হয়েছি – কিন্তু আমি আমার অবস্থান থেকে সরে যাইনি – সরেছে হেফাডত নিজেই। সেই কঠিন সময়গুলোতে কোন ভাবেই মানতে পারছিলাম না – ইসলাম রক্ষার নামে একদল সহজ সরল মানুষের কাঁধে পাড়া দিয়ে আরেকদল সুবিধা আদায় করবে। অবশ্যই সবার রাজনৈতিক দর্শন থাকবে – পছন্দ অপছন্দ থাকবে – কিন্তু ইসলাম রক্ষার নাম করে কোমলমতি মাদ্রাসার ছাত্রদের জীবনকে সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতার হিসাব নিকাশ হবে – তা মানতে পারিনি। অবশেষে হেফাযতের নেতৃবৃন্দও বিষয়টা উপলদ্ধি করেছেন বলেই মনে করছি। 

হেফাযতের আন্দোলন নিয়ে আমার অবস্থান এবং প্রাসঙ্গিক পোস্ট সম্পর্কে বক্তব্য, যাই হোক আলোচ্য পোষ্টের একটা মন্তব্য ছিলো – 
নীরব সাক্ষী
(জুলাই ৩, ২০১৩ at ৭:৫৩ অপরাহ্ন)

বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে হেফাজতের ১৩ দফার কি হবে? 

১৩ দফার সবগুলো দফা কখনো বাস্তবায়ন হবে না, রাজনৈতিকভাবে। তবে ইসলাম বিদ্বেষীদের অন্তর আত্না শুকিয়ে যাবে, যদি হেফাজতের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় যায়।

আর যদি লীগ আবার পরের টার্মে ক্ষমতায় থাকে, তবে  লীগ দেশের আলেম ওলামে নিঃশেষ করার মিশনে নামবে। ধর্ম পালন করা রাশিয়ার কমিউনিষ্ট শাসন আমলের মত কঠিন হবে। তাই এবারের নিররাচন আস্তিক-নাস্তিকদের জয়-প্রাজয় ইস্যু।

উত্তরে – আহমেদ শরীফ
(জুলাই ৩, ২০১৩ at ৮:০৪ অপরাহ্ন)    

আর যদি লীগ আবার পরের টার্মে ক্ষমতায় থাকে, তবে  লীগ দেশের আলেম ওলামে নিঃশেষ করার মিশনে নামবে। ধর্ম পালন করা রাশিয়ার কমিউনিষ্ট শাসন আমলের মত কঠিন হবে।

খুব সংক্ষেপে আসল কথাটা বলে দিয়েছেন।

বলাই বাহুল্য আজকে মিডিয়াতে আসা খবর আর ছবি নিশ্চয় আমার বন্ধুদের আশংকাকে মিথ্যা প্রমান করলো। আমি আরো বলছিলাম তথাকথিত ২০ দলীয় জোটের কমপক্ষে চারটা দল হেফাযতের ভিতরে কাজ করছে – যারা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে হেফাযতকে কাজে লাগাচ্ছে। তা প্রমানিত হয়েছে – সেই দলগুলো বিশদল থেকে চলে গেছে – কিন্তু কিছু নেতা সেখানে রয়ে গেছে – বলাই বাহুল্য – তাদের ভূমিকা কি ছিলো তা হেফাযতের নেতাকর্মীদের ভাল ভাবেই জানা। 

অবশেষে হেফাযত আলোচনার পথে এগুচ্ছে – সেইটাই আসল কথা। এই সুযোগে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হউক – যাতে কওমী থেকে পাশ করে পরান্নভোগী আর মেরুদন্ডহীন একদল তথাকথিত ইমাম তৈরী না হয় – যারা সামান্য ইমাম বা মুয়াজ্জিনের চাকুরীর স্বার্থে সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষগুলোর অনুগত দাস হিসাবে সমাজে বাস করেন। অবশ্যই দ্বীনের শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের সবচেয়ে সন্মানিত ব্যক্তি হবেন – কিন্তু অন্নউপার্জনের জন্যে ভিক্ষা আর দানের উপর নির্ভরশীল মানুষ কখনই সন্মানিত হতে পারেন না – তাই তাদের নিজের উপার্জনের মতো শিক্ষা নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরী। আশা করি বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা আর হেফাযতের নেতাদের সুবুদ্ধির সন্মিলনে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার একটা নতুন যুগের সূচনা হবে – যেখান থেকে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বি মানুষ বের হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে। 
 

৭ মন্তব্য

এক লাফে মন্তব্যের ঘরে

  1. এস. এম. রায়হান

    এজন্যই বলা হয় – রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

  2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ রায়হান – এই কথাটাই বলছিলাম সেই সময়। কিন্তু আমার কথা পছন্দ হয়নি আমার বন্ধুদের। কি আর করা – কাঙালের কথা বাসি হলেই ফলে – এই সত্য আবারও প্রমানিত হলো আর কি।

  3. মজলুম

    মূল বিষয় হলো আওয়ামিলীগ বুঝতে পারেছে হেফাজত হলো একটা ঘুমন্ত দানব এবং ইসলাম বিদ্বেষীরা তাদের জাগিয়ে তুলেছে। বিএনপি-জামাত না হেফাজতই হবে আওয়ামিলীগের আসল বিরোধী দল। ৫ ই মের পরে দুইটা সিটি নির্বাচনে হেফাজতের প্রচারনায় আওয়ামীলীগ গো হারা হারে। আর হেফাজত ও বুঝতে পারছে উস্কানি মূলক বক্তব্য দিয়ে সরকার হঠানো যায় না, তার চেয়ে বরং সরকারকে চাপে রেখে যতটুকু দাবী আদায় করা যায়। এখন দুই গ্রুপই উইন উইন সিটুয়েশানে আছে। আরো কিছু বিষয় হলো যেমন, হেফাজত রাজনিতী বুঝেনা, না বুঝেই এরা আন্দোলনে নেমেছে। রাজনিতী হলো একটা ক্লাসিক হিপোক্রেসী আর কূট কৌশলের নাম। হেফাজত তাই ৫ ই মেতে পরাজিত হয়েছে দৃশ্যত, কিন্তু ৫ ই মের পরে আজ পর্যন্ত যা দেখছেন সবই হেফাজত এফেক্টসস। এই যেমন শাহবাগীদের পশ্রয় না দেওয়া, বই গুলো আগের সংস্করনে ফিরে যাওয়া, কওমী স্বীকৃতি ও মূর্তি সরানোর আশ্বাস।

    আওয়ামিলীগ অভ্যন্তরীন গোয়েন্দা রিপোর্টেও দেখেছে এই সেক্যুলার বাম পন্হি এবং ইসলাম বিদ্বেষীরা নির্বাচনে দাড়ালে জামানত ও হারাবে, মিছিল মিটিংয়ে ১০ জন লোক ও জড়ো করতে পারেনা যদিও উনারা ঘ্যানর গ্যানর মার্কা বিশাল আর্টিক্যাল লিখতে পারে, কিন্তু সেই আর্টিক্যাল এই দেশের মানুষ খায় না।

    এই দেশে ইসলাম ধর্ম মুসলিমদের মধ্যে ওয়েল এমবেডেড। এই দেশের মুসলিমরা পাপী এবং গোনাহগার হলেও আল্লাহ ও রাসুলল(সঃ) কে গালাগালি করা লোকদের কখনোই মেনে নিবে না। এবং শাহবাগীদের জন্যে আওয়ামিলীগের ব্যাপক ইমেজ সংকটে পড়েছে দেশজুড়ে। আওয়ামীলীগ বুঝতে পেরেছে কোনটা তার জন্যে ভালো এবং কোনটা খারাপ।

    মিডিয়া সবসময় এই ইসলাম বিদ্বেষীদের “বিজ্ঞান লেখক” ও “ধর্মীয় গোড়ামীর” বিরুদ্বে লেখ বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। সবচেয়ে মজা লেগেছে গত বছরের ঠিক এই দিনে মানে ১৩ ই এপ্রিল হাসিনা যখন সংবাদ বলেছে ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্বে। উনি বলেছেন, এখন একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে, ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই তারা হয়ে গেল মুক্তচিন্তার। আমি তো এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এখানে দেখি নোংরামি, পর্ন। এত নোংরা নোংরা লেখা কেন লিখবে? যাকে আমি নবী মানি, তাঁর সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে, সেটা কখনো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না।

    সেটা দেখার পর ভাবলাম এখন হয়তো মূলধারার মিডিয়ার শুভ বুদ্বির উদয় হবে। ইসলাম বিদ্বেষীদের ধর্মবিরোধী হলেও বলবে। না তা হয়নি, ওরা এখনো সেই আগের জাবর কেটে যাচ্ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে বেশীরভাগ মানুষ এখন কানেকটেড। মিডিয়া কি খবর ছাপালো, কোনটা গোপন করলো তা সবাই জানে এবং বুঝে। প্রথম আলো দেখি আদাজল খেয়ে নেমেছে। শুধু আজকেই ৬ টার উপর খবর করেছে যে দেশ শেষ হয়ে গেলো, সব হেফাজতকে দিয়ে দিলো। শাহরীয়ার কবীর, মেনন, ইনু, মুনতাসীর মামুন, সেলিনাদের প্লাটফর্ম দিচ্ছে খুব জোরালোভাবে প্রথম আলো।

  4. শামস

    @মজলুম:

    <>

    অনেকটাই একমত।
    তবে হেফাজত এর প্রচারনার কারণে গো-হারা হারছে সেটা হয়তো পুরোপুরি ঠিক না. তবে হেফাজত ফ্যাক্টর একটা বড়ো ভূমিকা রেখেছিল। দেশের কতজন মানুষ আল্লামা শফি বা হেফাজতের সমর্থক জানি না, তবে ধরা যাক তারা একক রাজনৈতিক দল হিসেবে এখন নির্বাচন করলে, আমার ধারণা আর দশটা ইসলামী দলের মতো অবস্থা হবে. কিন্তু মূল ফ্যাক্টর হল, আমাদের দেশে সাধারণ জনগণ হুজুরদের এখনো অনেক সন্মান করে, বিশেষত গ্রামে, উপ-শহর এমনকি শহরগুলোতেও। তারা কোন হুজুরকে সেভাবে সমর্থন করতে নাও পারে, কিন্তু হুজুরদেরকে কেউ [যেটা শাহবাগিরা করছিল বা কোন রাজনৈতিক দল যেটা লীগের মূলত সেক্যুলার অংশটা যারা আবার নীতিনির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে তারা করেছিল, সাথে ছিল মন্ত্রী এমপি ও আরও অনেকে] অসম্মান করলে সেটা বেশিরভাগ মানুষ ভালো চোখে দেখবে না. আমার কাছে মনে হয় হিসাবটা এতই পরিষ্কার।

    শাহবাগিদের শুরু করা আন্দোলন বাংলাদেশকে অনেক পরিবর্তন করে দিয়েছে, এ পরিবর্তনে তাদের যতটুকু না ক্রেডিট তার চেয়ে বেশি ক্রেডিট হেফাজতের এন্টি-শাহবাগী আন্দোলন, কোনটা ভালো কোনটা মন্দ এখানে আলোচ্য বিষয় না। এর সাথে কিছুটা সাদৃশ্য আছে ১৯৭৯ এর ‘মক্কার অবরোধ’ এর. অবরোধকারীদের নেতাসহ অবরোধকারীরা মারা গেলেও সৌদি এবং মুসলিম বিশ্বে তারা একটা দীর্ঘমেয়াদী ছাপ রেখে গেছে। বাংলাদেশেও হেফাজত ও শাহবাগিদের ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায় সেটা দেখার বিষয়!

    তবে সম্পর্কযুক্ত প্রতিটি ঘটনাকেই মার্ক করে রাখা দরকার!

  5. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    বাংলাদেশেও হেফাজত ও শাহবাগিদের ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায় সেটা দেখার বিষয়!

    >>> বিষয়টা আস্তিক বনান নাস্তিক বলাই যৌক্তিক। আর কোরানের ভাষায় মুমিন ছাড়া সবাই একদল। তারই প্রতিফল দেখি বাস্তবে। বাংলাদেশের সমীকরনে অনেক উপাদান যোগ হয়েছে – অনেক পরিবর্তণও দেখছি। সর্বশেষ সৌদি খতিবদের সফর – সরকারী মেহমান হয়ে সন্মেলনে যোগদান ইত্যাদি সমীকরন পরিবর্তনের একটা উদাহরন। আগামীতে আরো অনেক কিছু দেখার আশা করছি।

    প্রকৃতপক্ষে ভুরাজনৈতিক সমীকরনের নতুন সংযোজন ও বিয়োজনের ধারায় বর্তমান সরকার লাভবান – সৌদি আরবের মিত্রদের তালিকা থেকে পাকিস্তানের বিদায় আওয়ামীরীগকে অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে আগের মতো নাস্তিকরা সুবিধা করতে পারবে না বলেই বিশ্বাস করছি। তেমনি উগ্রবাদও চলবে না বাংলাদেশে।

  6. সুজন সালেহীন

    বাংলাদেশের সবচেয়ে ধূর্ত রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা। তিনি জানেন কিভাবে কি করিতে হয়!

  7. এস. এম. রায়হান

    এই ছবিটা ভূমিকম্পের মতো সব কিছু উলট-পালট করে দিয়েছে! যেমন:

    – আওয়ামী লীগের ব্যাপারে হেফাজত-কওমী’পন্থীরা ভিন্ন/নরম সুরে কথা বলছে!

    – মাওলানা শফীকে আগে শুধু নাস্তিক ও ইসলাম-বিদ্বেষীরাই ‘তেঁতুল হুজুর’ বলতো। কিন্তু এই ছবিটা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে জামায়াত-শিবিরের ব্লগাররা! সাথে যোগ দিয়েছে বিএনপি-র ব্লগাররাও! একেই বলে রাজনীতি!

    – আওয়ামী লীগের ধর্মহীন সেক্যুলাররা এতবড় লজ্জাস্কর অবস্থার মধ্যে আর কখনো পড়েনি!

    – মোদিস্তানী ভাদারা ‘জাত গেল’ ‘জাত গেল’ করছে! অথচ একই সময়ে বিজেপি-আরএসএস মৌলবাদী ও গুজরাট হত্যাকান্ডের রক্ত হাতে লেগে থাকা নরেন্দ্র মোদির সাথে শেখ হাসিনার ছবি দেখে তাদের জাত যায়নি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।